আজকের খবর


১৫ লক্ষ মানুষের খাবার রান্না করে সিংগাপুর এয়ারলাইন্স


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার

১৫ লক্ষ মানুষের খাবার রান্না করে সিংগাপুর এয়ারলাইন্স

একই ছাদের নীচে ৫০ হাজার মানুষের রান্না! এই রাজকীয় রন্ধন কোনো বিয়ে বাড়ির নয়, এটা সিংগাপুর এয়ারলাইন্সের রান্নাঘর। প্রতিদিনই এতো মানুষের খাবার রান্না হয় এখানে! তাও শুধু ভাত কিংবা তরকারী হলেও চলতো। কখনো ইন্ডিয়ান, কখনো জাপানিজ, কখনো চাইনিজ, আবার কখনো পশ্চিমা খাবার, সব চলছে একসাথেই! চুল পরিমাণও অশুদ্ধতার সুযোগ এখানে নেই!  

বিশ্বের অন্যতম বিমান পরিবহন সংস্থা,   “সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স” এর রান্নাঘর, স্যাটস ইনফ্লাইট ক্যাট্যারিং সার্ভিস মাসে ১৫ লক্ষ মানুষের খাবার রান্না করে!  সিংগাপুরের চেঙ্গি বিমানবন্দরের কাছেই অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান, বিশ্বের ৭৭ টি ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীদের চাহিদানুযায়ী খাবার তৈরি করে থাকে! বিশাল রান্নাঘরের কাজের আয়োজন বিষ্মিত করবে যে কাউকেই। প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষের রান্না করতে সক্ষম এই রান্নাঘরের দায়িত্বে রয়েছেন ১ হাজার দক্ষ শেফ! প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ টি ভিন্ন ভিন্ন মেন্যু রান্না করেন তারা! 

বছরে ২০ মিলিয়ন যাত্রীকে খাবার পরিবেশন করা হয় এই রান্নাঘর থেকেই। প্রতিবছর শুধু রান্নার সামগ্রী কিনতে, ৫০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়! এই রান্নাঘরের চুলা কোনোদিনই বন্ধ হয় না! দিনে ২৪ ঘন্টা, বছরে ৩৬৫ দিনই জ্বলতে থাকে রান্নার চুলা। প্রতিজনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শর্করা, সবজি, সস নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হয়। নির্ধারিত ফ্লাইটের ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টা আগে শুরু হয় রান্নার কার্যক্রম। 

তবে কোনো রান্নাই এখানে পুরোপুরি শেষ করা হয়না। সাধারণত খুব কম সময়ের জন্য রান্না হয় এখানে। সবজির বেলায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ, আর মাংসের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ রান্না হতেই চুলা থেকে খাবার নামিয়ে নেয়া হয়।বাকি রান্নার দায়িত্ব বিমানে থাকা বিশেষ ওভেনের। পরিপূর্ণভাবে রান্না হয় কেবল ডিম এবং ভাত। 

চেঙ্গি এয়ারপোর্টের স্যাটস ইনফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিসে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার ডিম মামলেট তৈরি করা হয়। আর বছরে ভাত রান্নার পরিমাণ ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। বড় আকারের পাত্রে একসাথে রান্না করা হয় সব ধরনের পাস্তা, সবজি কিংবা নুডলস। 

সবকিছুই অর্ধ সিদ্ধ অবস্থায় নামিয়ে, ব্লাস্ট চিলারে ঠান্ডা করতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বড় আকারের ব্লাস্ট চিলার ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা অবস্থায় বের করার মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে, খাবারগুলো প্যাক করা হয়। তবে প্যাক করার আগে চলে খাবারের “স্বাদ যাচাই”। সাধারণত বিমানের উচ্চতা এবং বায়ুর চাপে খাবারের স্বাদে বড় রকমের পার্থক্য দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে বাড়তি লবণ, মরিচ কিংবা অন্য কোন মশলা যোগ করার প্রয়োজন পড়ে। জেনে অবাক হবেন শুধুমাত্র গ্রাহকদের রূচি বোঝার স্বার্থেই রয়েছে বিশেষ একটি ঘর! 

ঘরটিতে অবিকল বিমানের মতোই বায়ুর চাপ এবং আর্দ্রতা বজায় থাকে, যাতে করে খাবারের স্বাদের হেরফের খুব সহজেই বোঝা যায়! স্বাদ পরীক্ষা শেষ হতেই খাবারগুলো প্যাকেজিং করা হয়। নিশ্চিত করা হয়, প্রতিটি বক্সে থাকা খাবার দেখতে যেন অবিকল একইরকম হয়। লম্বা একটি প্রক্রিয়া শেষে খাবারের বাক্সগুলো ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে রাখা হয়। 

খাবার পরিবেশনের জন্য এমন সব খাবার বেছে নেয়া হয়, যা লম্বা সময় ধরে ভালো থাকে। একারণে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিকেন ফ্রাইয়ের মত ডুবো তেলে ভাজা যেকোনো খাবারই এড়িয়ে যায় স্যাটস ইনফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিস। আবার মাছ দীর্ঘ সময় ভাল রাখতে, কড কিংবা স্যামনের মত পুরু ত্বকের মাছ বেছে নেন শেফরা। একেবারেই শেষে সাজানো হয় খাবারের ট্রে। সাজানো ট্রে সরাসরি চলে যায় বিমানের বিশেষ ক্যারিয়ারে। আর ঠিক একইরূপে তা গিয়ে পৌছায় যাত্রীদের কাছে। সাধারণত নির্ধারিত সূচির এক ঘন্টা আগেই এসব খাবার বিমানে পাঠিয়ে দেয়া হয়।  পুরো প্রক্রিয়াটিই খুব দ্রুতগতিতে শেষ করতে প্রস্তুত থাকে, স্যাটস ইনফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিস। 

কারণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হয় ৭২ ঘন্টার মাঝে। তবে থামার সুযোগ নেই। একটি ফ্লাইট শেষ না হতেই, স্যাটসের রান্নাঘর ব্যস্ত হয় পরের ফ্লাইটের খাবার তৈরি করতে। 
 




জনপ্রিয়