আজকের খবর


৬০ কেজি ওজনের সোনার বাজপাখিতে সোনা নেই, পুরোটাই লোহা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৬ মার্চ ২০২৩, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার

৬০ কেজি ওজনের সোনার বাজপাখিতে সোনা নেই, পুরোটাই লোহা
দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খান সোনার বাজপাখি নিয়েও করেছেন প্রতারণা। তার দোকানে থাকা বাজপাখিতে সোনা নেই। বরং লোহা দিয়ে তৈরি হয়েছে এই বাজপাখি। পরিকল্পিত ভাবে আরাভ খান প্রচার করেন, ৬০ কেজি সোনা দিয়ে তৈরি করেছেন বাজপাখির আদলে লোগো। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। এবং বানাতে সময় লেগেছে আড়াই মাস। 

আদতে লোহার বাজ পাখির উপর ,সোনার রং দিয়ে দোকানে সাজিয়ে রেখেছিল আরাভ। দুবাইয়ের একাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী এর সত্যতা যাচাই করেছেন। ইংল্যান্ড সিরিজ শেষ করেই সাকিব দুবাই গিয়েছিলেন আরাভ জুয়েলার্সের উদ্বোধন করতে। 

গত ১৫ই মার্চ সন্ধায় একটি রেঞ্জ রোভার গাড়িতে দুবাইয়ের দেরা বাজারে যান বিশ্বসেরা এই আলরাউন্ডার। এ সময় তার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন আরাভ খান সাকিব উদ্ভোদনী অনুষ্ঠানে যাওয়ায়, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা সম্মানী দিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক খুনের আসামি আরাভ। 

জানা গেছে, বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে সম্মানী দিতে ধার করতে হয়েছে আরাভকে। 

অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিল হিরো আলম। ঠিক কত টাকার বিনিময়ে দুুবাইয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তিনি? এমন প্রশ্ন উঠলে জানা যায়, হিরো আলমকে টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেননি আরাভ খান। 

হিরো আলম সহ অনন্য তারকারা পরিস্থিতি বুঝে টাকা না নিয়েই ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। 

শুধু তাই নয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে কিছু ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা প্রবাসী এক টেলিভিশন সাংবাদিককেও টাকা পরিশোধ করেননি প্রতারক  আরাভ খান। 

এদিকে আরাভের প্রতারণায় জরিয়ে পরছিলেন তরুণ প্রজন্মের চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘিও। 

ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় দীঘি জানিয়েছিলেন, তিনি দুবাই যাচ্ছেন আরাভ জুয়েলার্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। যেটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আরাভ খান।

ব্যবসার আড়ালে দেশ থেকে নারীদের দুবাই নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে, ড্যান্স ক্লাবে দেহ ব্যবসা করান আরাভ খান। আরাভ খানের মুখোশ উন্মোচিত না হলে বিপদে পরতে পারতেন দীঘি, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

সোনার দোকান উদ্ভোধনের জন্য দেশ সেরা তারকারা যে দোকানে হাজির হয়েছিল, সেটিও ভাড়া করা। দোকানটির আয়তন মাত্র ৪০০ বর্গফুট। এক বছরের জন্য আরাভ দোকানটি ভাড়া নিয়েছেন। প্রতি বর্গফুটের ভাড়া ৭০ দিরহাম।ভাড়া হিসেবে এক বছরে পরিশোধ করতে হবে প্রায় ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।ভাড়ায় নেয়া দোকানটির আরাভ খানের একার নয়। 

টাকা নিয়ে চারজনকে ওই দোকানের অংশীদার করেছেন তিনি। তারা হলেন- দোকানের তত্ত্বাবধায়ক উসমান গণি, দুবাইপ্রবাসী কুমিল্লার শাহেদ আহমেদ, ঢাকার দোহারের রাফসান জামি ও শাকিব হোসেন। 

তারা সবাই মিলে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন আরাভকে। দোকানটি তারা এক বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছেন।

দুবাইয়ে সোনার দোকান চালু করে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খান একসময় ঢাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নারীদের দিয়ে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও চাকরিজীবীদের ফাঁদে ফেলতেন। নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে টাকা আদায় করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। 

এমনই একটি ফাঁদে পড়ে পুলিশ কর্মকর্তা মামুন এমরান খান বনানীতে রবিউলের ফ্ল্যাটে গিয়ে খুন হয়েছিলেন। 

অল্প সময়ে দুবাইয়ে জাল বিস্তার করায় আরাভ খানের সঙ্গে দেশের অপরাধজগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী, মডেল, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি সামনে আসে। 


জনপ্রিয়