আজকের খবর
অটোরিকশা হারানো প্রতিবন্ধী রশিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাসরিফ খান
অটোরিকশা হারানো প্রতিবন্ধী রশিদের পাশে দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও সমাজ সেবক তাসরিফ খান।
নামাজ পড়তে এসে অটোরিকশা হারানো প্রতিবন্ধী রশিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ও সমাজ সেবক তাসরিফ খান।সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে, আব্দুর রশিদের সাথে দেখা করে একটি ছবি শেয়ার করেন তাসরিফ।
গত ২৩ মার্চ মসজিদের সামনে নিজের অটোরিকশা রেখে আসরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন আব্দুর রশিদ।কিন্তু নামাজ শেষে বাইরে এসে দেখেন তা আর নেই। খোঁজাখুঁজির পর বুঝতে পারলেন তার সম্পদটি হারিয়ে গেছে।
আয়ের একমাত্র উৎস হারিয়ে বিপাকে পড়ে শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই অটোরিকশা চালক। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার, মাওনা চৌরাস্তার,পুকুর পাড় জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
গত ২৫ মার্চ রশিদের এই অসহায়ত্বের খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। আর তা দেখে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাওনা চৌরাস্তায় যান তাসরিফ খান।সেখান থেকে আব্দুর রশিদকে তাসরিফের ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় নিয়ে যান।
সেখানে তাসরিফ স্কোয়াড গাজীপুর টিমের সদস্যরা তাসরিফের উপস্থিতিতে পা হারানো অটোরিকশাচালক আব্দুর রশিদের কাছে একটি অটোরিকশা হস্তান্তর করেন।
অটোরিকশা চুরি যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছিলেন রশিদ। কিন্তু তাসরিফের এমন মহানুভবতায় যেন আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পান তিনি।এদিকে শুধু তাসরিফই নয়, ভুক্তভোগী রশিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়লও।
তিনি বলেন, আব্দুর রশিদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তাকে খুব ব্যথিত করেছে। এতে মর্মাহত তিনি।তাইতো অটোরিকশা চুরি যাওয়ার খবর পেয়ে সাথে সাথে রশিদের সাথে যোগাযোগ করন এবং একটি অটোরিকশা কেনার সহযোগিতা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেন তাকে।
এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ জানান, 'আল্লাহ্ তাসরিফ ভাইকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি আমাকে একটি অটোরিকশা কিনে দিচ্ছেন। আর ছাত্রলীগের নাছির ভাইয়ের ২৫ হাজার ও মসজিদের মুসল্লিদের দেয়া টাকায় আমি এনজিও থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ করবো। খুব ছোট বেলায় দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়ে বহু কষ্টে জীবন অতিবাহিত করে আসছেন আব্দুর রশিদ।প্রথমে বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন তিনি। পাথর ভাঙার লোকেরা ছিলো মূলত তার কাস্টমার।
কিন্তু পাথর ভাঙার কাজ বন্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়তে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত আয়ের অন্য কোনো সহজ পথ না পেয়ে অটোরিকশা চালানোকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি।সংসার চালাতে সকালে বের হন উপার্জনের খোঁজে। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে রাতে ঘরে ফিরেন রশিদ।
প্রায় এক মাস বয়সী শিশু সন্তান, ২ বছর বয়সী ছেলে, স্ত্রী, মা ও বাবাকে নিয়ে এভাবেই চলে তার সংসার।প্রসঙ্গত, গত মাসে হঠাৎ করেই তাসরিফের ফেসিয়াল প্যারালাইসিস ধরা পড়ে। তার পর থেকে মানসিকভাবে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন তিনি।তবে তিনি আশাবাদী ছিলেন আবার আগের মতো গান নিয়ে, সামাজিক কর্ম নিয়ে শিগগির ফিরবেন।এখনই গান নিয়ে না ফিরলেও, আপাতত সামাজিক কর্ম নিয়ে ফিরেছেন এই গায়ক। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছেন নানা ধরনের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কখনো ফান্ড গঠন করে, কখনো নিজেই আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে থাকছেন।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)