আজকের খবর


সুলতান’স ডাইনের ভাগ্যে কি আছে তা জানা যাবে সোমবার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ মার্চ ২০২৩, ০২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার

সুলতান’স ডাইনের ভাগ্যে কি আছে তা জানা যাবে সোমবার

সুলতান’স ডাইনের ভাগ্যে কি ঘটতে চলেছে তা জানা যাবে আগামী সোমবার। তবে কি খাসির মাংসের বদলে অন্য কিছুর মাংস দিয়ে এতোদিন ব্যবসা করে আসছিলেন তাঁরা? নাকি কোনো একটি চক্র উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে তাঁদের পিছু লেগেছে? 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কাচ্চিতে খাসির বদলে অন্য প্রাণীর মাংস ব্যবহার করার বিতর্কের জের ধরে গত ৯ মার্চ সুলতান’স ডাইনের গুলশান শাখায় অভিযান চালিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে ঐ দিনই আলাদা আরো একটি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এদিন দুপুরে গুলশান-২-এর সুলতান’স ডাইনের গুলশান শাখায় অভিযান চালানো হয়। এসময় পরিচ্ছন্নতাসহ বেশকিছু কারণে সুলতান’স ডাইনকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে সুলতান’স ডাইন কর্তৃপক্ষকে অসন্তোষজনক উত্তর দেওয়ায় আগামী সোমবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে  নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত সুলতান’স ডাইনের গুলশানের ঐ আউটলেটে প্রথমে অভিযান চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক কাউসারুল ইসলাম শিকদারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মূলত তাঁরা রেস্তোরাটির পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ খাদ্যের প্রতিবিধানের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে। 

অভিযান শেষে অতিরিক্ত পরিচালক জানান, সুলতান’স ডাইনের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার মান এতোই নিচে যেঁ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাথরুমের পাশেই কিচেনের অবস্থান। বাথরুম থেকে পানি এনেই ঐ পানি দিয়েই রান্নার কাজ করা হচ্ছে। 

যে স্থানে বাসন-কোসন মাজছে, সেই জায়গাটাও দীর্ঘদিন পরিস্কার না করার কারণে কালো হয়ে গেছে। আর বাথরুম থেকে যেঁ দুর্গন্ধ আসছে, সেই গন্ধ নিয়ে কিচেনে দাঁড়ানোই দায় হয়ে গেছে। 

পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার মানদন্ডে একপ্রকার ফেল করেছে সুলতান’স ডাইন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাঁদের দশ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। আগামী ২০ মার্চ আবারো অভিযান পরিচালনা করবেন তাঁরা। তখন অবস্থার পরিবর্তন না হলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। 

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানের পর পরই শামসুদ্দিন ম্যানশনের ঐ আউটলেটে হানা দেয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

দুপুর ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ঐ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল। এ সময় অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ও ফারহানা ইসলাম অজন্তা উপস্থিত ছিলেন। 

অভিযানের সময় আবদুল জব্বার মণ্ডল ফোন করেন মাংস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে। সেখান থেকে জানানো হয় সেদিন তাঁরা ১২৫ কেজি মাংস নিজেরা এসে দিয়ে যান। মাংস কাটার সময় সুলতান’স ডাইনের কোনো প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না, তবে সরবরাহের সময়  সুলতান’স ডাইনের কেউ একজন ১২৫ কেজি মাংস বুঝে নিয়েছিলেন। 

১২৫ কেজি মাংস সরবরাহ করা হলেও ঐ দিন কাগজে কলমে ১৫০ কেজি মাংস কেনার তথ্য পাওয়া যায়। 
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল সুলতান’স ডাইনের ব্যবস্থাপক মো. আশরাফ আলমের কাছে বাকি ২৫ কেজি মাংস সরবরাহ করার ব্যাখ্যা জানতে চান। 

তখন সুলতান’স ডাইন কর্তৃপক্ষ কোনো ডকুমেন্ট বা রশিদ দেখাতে পারেনি। সুলতান’স ডাইনের ব্যবস্থাপক বলেছেন, তারা বাকিতে খাসির মাংস সংগ্রহ করেন। যার রশিদ বা বিল সন্ধ্যায় সরবরাহকারী দিয়ে যাবেন। তখন তাকে বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, সুলতান’স ডাইনের কর্তৃপক্ষ ও মাংস সরবরাহকারীর বক্তব্যের গড়মিল পাওয়া গেছে। 

তারা আপাতত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই তাদের আগামী সোমবার ভোক্তার অফিসে এসে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তারপর যদি কোনো ভুল-ত্রুটি পাওয়া যায়, তখন সুলতান ডাইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সুলতান’স ডাইনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভোক্তা অধিদফতর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের লোকজন এসেছিলেন, কিন্তু এখানে অসঙ্গতি তেমন কিছু পাননি। অভিযানের সময় তারা যে সকল তথ্য চেয়েছেন সেটি দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। 

এছাড়া আগামী সোমবার আরো কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ও কিছু কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলেছে ভোক্তা অধিদফতর। এবং তাঁরা সোমবার যাবেন। 

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সুলতান’স ডাইনের গুলশান শাখা থেকে ৭ প্যাকেট কাচ্চি অর্ডার দেন। কাচ্চি খাওয়ার এক পর্যায়ে মাংসের হাড় অনেক চিকন দেখতে পান তাঁরা। 

এ সময় তাঁদের সন্দেহ হয়। যে মাংস খাসি মনে করে খাচ্ছেন, সেটা খাসি নাকি অন্য কোনো জন্তুর সেই প্রশ্নের জবাব পেতে সুলতান’স ডাইনের হটলাইন নাম্বারে অভিযোগ জানান। 

সেখানে বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওয়ায় সুলতান’স ডাইনের একটি টিম নতুন কাচ্চির প্যাকেট নিয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানে যান। সে সময় তাঁদের মাঝে বাক-বিতণ্ডা হয়। 

এক পর্যায়ে কোনো এক পত্রিকার সাংবাদিক দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করেন ঐ কর্মকর্তারা। তবে সুলতান’স ডাইন ঐ কাস্টমারের বিরুদ্ধে টাকা দাবি করার উল্টো অভিযোগ আনেন। 

পরে পুরো বিষয়টি ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। মূহুর্তেই সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়ার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। 



জনপ্রিয়