আজকের খবর


এক বছরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের পার্থক্য


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ মার্চ ২০২৩, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

এক বছরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের পার্থক্য

দ্রব্যমূল্যের চরম উর্দ্ধগতি নিয়েই শুরু হচ্ছে আরেকটি রমজান। তবে এবারের রমজানের আগে দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম ছাড়িয়ে গিয়েছে আগের সব বছরকে। বিগত দেড় থেকে দুই মাসে প্রায় সব কিছুর দামই চলে গিয়েছে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। 

যদি গত বছরের দামের সাথে, এবছরের দামের তুলনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে রমজান মাসে যে পণ্য গুলো আমাদের সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর দামে আছে  এক বিস্তর ফারাক। 

বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে লাগামহীন ভাবে। রমজান মাসে সব থেকে বেশি প্রয়োজনীয় সয়াবিন বা ভোজ্য তেল ২০২২ সালে ছিলো ১৫৪ টাকা প্রতি লিটার। যা ২০২৩ সালের রমজান মাসে এসে হয়ে গেছে ১৯০ টাকা। 

গত বছর রমজানে প্রতি কেজি ছোলার দাম যেখানে ছিল ৭০ টাকা করে, সেখানে এ বছর সেটি বেড়ে হয়ে গিয়েছে ৯৫ টাকা। 

ডিমের দাম এবছর কমানোর পর যেখানে হয়েছে ডজন প্রতি ১৪০ টাকা, গত বছর রমজানে সেটি ছিলো মাত্র ১১০ টাকা। 

আর মুরগির দাম তো বেড়ে হয়ে গিয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর রমজানে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিলো ১৫০ টাকা প্রতি কেজি, এবছর মুরগির দাম হয়ে গেছে ২৯০ টাকা প্রতি কেজি। 

গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে চলে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। খোলা বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে, কিন্তু গত বছরই এই গরুর মাংসের দাম ছিলো মাত্র ৬৫০ টাকা প্রতি কেজি। 

রমজান মাসে ইফতারের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো চিনি, সেটি গতবছর ছিলো ৮০ টাকা, এ বছর কেজি প্রতি ৪০ টাকা দাম বেড়ে হয়ে গেছে ১২০ টাকা। 

ডালের দাম গত বছর রমজানে ছিলো ১১৫ টাকা, এবছর তা বেড়ে হয়ে গেছে ১৩৫ টাকা প্রতি কেজি । এছাড়াও খেজুরের দাম গত বছরের দামের তুলনাতে বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ হারে। আর চাল , আটা সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের বাড়তিতো আছেই। 

দামের এতো বিস্তর ফারাকের কারণ হিসেবে পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন ডলারের দাম বেশি থাকা এবং ছোট ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে না পারাকে। এছাড়া পণ্যের আমদানি কমে যাওয়াকেও দুষছেন অনেকে। 

ব্যবসায়ীরা আরও জানিয়েছেন যে, রমজানে খেজুর ও ছোলার মতো পণ্যের দাম আরও কিছুটা বাড়তি থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ পড়ছে দুর্বিপাকে। 

তবে, ভোক্তা অধিকারের মতে, পণ্যের বাজারে কোন ধরনের ঘাটতি নেই। তাদের মত্যে ব্যবসায়ীরা যোগসাজস করে পণ্যের দাম বাড়ায় যাতে বাজার অস্থিতিশীল করা যায়। 




জনপ্রিয়