আজকের খবর
নিজেদের মুদ্রায় লেনদেনের চিন্তা বাংলাদেশ-ভারতের
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করার ব্যাপারে ভাবছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রথম দিকে সরাসরি মুদ্রায় লেনদেন করা সম্ভব না হলেও ভ্রমণসহ সকল কাজে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডে লেনদেন করা যেতে পারে। আর সেইসাথে বাংলাদেশের মুদ্রা ভারতে এবং ভারতের মুদ্রা বাংলাদেশে বিনিময়যোগ্য করার কথা ভাবা হচ্ছে ।
কিন্তু সেক্ষেত্রে দুই দেশকে নির্দিষ্ট বিনিময় হার নির্ধারণ করতে হবে। যেটা নির্ভর করবে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর উপর।
তবে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের ভারসাম্যের বিষয়টি নিয়েও একইসাথে ভাবা হচ্ছে। কোনো দেশ যাতে এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার উপায়ও নির্ধারণ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে।
এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংক এবং কার্ড ব্যবসায় এগিয়ে থাকা বেসরকারী ব্যাংক নিয়ে একটি বৈঠক করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই বৈঠক করতে আগ্রহী বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে কার্ড চালুর পদ্ধতি, লেনদেনের ঝুঁকি এবং লাভ-ক্ষতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে টাকা-রুপির লেনদেনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে গত ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি, ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত জি-২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরদের বৈঠকের পর।
ওই সময় বাংলাদেশ ও ভারতের গভর্নরের মধ্যকার বৈঠকে ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন নিয়ে কথা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর পর বাংলাদেশ ব্যাংক নতুনভাবে টাকা-রুপিতে লেনদেনের সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
আর বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের একই সাথে রিজার্ভ কমে আসা, ডলার সংকট ও ঋণের দায় এড়াতে চাওয়া।
বাংলাদেশে রিজার্ভ কমতে শুরু করছে ২০২১ সালের আগস্ট থেকে। সেই সময় বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিলো ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
এরপর থেকে কমতে শুরু করে রিজার্ভের পরিমাণ, এখন সেই রিজার্ভের পরিমাণ এসে দাড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ডলারে, এর সাথে যুক্ত হয়েছে দেশে ডলারের সংকট।
আর এই ডলার সংকটের কারণে ডলারের বিকল্প মুদ্রা হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মুদ্রা রুপীর কথা বাংলাদেশে ভাবা হচ্ছিল গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে। বাংলাদেশে এখনও ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা সেই অর্থে চালু করা সম্ভব হয়নি।
মাঝে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও তাতেও তেমন কোনো সাড়া মিলতে দেখা যাচ্ছে না। সাথে সাথে রাশিয়ান মুদ্রা রুবল এবং ভারতীয় মুদ্রা রুপি নিয়েও চিন্তা করা হচ্ছিল। কিন্তু রুবলের বিষয়টি নিয়ে আর তেমন ভাবা সম্ভব হয়নি।
এখন ভারতীয় মুদ্রা রুপি নিয়ে বেশি করে ভাবা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের প্রধানদের নিয়ে শিগরিই একটি বৈঠক করবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের বিষয়ে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও কথা বলছে।
বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলারের পাশাপাশি ইউরো ব্যবহার করছে। এদিকে এই ডলার কিংবা ইউরো দিয়ে রাশিয়ার পাওনা পরিশোধ করতে পারছেনা বাংলাদেশ।
কারণ, রাশিয়ার ওপর রয়েছে সুইফটের নিষেধাজ্ঞা। সুইফটের নিষেধাজ্ঞার অর্থ, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।
রাশিয়া যদিও এই নিষেধাজ্ঞার পর নিজেদের একটি আর্থিক যোগাযোগ মাধ্যম বের করে, তার নাম দেয় ‘কারেন্সি সোয়াপ’।
রাশিয়া বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয় যাতে বাংলাদেশ তাদের রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণের কিস্তি ২১ কোটি ৪০ লাখ ডলার সেই ‘কারেন্সি সোয়াপের’ মাধ্যমে পরিশোধ করে।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ তাতে রাজি হয়নি। এখন বাংলাদেশকে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে সেই পাওনা টাকা।
আর সে কারণে বাংলাদেশ এখন চাচ্ছে, যাতে ভারতের সাহায্য নিয়ে সেই পাওনা টাকা গুলো পরিশোধ করতে পারে।
এছাড়াও এশিয়ান ক্লিয়ারিং সিষ্টেম-আকুর মাধ্যমে এশিয়ার যে কোনো দেশ তাদের আমদানি-রপ্তানির দায় পরিশোধ করতে পারে। সেখানে ডলার মধ্যস্থতাকারী মুদ্রা। কিন্তু সেটা থাকলেও এর নিয়মের অধীনে চাইলে দুই দেশ তাদের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহার করতে পারে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)