আজকের খবর
ভাগ্য খুলেছে চয়নের, প্রেমের টানে জার্মান তরুনী এসেছে গোপালগঞ্জে
বিদেশী সুন্দরীদের যেন চুম্বকের মতো আকর্ষন করছে বাংলাদেশের তরুনরা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার গোপালগঞ্জে ছুটে এলেন জার্মান তরুণী।
এশিয়া কিংবা ইউরোপ, আমেরিকা! সব দেশের সুন্দরীদের কাছেই, বাংলাদেশের তরুনরা এখন পছন্দের শীর্ষে!
আর তাই প্রেমের টানে ছুটে আসার ঘটনা, নিত্যদিনের খবরে পরিনত হয়েছে। এবার প্রেমের টানে জার্মান তরুণী জেনিফার স্ট্রায়াস ছুটে এসেছে, গোপালগঞ্জের চয়ন ইসলামের কাছে।
ইতিমধ্যে বিয়ের কাজও সেরে ফেলেছেন এ প্রেমিক জুটি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জের একটি আদালতে, এফিডেভিটের মাধ্যমে জেনিফার স্ট্রায়াস ও চয়ন ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবারজুড়ে বইছে খুশির বন্যা। ভিনদেশি বউ পেয়ে ভিষণ খুশি চয়নের পরিবার। জেনিফারের পরিবারের পক্ষ থেকেও ছিলো না কোনো বাঁধা।
তাদের বিয়েতে জমকালো কোনো আয়োজন দেখা না গেলেও, একটু ভিন্ন সাজে দেখা মিলেছে নববধুর। বসন্তের প্রথম ক্ষণেই বিয়ের মাধ্যমে তাদের ভালবাসা পূর্ণতা পায়।
আর এ কারণেই নববধুর মাথায় শোভা পেয়েছে ফুলের মুকুট। সাথে বাসন্তী রঙা শাড়িতে তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি একজন ভিনদেশী নারী।
তবে চয়ন ইসলামকে দেখা গেছে সচরাচর বাঙ্গালী বরের বেশেই। বিয়ের সময় শেওরানী এবং পাগড়ি পরেছিলেন তিনি।
এরইমধ্যে দেশী ছেলে, বিদেশি মেয়ে বিয়ে করায় হৈচৈ পড়েছে পুরো এলাকায়। অনেকেই জার্মান বউকে এক নজর দেখতে, চয়নের বাড়িতে ছুটে আসছেন দূর দূরান্ত থেকে।
জেনিফার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান। সেখানে প্রেমিক ও স্বজনরা তাঁকে স্বাগত জানান।
পরবর্তীতে তারা জেনিফারকে নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরে চলে যান। নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পরে, চয়নের স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় জেনিফারকে।
চয়নের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার জোতকুরা গ্রামে। অতি সাধারণ পরিবারের ছেলে হয়েও, কি করে এক জার্মান তরুনীর সাথে প্রেমে জড়ালেন, এ নিয়ে কৌতুহলের কমতি নেই মানুষের মনে।
মূলত, চয়নের বাবা রবিউল ইসলাম একজন ইতালি প্রবাসী। সেই সুবাদে মাত্র নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ইতালিতে পাড়ি জমান তিনি। এরপর ২০১৬ সালে সেখান থেকে চলে যান জার্মানিতে।
প্রায় পাঁচ বছর আগে, জার্মান ভাষা শিখতে একটি শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকেই পরিচয় হয় জেনিফারের সঙ্গে। আর সেই পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে প্রেম শুরু হয়।
কিন্তু ২০২২ সালের মার্চ মাসে হঠাৎ করেই বাংলাদেশে চলে আসে চয়ন। জানা যায়, তিনি যে কোম্পানিতে চাকুরী করতেন, সেখানকার মালিকের সাথে মনোমালিন্য হওয়ার কারণে, জার্মান থেকে চলে আসেন তিনি।
কিন্তু এরপরেও দুজনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখেন তারা। প্রযুক্তির কল্যাণে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ করতেন। এ সময় চয়নের পরিবারের সদস্যদের সাথেও যোগাযোগ ছিলো জেনিফারের।
অবশেষে বছর পেরুনোর আগেই, ভালোবাসার টানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, তিনি ছুটে আসেন প্রেমিকের কাছে। পাঁচ বছরের প্রেম রূপ নিয়েছে স্থায়ী সম্পর্কে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পরিবেশ, আতিথেয়তা ও সবার ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন জেনিফার। জানান বাংলাদেশকে ভালবাসতে পেরে তিনি ভিষন খুশি।
বর্তমানে এই ভিনদেশী একজন মাধ্যমিক লেভেলের শিক্ষার্থী। জার্মানির বাইলেফেল্ড স্টেটে বাবা-মার সঙ্গেই থাকেন তিনি।
বাংলাদেশে আসার পর থেকেই, বাবা জোসেফ স্ট্রায়াস ও মা এসাবেলা স্ট্রায়াস মেয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন। মেয়ের খুশিতে তারাও খুশি। শীঘ্রই তাদেরও দেশে আসার কথা শোনা যাচ্ছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)