আজকের খবর
২০২৬ সাল থেকে বাংলাদেশ আর দরিদ্র দেশ থাকছে না
২০২৬ সাল থেকে বাংলাদেশ আর থাকছে না দরিদ্র দেশের কাতারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা।
গত ৫ই মার্চ থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পঞ্চম সম্মেলন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান।
কাতারের রাজধানী দোহায় গত ৫ ই মার্চ শুরু হয় জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পঞ্চম সম্মেলন, এই সম্মেলনে জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩ বছরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ তথা লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রির তালিকা থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছে ৭টি দেশ। দেশ গুলোর মধ্যে আছে ভুটান, বাংলাদেশ, নেপাল, লাওস, অ্যাঙ্গোলা, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, এবং সাও তোম।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি যে হারে বিকশিত হচ্ছে, তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ আর জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাতে থাকছে না।
গত ৯ই মার্চ শেষ হওয়া এ সম্মেলনে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর যে সব সম্ভাবনাময় খাত আছে সেগুলোর কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় তার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আরও যোগ দেন জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল, আন্তোনিও গুতেরেস, UNGA প্রেসিডেন্ট সাবা করোসি, UNDP প্রশাসক আচিম স্টেইনারের মতো অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। আর এই সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৫ই মার্চ দোহায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশ্বের ৪৬টি দেশের প্রায় ১১০ কোটি মানুষ এই লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রির তালিকাভুক্ত, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই দারিদ্র্য অথবা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করে।
এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে এই ‘এলডিসি সম্মেলন’। প্রতি ১০ বছর অন্তর আয়োজন করা হয় এ সম্মেলনের।
এ সম্মেলন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে বিভিন্ন বিষয়ে দাবি-দাওয়া উত্থাপনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। কোভিড ১৯ এর কারণে দুইবার সম্মেলনের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত সম্মেলনের আয়োজন করা গেছে এ বছর।
বৈশ্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৯৭১ সাল থেকে লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ বা এলডিসি সম্মেলনের আয়োজন করে আসছে জাতিসংঘ।
এর আগে ২০১১ সালের এর চতুর্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সে সম্মেলনে বিশ্বের দরিদ্রতম মোট ৪৫টি দেশের তালিকা করা হয়। সে তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠে আসে।
মাত্র ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ বাংলাদেশে। যে দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির কিছু বেশি।
শ্রমঘন এই দেশটির বিদেশি মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত তৈরি পোশাক বা গার্মেন্ট। এলডিসি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুবাদে এই খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা পায়।
কিন্তু এই তালিকা থেকে বাদ পড়লে হারিয়ে যাবে সেসব সুবিধাও।
এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা মনে করেন, ‘‘এখনও তিন বছর সময় আছে, এই তিন বছর অনেক সময়; এই তিন বছরে দেশের আরও নতুন নতুন অনেক অর্থনৈতিক খাত তৈরি করা সম্ভব, সুতরাং এ ব্যাপারে ভয় না পেয়ে, সামনে এগিয়ে যাওয়া দরকার।’’
তবে এটা সত্য যে, এলডিসি তালিকা থেকে বাদ পড়লে বাংলাদেশ কিছু সুবিধা হারাবে; কিন্তু বিশ্বের বড় বড় বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ পেতে হলে এই তালিকা থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া জরুরি।
এবারের এই লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রির সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য সফল হিসাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে। কারণ এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেশ সাহসী একটি বক্তব্য রেখেছেন। এই সম্মেলনে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছেন, তা প্রকৃত অর্থেই বর্তমান বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত ছবি। পরিস্থিতির বক্তব্যে তিনি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন খুব চমৎকারভাবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)