আজকের খবর
ফারাজ করিম চৌধুরীর নামে ভূয়া ভোটার আইডি
তরুণ রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরীর নাম সংবলিত ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র খুলে কেউ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফারাজ করিম চৌধুরী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজ ৯ই মার্চ, সকাল ১০ টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টের সাথে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি সংযুক্ত করে ফারাজ দাবি করেন, ছবিতে যে জাতীয় পরিচয়পত্রটি দেখা যাচ্ছে, সেটি ভুয়া। তাঁর নাম ও তাঁর বাবার নামের সাথে মিল রেখে কেউ এমন নকল জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়েছে।
ছবিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই জাতীয়পরিচয়পত্রে তাঁর নাম, তাঁর বাবার ও মায়ের নামের মিল আছে। এমনকি ভুয়া দাবি করা ওই জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর জন্মতারিখও আসল জন্মতারিখের সাথে মিলে যায়।
পরিচয়পত্রটিকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে যুক্ত করা হয়েছে ফারাজের স্বাক্ষর ও ছবি। তবে ফারাজের দাবি তাঁর NID কার্ডের নম্বরের সাথে ছবিতে উল্লেখিত NID নম্বরের কোনো মিল নেই। NID নম্বরটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে যথেষ্ঠ পারদর্শী। সব তথ্যই তাঁরা Internet থেকে সংগ্রহ করে জুড়ে দিয়ে এই জাতীয় পরিচয়পত্রটি বানিয়েছে।
এ থেকে এড়িয়ে চলতে তিনি তাঁর ভক্তদের এই পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিতে আহ্বান জানান। এছাড়াও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত যেকোনো কাজে সাধারণ মানুষকে আগে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে চক্রটি কি স্বার্থ হাসিল করতে তরুণ এই রাজনীতিবিদের নামে ভুয়া NID কার্ড বানিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ধারণা করা যাচ্ছে, তাঁর জাতীয় পরিচয় পত্রকে কাজে লাগিয়ে কোনো এক চক্র রাজনৈতিক ফায়দা নিতেই এটি বানিয়েছে।
ফারাজ করিমের পোস্টের নিচে নানা রকম কমেন্ট করছেন তাঁর ভক্ত অনুরাগীরা। বেশিরভাগই দ্রুতই চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নিতে পরামর্শ দেন।
ফারাজ করিম চৌধুরী চট্টগ্রামের একজন তরুণ রাজনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রাম ৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বড় ছেলে।
বাবার মতোই আওয়ামীলীগের আদর্শে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু। তরুণ সমাজের কাছে তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয় তাঁর কর্ম, সততা ও নিষ্ঠার কারণে।
তিনি তাঁর রাজনৈতিক এলাকা রাউজানে ঘটে যাওয়া নিত্যদিনের অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করেন। সেই সাথে ওই এলাকার সামাজিক সব সমস্যা গুলো মোকাবিলায় সর্বদাই মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটেন।
আর সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের সেসব ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে গোটা দেশজুড়ে অর্জন করেছেন তুমুল জনপ্রিয়তা।
ফারাজ করিম ২০১৩ সালে কিংস কলেজ লন্ডন থেকে আন্ডার গ্রাজুয়েট শেষ করেন। তাঁর দুই বছর পর ২০১৫ সালে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে মাস্টার্স অর্জন করে দেশে আসেন এ তরুণ।
উচ্চ শিক্ষার পর তাকে বড় চাকরির অফার করা হলেও তিনি দেশের জনগণের সেবার কথা চিন্তা করে সে চাকরি ফিরিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভূয়া জাতীয়পরিচয়পত্র তৈরি করার ঘটনা নতুন নয়। চক্র গুলোর তথ্য সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তথ্য প্রবেশ করানোর পর্যন্ত সব পর্যায়ে লোকজন রয়েছে বলে জানা যায়। তাদের ক্ষমতাও বিশাল।
এসব নকল জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে চক্র ব্যাংক ঋণ, সরকারি সব অনলাইন সুবিধা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, সম্পত্তি কেনাবেচা, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ই-পাসপোর্ট, ব্যাংক হিসাব খোলা, সরকারি ভাতা উত্তোলন, সহায়তা প্রাপ্তি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে অবৈধভাবে সুবিধা নিয়ে থাকে।
সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতই এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবুও এদের দ্বৈরথের মাত্রা যেন থামছেই না।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)