আজকের খবর


ভুল নিয়মে নামাজ পড়ে সমালোচনায় আইটেম গার্ল রাখি সাওয়ান্ত।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ভুল নিয়মে নামাজ পড়ে সমালোচনায় আইটেম গার্ল রাখি সাওয়ান্ত।

ভুলভাল নামায পড়ে ফের আলোচনায় রাখী সাওয়ান্ত! সমালোচনার ঝড় বইছে গোঁটা নেট দুনিয়া জুড়ে! সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বলিউডের বি গ্রেড ড্রামা কুইন রাখী সাওয়ান্তের নামাযের ভিডিও! ভিডিওটিতে দেখা যায়, কাঁদতে কাঁদতে নামাজ পড়ছেন রাখি।

কিন্তু নামাজের চেয়ে নেটিজেনদের চোখে দৃষ্টিকটু লেগেছে রাখীর হাতের বড়বড় বিদ্ঘুটে নখ আর নখগুলোতে লাগানো হলুদ নেলপলিশ! 

এই নেলপালিশ লাগানো নখ নিয়েই নামাজ পড়ছেন তিনি। আর তা নিয়েই হইচই পড়ে যায় নেট দুনিয়ায়।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, তিনি ধর্ম নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। কেননা, নেলপলিশ পরে কেউ নামাজ পড়ে না। 

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত মুসলমানরা নামাজ পড়ার সময় এ ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।কিন্তু সে নিয়মটাই ভঙ্গ করেছেন রাখি। 

যার ফলে ট্রলের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। এছাড়া, নামাজ পড়ে তার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করাও ইসলামের রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাই নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, ধর্ম পালন করলে তা ঠিক মতো করতে। লোকদেখানো ভিডিও না বানিয়ে আল্লাহর সঙ্গে নিজের দুঃখ শেয়ার করতে। 

রাখির জীবন বরাবরই নাটকের মোড়কে আচ্ছাদিত। একের পর এক বিতর্ক আর সমালোচনা সবটা মিলিয়ে সবসময়ই তিনি খবরের শিরোনামে থাকতেই ভালোবাসেন। 

তাই অনেকেই বলেন, রাখি সাওয়ান্তের জীবন কোনো টেলিভিশন সিরিজের চেয়ে কম নাটকীয় নয়। কিছুদিন আগেও পুলিশের হাতে আটক হয়ে শিরোনামে আসেন তিনি। 

উল্টোপাল্টা মন্তব্য করা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে রাখির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন অভিনেত্রী শার্লিন চোপড়া।

আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রাখিকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য আটকও করেছিলো পুলিশ। এর আগে রাখির বিয়ের খবর নিয়েও জলঘোলা কম হয়নি। 

ব্যবসায়ী রিতেশের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিজের চেয়ে বয়সে ৬ বছরের ছোট আদিল দিরানির প্রেমে পড়েন রাখি। গত বছরের জুলাইয়ে গোপনে বিয়েও সেরেছিলেন তারা। 

তবে সে খবর সামনে আসে চলতি বছরের শুরুর দিকে। এরপর থেকেই আদিল-রাখির বিয়ে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রায় প্রতি দিনই কোন না কোন কারণে শিরোনামে আসে তাদের নাম।

জানা যায়- মুসলিম যুবক আদিল খান দুরানিকে বিয়ে করে নিজের ধর্ম বদলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এ অভিনেত্রী। এমনকি পরিবর্তন করেন নিজের নামও। 

নামের সঙ্গে ‘ফাতিমা’ যুক্ত করে এখন তিনি ‘রাখি সাওয়ান্ত ফাতিমা’। বিয়ের পর নিজেকে যে সম্পূর্ণ আদিলের মনের মতো গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন রাখি, তা তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিলো স্পষ্ট।

শুধু নামই নয়, এর পাশাপাশি তার পোশাকেও দেখা যায় পরিবর্তন। সম্প্রতি প্রকাশিত বেশিরভাগ ছবিতেই তাকে দেখা গেছে হিজাব পরিহিত অবস্থায়।

তবে এতো কিছু করেও সংসার টিকিয়ে রাখতে পারলেন না এ আইটেম গার্ল। দিনকয়েক আগেই রাখি মিডিয়াকে এসে জানান আদিল তাঁকে ডিভোর্স দিতে চাইছে, কিন্তু তিনি রাজি নন। 

এরপর স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর আর পরকীয়ার অভিযোগ আনেন তিনি। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই আদিল এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। 

এদিকে নায্য বিচার পেতে এখন কোর্টেও দৌঁড়চ্ছেন রাখি। এর ফাঁকে ফাঁকে কথা বলে নিচ্ছেন মিডিয়ার সঙ্গেও। রাখির দাবী, তিনি নিজে একজন মুসলমান। 

ইসলাম কবুল করেছেন। তাই আদিলের সাথে সম্পর্ক না থাকলেও ইসলাম ধর্মের নিয়মনীতি ঠিকই মানার চেষ্টা করছেন তিনি। 

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, নেলপলিশ হাতে দিয়ে নামাজ পড়াটা রাখী কতোটা যুক্তিযুক্ত কাজ করেছেন? যেখানে নারীদের নামাজে পর্দা ও গোপনীয়তার বিধান রয়েছে সেখানে রাখী এমন কাজ জেনে বুঝে করলেন নাকি না বুঝে? 



জনপ্রিয়