আজকের খবর
৫ বিয়ে করেছেন আরাভ খান
দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খানকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
খুব অল্প সময়ে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। বুর্জ খলিফা টাওয়ারের ৬৫ তলায় কিনেছেন ফ্ল্যাট।
বুর্জ খলিফার মতো স্থাপনায় ফ্ল্যাট কিনা এতো সহজ কথা নয়। সেখানে ৪ থেকে ৫ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য অন্তত ৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা।
বিলাসিতা মুড়ানো শহর দুবাইয়ে আরও রয়েছে তার ৫টি ফ্ল্যাট। অবাক করা বিষয় হলো, ২০২১ সালের নভেম্বরে দুবাইয়ের পার্মানেন্ট নাগরিকত্ব পেয়েছেন তিনি। সে বছরই পাঁচটি ফ্ল্যাট একসঙ্গে কিনেছেন এই ব্যক্তি।
আলাদিনের চেরাগের দৈত্যের পক্ষেও এতো শর্ট টাইমে এতো টাকা জরো করা কঠিন।
তার বাসায় আছে আরব শেখদের মতো বাজপাখি। বাজ পাখির আদলে ৪০ কোটি টাকা খরচ করে ৬০ কেজি ওজনের সোনার বাজ পাখি বানিয়েছেন তিনি। যা স্বর্ণের বাজারে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
এই সোনার বাজ পাখি দোকানের লোগো হিসেবে ব্যবহার করছেন আরাভ। ৬০ কেজি ওজনের সোনা দিয়ে বিশ্বের আর কোনো প্রতিষ্ঠান লোগো তৈরি করেনি।
তাছাড়া হিউজ পরিমাণ স্বর্ণ আর ডায়মন্ডের মজুদ আছে তার দোকানে। যুক্তরাষ্ট্রেও ‘আরাভ জুয়েলার্সের আরও একটি ব্রাঞ্চ উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অথচ চলতি বছর জানুয়ারি মাসে তিনি আরাভ জুয়েলার্সের মালিকানা পেয়েছেন।
তার বহরে যে পরিমাণ দামি গাড়ি আছে তার কথা বাদই থাকলো। আছে ব্যক্তিগত বিমান।
হজ্জ্ব করতে গিয়ে মক্কা ক্লক টাওয়ারে থেকেছেন তিনি। ক্লক টাওয়ারের রুমে থাকতে গিয়ে প্রতি রাতে দিয়েছেন ১৩ লাখ টাকা করে।
আরাভের বিয়ে নিয়েও বের হয়ে এসেছে অনেক তথ্য। প্রায়ই তিনি বান্ধুবিদের সাথে ঘুরে বেড়ান ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সহ বিলাসবহুল জায়গায়।
জানা যায়, ৪-৫টি বিয়ে করেছেন আরাভ খান।
যাদেরকে বিয়ে করেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা বিদ্যায় পড়াশোনা করতে ঢাকায় এসেছিলেন। তার নাম সুরাইয়া আক্তার কেয়া।
সেই তরুণীর বাবা আবুল কালাম ছিলেন মেহেরপুরের স্বল্প আয়ের একজন কৃষিজীবী।
তিনি জানিয়েছেন, ‘আরাভের’ সঙ্গে জড়িয়ে তার মেয়ের ‘অপরাধের জগতে’ জড়িয়ে পড়ার কথা।
পড়াশোনা শেষ হয়নি, উল্টো আরাভের সঙ্গে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন সুরাইয়া। কিন্তু তাকেও দেশে আটকে রাখা যায়নি। জামিন পেয়ে গোপনে দেশ ছেড়েছেন ঐ তরুণী।
আট বছর আগে আরেক শ্বশুর সেকান্দার আলীকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আরাভ।
আরাভ খান সর্বশেষ বিয়ে করেছেন ভারতের কোলকাতায়। সেই স্ত্রীকে নিয়ে এখন থাকেন দুবাইয়ে।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকজন তরুণী আরাভ খানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি স্বর্ণ পাচারে আরাভকে সহযোগিতা করে থাকেন তাঁরা।
মূলত রাজধানীর গুলশান এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে তাঁদের যাতায়াত। দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বর্ণ পাচারকারীদের সঙ্গেও, তাঁদের রয়েছে সখ্যতা।
স্বর্ণ পাচার করেই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন আরাভ।
অথচ শূন্য হাতে ঢাকায় এসেছিলেন ফেরিওয়ালা বাবার সন্তান আরাভ। তিনি খান বংশের কেউ নন বরং মোল্লা বংশের সন্তান।
তার বাবা মতিয়ার মোল্লা একসময় বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় ফেরি করে সিলভারের হাঁড়িপাতিল বিক্রি করতেন। সেখানেই ১৯৮৮ সালে সোহাগ ওরফে আরাভের জন্ম হয়।
২০০৫ সালে চিতলমারী সদরের একটি বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন। দারিদ্র্যের কারণে এরপর আর তার লেখাপড়া হয়নি। চিতলমারী থেকে ২০০৮ সালে ভাগ্যের অন্বেষণে ঢাকায় চলে যান তিনি।
ঢাকায় এসে নাম পাল্টে তিনি হয়ে যান মোল্লা আপন। জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে। পুলিশ সদস্য হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে ঢাকার একাধিক থানায় তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা হয়।
২০১৮ সালে বনানী পুলিশের এসবি শাখার পরিদর্শক মামুনের হত্যাকারী তিনি।
পরে পুলিশ জানল, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে আরাভ খান পালিয়ে যান ভারতের কলকাতায়। এরপর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করে চলে গেছে দুবাই।
দুবাই থেকে ভারতীয় পাসপোর্টধারী নাগরিক আরাভ খানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনাটা সহজ বিষয় নয়।
কয়েকদিন আগেও ঢাকায় ঘুরে গেছে সে। বাবা মাকে সাথে করে নিয়ে গেছে দুবাই।
তখনো কেউ জানত না যে, আরাভ খানই একদিন ছিল পুলিশ খুনের আসামি রবিউল ইসলাম।
সম্প্রতি দুবাইয়ে তার স্বর্ণের দোকান উদ্বোধনের খবর সামনে এলে আলোচনায় ঝড় ওঠে।
এখন তাকে গ্রেপ্তারে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলাপ করে ইন্টারপোলের সহায়তায় আরাভকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে ডিবিপ্রধান।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)