আজকের খবর


ভয়ঙ্কর এক সুনামি আঘাত হানতে যাচ্ছে ২০২৩ সালে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৫ মার্চ ২০২৩, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার

ভয়ঙ্কর এক সুনামি আঘাত হানতে যাচ্ছে ২০২৩ সালে

সুনামি,  যে নামটি শুনলে মাথায় আসে কিভাবে একটি দেশ চোখের নিমিষে পানির নিচে হারিয়ে যায়। সমুদ্র থেকে উঠে আসা শুধুমাত্র কয়েকটি বড় বড় ঢেউ ধ্বংস করে দিতে পারে দেশের পর দেশ। 

আর একটি ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানতে যাচ্ছে এই ২০২৩ সালে, যা হতে পারে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সব থেকে ভয়াবহ সুনামি। 

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা UNESCO এই সুনামির পূর্বাভাস নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সে রিপোর্ট অনুযায়ী সুনামিটি আঘাত হানবে ভূমধ্যসাগরে। যা মার্সেলি, আলেকজান্দ্রিয়া এবং ইস্তাম্বুল সহ ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি প্রায় ৪০টি শহরে আঘাত হানবে। 

২০০৪ সালে ঠিক এই ভয়াবহতার একটি সুনামি আঘাত হেনেছিলো ইন্দোনেশিয়াতে।  ইন্দোনেশিয়াতে আঘাত হানা সুনামিকে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ একটি সুনামি মনে করা হয়, এই সুনামিতে প্রাণ হারিয়েছিলো প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ। 

জাতিসংঘের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সুনামি কারণের সাথে সামনে আগত সুনামির মিল খুজে পাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা। 

যখন আমরা "সুনামি" শব্দটি শুনি, তখন এটি আমাদের শরীর যেন কেঁপে উঠে, আর কল্পনাতে আসে আমাদের উপর আছড়ে পড়ছে বিশাল এক ঢেউ এবং যার সামনে যা কিছু পড়ছে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। 

সত্য হল, সুনামি শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি প্রকৃতির এমন এক শক্তি যা শুধু একটি দেশ নয় মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে গোটা এক মহাদেশ। 

সুনামি শব্দটি একটি জাপানি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো হারবার ওয়েভ বা পোতাশ্রয়ের ঢেউ। এটি আসলে বিশাল আকারের শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস।

সমুদ্রের তলদেশ বা তীরবর্তী মাটির গভীরে ভূমিকম্প অথবা টেকটনিক প্লেটের হঠাত উত্থানপতনের ফলে সমুদ্রের পানিতে কম্পনের তৈরি হয়। 
ফলে সেখানে বিশাল আকারে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।সেই ঢেউয়ের ফলে পানি আরো ফুলে উঠে, এবং প্রবল বেগে ধাবিত হতে থাকে তীরের দিকে। 

আর যখন সেটি তীরে আছড়ে পড়ে সেটি ধ্বংস করে দিতে পারে বিশাল বিশাল দালান, ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়া তে আঘাত হানা সেই সুনামির এক একটি ঢেউ এর উচ্চতা ছিলো প্রায় ৩০ মিটার। যা নিমিষেই ৩ তলা বিল্ডিং কে তলিয়ে দিতে পারে পানির নিচে। 

ইন্দোনেশিয়াতে যে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো তার কারণ ছিলো রিং অফ ফায়ার অর্থাৎ সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কারণে। 

আতংকের বিষয় এটি যে জাতিসংঘ যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেটিতে এটি উঠে আসে যে ভূমধ্যসাগরে আবার ও তৈরি হয়েছে এরকম একটি রিং অফ ফায়ার। 

এর ফলে যে ভুমিকম্প হবে সেটি ২১টি দেশ ও ৪০ টির ও বেশি শহরে আঘাত হানতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সুনামি যেখানে আঘাত হেনেছে সেখানে গত শতাব্দীতে বেশ কয়েকবার আঘাত হেনেছে সুনামি। 

এসব দেশে প্রতি শতাব্দীতে একবার করে অনেক ভয়াবহ সুনামি হয়।  আর সুনামির সময় মানুষকে আগে থেকে সতর্ক করা সম্ভব হয় না। কারণ ভূমিকম্প থেকে যখন সুনামির সৃষ্টি হয় তা সমুদ্রের তীরে আছড়ে পড়তে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট । 

কালের পরিক্রমায় আমাদের আবার ও দেখতে হতে পারে এমন একটি সুনামির। যা কয়েকটি দেশের সভ্যতাকে মুহূর্তেই বিলীন করে দিবে। 

গত কয়েকদিন আগে সিরিয়া ও তুরস্কে আঘাত হানা ভূমিকম্প এই সুনামির ই পূর্বাভাস বলে ধরা হচ্ছে। বিগত কয়েকদশকের মধ্যে এই ভূমিকম্প ই ছিলো সব থেকে ভয়াবহ। 

আর UNESCO থেকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ৪০ টি দেশের মধ্যে সবার আগে ছিলো তুরস্কের নাম। 

অর্থাৎ এটা ধরে নেওয়া হচ্ছে, তুরস্কে হয়ে যাওয়া ভুমিকম্প ছিলো এই ভূমধ্যসাগরের হতে যাওয়া সেই সুনামির ই পূর্বাভাস। কারণ ভূমিকম্প থেকেই সুনামির উৎপত্তি হয়। 






















জনপ্রিয়