আজকের খবর


৫০০ কোটি টাকার মামলাতে ফেসে আদালতে যেতে হবে ব্যারিস্টার সুমনকে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০২ মার্চ ২০২৩, ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

৫০০ কোটি টাকার মামলাতে ফেসে আদালতে যেতে হবে ব্যারিস্টার সুমনকে

৫০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ সহ মানহানির মামলাতে ফেঁসে এবার আদালতে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে ব্যারিস্টার সুমনকে। 

আইনজীবি হিসাবে আসামীকে প্রশ্ন করা নয় বরং আসামীর মতো আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

গত ২রা মার্চ, বৃহস্পতিবার,  ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ মো. আমিনুল ইসলামের আদালতে এ নির্দেশ আসে। আদালতের প্রধান কেরাণী মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এই মামলায় বাদী হয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য ‘আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ’ একটি  মামলা দায়ের করেন।

এরপর গত পহেলা মার্চ বুধবার, বাদী পক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার দাস আইন অনুযায়ী মামলার ফি জমা দেন। 

আর ২রা মার্চ, আদালত থেকে নির্দেশ আসে,  বিবাদী ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে,  আগামী ২৩ মার্চ আদালতে হাজির হতে। 

এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আলোচিত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও মানিকগঞ্জের সংসদ সদস্য আব্দুস সোবহান মিয়া গোলাপ।

সেই মামলার কারণ ছিলো, এর কিছুদিন আগে তথ্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি সংস্থা ‘Organised Crime and Corruption Reporting Project’’ বা ‘OCCRP’ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে একটি প্রতিবেদন। 

সেই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ ছিলো, আবদুস সোবহান গোলাপ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং অনেক দেশে একাধিক বাড়ি কিনেছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। 

কিন্তু, তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় এসকল তথ্য গোপন করেন এমন অভিযোগ আনেন ব্যারিস্টার সুমন এবং এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন ব্যারিস্টার সুমন। 

এমনকি এবছর ২৬ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকেও অভিযোগ জমা দেন ব্যারিস্টার সুমন। 

এছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ফেসবুকে আবদুস সোবহান গোলাপ সম্পর্কে মিথ্যা, মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন। সায়েদুল হক প্রচার করেন যে আবদুস সোবহান গোলাপ ২০১৪-২০১৫ সালে সংসদ সদস্য হয়ে অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) করেছেন।

কিন্তু আবদুস সোবহান গোলাপের এর মতে, সায়েদুল হকের এইসব বক্তব্য মিথ্যা। গোলাপ সংসদ সদস্য হয়েছেন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোনও বাড়ি কেনেননি।


এরপর এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আবদুস সোবহান গোলাপ একাধিকাবার ব্যারিস্টার সুমনকে  ফোন দিলেও ব্যারিস্টার সুমন কথা বলতে রাজি হননি। 

পরে বাধ্য হয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।

আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ,  ১৯৮৫ সালে উচ্চতর শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বেতনে চাকরি করতেন। 

২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি মার্কিন পাসপোর্ট সমর্পণ (সারেন্ডার) করেন। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার কোনও আর্থিক লেনদেন নেই। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এবং সামাজিক কল্যাণ মূলক কাজের জন্য অনেক জনপ্রিয়তা পান ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, বাংলাদেশ প্রায় অধিকাংশ মানুষ তাকে ব্যারিস্টার সুমন নামেই চেনে। 

৪২ বছর বয়সী এই আইনজীবীকে দেখা গেছে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে  সরাসরি লাইভে এসে কাজ করতে। এছাড়া তিনি সব সময় চান বাংলাদেশের অন্ধকারকে আলোকিত করতে। 




জনপ্রিয়