আজকের খবর


পটুয়াখালীর বিস্ময়ঃ এক পরিবারের ৬৩ জন কোরআনে হাফেজ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

পটুয়াখালীর বিস্ময়ঃ এক পরিবারের ৬৩ জন কোরআনে হাফেজ

একই পরিবারে ৬৩ জন কোরআনের হাফেজ! এই ঘটনা আরবের কোনো দেশের নয় তাও আবার বাংলাদেশেই! এমনই এক বিস্ময়কর ঘটনার খোঁজ মিলেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়! 

যেখানে ১ জন সন্তানকেই হাফেজ বানানো বেশ দূরহ ব্যাপার সেখানে একই পরিবারে ৬৩ জন হাফেজ থাকার ঘটনা কেবল বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বেই দূর্লভ! 

এই আলোচিত পরিবারটির ছেলেমেয়ে পুত্রবধূ থেকে শুরু করে নাতি নাতনি পর্যন্ত কোরআনের হাফেজ হয়েছেন। এজন্য এলাকায় বিশেষ এই পরিবারের নাম হয়েছে হাফেজ পরিবার। 

বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় ধর্মপ্রাণ এই পরিবারটির বসবাস। সেখানকার বিলবিলাস গ্রামেরই নিবাসী শাহজাহান হাওলাদার। 

হিসেব করে দেখা যায় যে, তার ছেলে মেয়ে,পুত্রবধূ, নাতি নাতনি মিলিয়ে মোট ৬৩ কোরআনে হাফেজ। হাফেজ পরিবার বললে গ্রামের যে কেউই এক নামে চেনে এই পরিবারকে! 

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, পরিবারে কর্তা ধর্মপ্রাণ শাহজাহান হাওলাদার নিজে কিন্তু হাফেজ নন। কিন্তু পরিবারের সবাইকে তিনি হাফেজ বানিয়েছেন।  

জমিজমা বিক্রি করে প্রতিষ্ঠা করেছেন অন্তত ১২ টি মাদরাসা। তার গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে এলাকার কোমলমতি শিশুরা।  

গনমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে, শাহজাহান হাওলাদারের বাবার নাম হাজি নূর মোহাম্মদ হাওলাদার। মাত্র তিন বছর বয়সে মা কে হারিয়েছিলেন তিনি।  

এরপর সাত বছর বয়সে বাবাও পাড়ি জমান পরপারে। বাবা মা হারানো শাহজাহান হাওলাদার অনেকটা নিজ চেষ্টাতেই এইচএসসি পাশ করেন ১৯৭১ সালে।  

নিজের ছয় ছেলে এবং চার মেয়েকে  কোরআনে হাফেজ বানিয়েছেন শাহজাহান। শুধু তাই নয়। তার নাতি নাতনিদের মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে হাফেজ হবার প্রচেষ্টা।

দুই বছর আগে সব মিলিয়ে ৫৭ জন হাফেজ ছিলেন শাহজাহান হাওলাদারের পরিবারে। বর্তমানে এই সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬৩ জনে।  

কোরআন শিক্ষার পেছনেই শাহজাহান বিলিয়ে দিচ্ছেন নিজের জীবন ও অর্জিত সম্পদ। পৈত্রিক সম্পত্তি ও মামাবাড়ি থেকে পাওয়া তিন একর জমি বিক্রি তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন ১২ টি মাদরাসা এবং ৩ টি মসজিদ। 

তার বড় ছেলের নাম  হাফেজ মাওলানা মজিবর রহমান। বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী এই আলেমের স্ত্রী ও একজন হাফেজা। তাদের সংসারে আছে ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে। 

এরমধ্যে ছয়জনই কোরআনে হাফেজ। তারা স্বামী স্ত্রী এবং সন্তান মিলিয়ে হাফেজের সংখ্যা আটজন। এরপর রয়েছেন শাহজাহান হাওলাদারের দ্বিতীয় ছেলে হাফেজ মাওলানা নূর হোসেন।  


তিনিও বিয়ে করেছেন একজন কোরআনের হাফেজাকে। তাদের ছয় সন্তানের মধ্যে ৫ জন ইতিমধ্যে হাফেজ হয়েছেন। এছাড়া এক কন্যাকে বিয়েও দিয়েছেন হাফেজ পাত্রের সাথে। 

তাদের পরিবারে সব মিলিয়ে আছেন আটজন কোরআনে হাফেজ।  বাকি ছেলেমেয়েদের পরিবারেও বেশিরভাগ সদস্য হাফেজ হয়েছেন। 

ছেলেদের মধ্যে একমাত্র ছোট ছেলে ছাড়া বাকি সবাই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন হাফেজ পাত্রীর সাথে। বর্তমানে এসব ছেলেমেয়ে এবং নাতি নাতনিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। 

জড়িত আছেন বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদের সাথে। তাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা পাচ্ছে শত শত শিশু। 
 
গনমাধ্যমের কাছে শাহজাহান হাওলাদার বলেন,  তার পরিবারে ১১ জন নাতনির বিয়ে হয়েছে। এর মধ্যে সবার স্বামীই কোরআনে হাফেজ। এছাড়া তার ছেলেমেয়ে, নাতি নাতি নাতনি মিলিয়ে হাফেজের সংখ্যা মোট ৬৩ জন। 

শাহজাহান হাওলাদার জানান, তার ছেলেমেয়েরা এখন বিভিন্ন এলাকায় হাফেজ বানানোর শিক্ষা দিচ্ছেন। তিনি সাধারন মানুষের প্রতি সন্তানদের কোরআনি শিক্ষা দেয়ার অনুরোধ জানান। 

ধর্মপ্রাণ এই ব্যক্তি গনমাধ্যমের কাছে বলেন, ছোটবেলায় বাবা মা মারা যাওয়ার কারণে তিনি হাফেজ হতে পারেননি। কিন্তু কোরআনের প্রতি তার সীমাহীন ভালোবাসা রয়েছে। 

সেজন্যই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পরিবারের সবাইকে হাফেজ বানানোর চেষ্টা করবেন। তারাই নিয়োজিত হবে ইসলামের সেবায়। আর শেষ সময় পর্যন্ত এই মহা কল্যাণকর কাজেই নিয়োজিত থাকতে চান শাহজাহান হাওলাদার! 





  









জনপ্রিয়