আজকের খবর


সৌদির পাহাড়গুলো হীরা-পান্নায় ভরা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৭ মার্চ ২০২৩, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার

সৌদির পাহাড়গুলো হীরা-পান্নায় ভরা

মরুভূমির মধ্যেই পাহাড়, আর সেই পাহাড়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মূল্যবান সব পাথর। এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণা অনুসারে, মূল্যবান পাথরে ভরে আছে সৌদি আরবের উঁচু পাহাড়গুলো। 

দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলের পাহাড়গুলোতে অনেক ধরনের মূল্যবান এবং আধা-মূল্যবান পাথর রয়েছে। কিছু গবেষণায় হীরা, নীলকান্ত মণি এবং পান্নার মতো বিরল পাথরের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

সৌদি আরবের জলবায়ু গরম ও শুষ্ক। বেশিরভাগ রত্নপাথর এবং খনিজ পৃথিবীর গভীরতায় উচ্চ তাপমাত্রায় গঠিত হয়। দেশটির পরিবেশ তেমনই, যা তাদের গঠনকে সহজ করে তুলেছে। 

দেশটির রত্নপাথর শিল্পের বিশেষজ্ঞ নওয়াফ আল-লুহাইবি আরব নিউজকে জানিয়েছেন, ‘‘সৌদি পেরিডট এবং সৌদি স্ক্যাপোলাইট বিশ্বের একই ধরনের পাথরের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, খাঁটি এবং উচ্চ মানের রত্ন।’’

সৌদি অ্যাগেট, গারনেট, অ্যামাজোনাইট, অ্যামেথিস্ট, সিট্রিন, স্মোকি এবং গোলাপ’সহ সব ধরনের কোয়ার্টজ বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া মূল্যবান রত্নের মধ্যে রয়েছে।

এর প্রেক্ষিতেই গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি সরকার জানায়, ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র নগরী মদিনায় বিপুল পরিমাণ সোনা ও তামার মজুত রয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের এক পোস্টে সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, মদিনা অঞ্চলের আবা আল–রাহা অঞ্চলে সোনার মজুত পাওয়া গেছে। এছাড়া, মদিনার আল–মাদিক এবং ওয়াদি আল–ফারা অঞ্চলে পাওয়া গেছে তামার খনি।

দেশটির কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, নতুন এই খনিগুলো আবিষ্কার হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে ৫৩৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনবে এবং অন্তত ৪ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।


রত্ন পাথর বিশেষজ্ঞ আল-লুহাইবি জানান, তারা সৌদি জাতীয় দিবস- ২০২২ এ একটি বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখানে সৌদির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আহরিত মূল্যবান রত্নগুলো প্রদর্শন করা হয়। দর্শকদের সঙ্গে এগুলোর তথ্যও শেয়ার করা হয়েছে।

লুহাইবির মতে, এই উদ্যোগ দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছে। সৌদি আরবে এত সুন্দর, স্বাতন্ত্র্যসূচক রত্নপাথর আছে দেখে তারা অবাক হয়ে যান।

বর্তমানে সৌদি আরবে রত্নগুলোর প্রাপ্যতা এবং গুণমানের কারণে একটি সমৃদ্ধ ব্যবসা হয়ে উঠছে। অনেক সৌদি নাগরিক সক্রিয়ভাবে সৃজনশীল এবং অনন্য মাস্টারপিস তৈরির ব্যবসায় নেমেছেন। এগুলোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রত্নশিল্পের বিকাশের জন্য স্থানীয়দের সঠিক জ্ঞান এবং দক্ষতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

তাছাড়া রত্ন উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই কঠিন এবং জটিল। প্রচুর অর্থ, সম্পদ এবং প্রচেষ্টা ব্যয় করা সত্ত্বেও অনেক সময় ফলাফল থাকে অনিশ্চিত। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা এবং আশা হারাতে হয়, কারণ সাফল্যের হার ব্যর্থতার হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম৷ 

ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছানোর জন্য, খনন কার্যক্রম শুরু করার আগে, পাথর উত্তোলনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং জ্ঞানের পাশাপাশি বিষয়বস্তুর উপর একটি ভূতাত্ত্বিক জরিপের প্রয়োজন পড়ে।

বর্তমানে রত্ন পাথর উত্তোলন আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। আর এজন্য প্রয়োজন পড়ে দক্ষতার। 

এই দক্ষতা অর্জন, রত্নপাথর প্রদর্শন এবং ব্যাখ্যা করার জন্য বিনামূল্যে শিক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে কীভাবে রত্নপাথরগুলোকে পলিশ করতে হয় তা সেখানো হয়। নামমাত্র মূল্যে করানো হয় অন্যান্য কোর্স।

সৌদির প্রশিক্ষকরা বলছেন, তাদের লক্ষ্য তরুণ সৌদিদের বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া। সৌদি আরবে এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আরও বেশি সংখ্যক মানুষ এতে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

এদিকে, বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরবের এসব খনি দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি গুণগত পরিবর্তন হাজির করবে এবং এখানে বিপুল বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখবে।





জনপ্রিয়