আজকের খবর


তিস্তা নিয়ে ভারতের নতুন ষড়যন্ত্র এবার কি করবে বাংলাদেশ?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৯ মার্চ ২০২৩, ১২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার

তিস্তা নিয়ে ভারতের নতুন ষড়যন্ত্র এবার কি করবে বাংলাদেশ?

তিস্তার পানি নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা শুরু করে দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

 তারা একদিকে বাংলাদেশকে বলছে নদীতে পর্যাপ্ত পানি নেই, অপরদিকে নিজেদের জন্য খাল কাটার পাশাপাশি, গড়ে তুলছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

কয়েকদিন আগেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের অধীনে, আরো দুটি খাল খনন করার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সেচ বিভাগ।

খাল দুটি ভারতের জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলায়, আরো বেশি কৃষি জমিকে সেচের আওতায় আনবে।
 তাদের এমন উদ্যোগ নি:সন্দেহে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গকে বিপর্যস্ত করে তুলবে।

এই দু:সংবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এসেছে, আরো ভয়ংকর খবর। 
পশ্চিমবঙ্গ সরকার দার্জিলিং এলাকায়, তিনটি হাইড্রো ইলেক্ট্রিক ড্যাম স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর মধ্যে দুটি তিস্তার প্রবাহকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করবে বলে, আশংকা প্রকাশ করেছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। 
আর তাতে আরও বেশি সংকটে পড়তে পারে, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা। 

জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দুটি তিস্তার শাখা নদী, বড়া রংগিতের ওপর স্থাপন করা হবে। এগুলো থেকে যৌথভাবে, ৭১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিস্তার যে অংশ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, নদীটি সেই অংশের সঙ্গে যুক্ত। 

প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানিপ্রবাহ আরও কমে যাবে। এতেই বিপদে পড়বে বাংলাদেশ।

প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেখানে বারবার বলছে তিস্তায় পানি নেই, তাই শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে দেয়া যাবে না।
 সেখানে কিভাবে তারা খাল কেটে পানি সরিয়ে নিচ্ছে, গড়ে তুলছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। মমতা ব্যানার্জি প্রবাহ না থাকার অজুহাতে, আমাদের সামনে মূলা ঝুলিয়ে রেখেছেন।

অবশ্য ভারতের পক্ষ থেকে, একে রান অব দ্য রিভার' প্রকল্প বলা হচ্ছে। যার মানে হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পানি, পুনরায় নদীতেই ফিরিয়ে দেয়া হবে।

এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, মূলত দিনের বেলা পানি টেনে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে কাজে লাগানো হয় সেটি। 

এরপর রাতের মধ্যেই পানি পুনরায় নদীতে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফলে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় না। কিন্তু ভারতের এসব কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। 

কারন তারা আগেও এ ধরনের অনেক প্রকল্পকে রান অব দ্য রিভার বলেছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে কারিগরিভাবে তা হয় না।

তাই বাংলাদেশও তাদেরকে বিশ্বাস করে চুপ থাকেনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও বিভাগ অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনার পাশাপাশি, বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছে।

ইতিমধ্যে, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উজানে তিস্তা নদী থেকে ভারতের পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে, দেশটির সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হবে।

তিনি আরো বলেছেন, ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশে আসবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তখন তাকে হেলিকপ্টারে করে, দেশটির বিভিন্ন ব্যারেজের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখানো হবে।

এছাড়া এ বছরের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে, তিস্তা চুক্তি বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

কারন ২০১১ সালে সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরেও আলোচনা আগায়নি। 

মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে, নয়াদিল্লি এবং ঢাকা তিস্তার পানি ভাগাভাগির জন্য চুক্তি করতে পারেনি।

এর মূল কারণ ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিরোধীতা নয়। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার পিছনের কাজ করছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সাথে কেন্দ্রের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

রাজনৈতিক দল গুলো ফায়দা লুটতে গিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত করছে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষকে।
 এখন আবার নতুন করে সেচকাজ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে তিস্তার পানি ব্যবহার করলে, নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার আশংকাও করছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা।








জনপ্রিয়