আজকের খবর


ঝড়-বৃষ্টির পর আসছে ভয়াবহ তাপদাহ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ এপ্রিল ২০২৩, ১২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার

ঝড়-বৃষ্টির পর আসছে ভয়াবহ তাপদাহ
বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়ার অদ্ভুত আচরণ' লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্চ মাসের শেষের দিকে সাধারণত গরম অনূভূত হবার কথা থাকলেও সম্প্রতি প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টির সাথে ঝড়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যাতে করে তাপমাত্রা অনেকটা কমে এসেছে।

বাংলাদেশে মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিনমাসকে বর্ষাপূর্ব মৌসুম হিসেবে ধরে নেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তর।এই তিনমাস সাধারণত বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টি হয়। কখনো কখনো দেশের বাইরে আশপাশ থেকেও এই বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে এসে বাংলাদেশের আকাশে পরিপূর্ণ রূপ লাভ করে। এরপর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।

কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এবারে মার্চ মাসে বেশ ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রমেঘ তৈরি হয়েছে। যেটার ধরণ অন্যবারের চেয়ে আলাদা।একই সাথে যোগ হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১শে মার্চ ও পহেলা এপ্রিল দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ দুদিন মাঝারি ঝড়ের সম্ভাবনার কথা বলছে আবহাওয়া অফিস। একইসাথে বাতাসের গতিবেগও থাকবে বেশি। যার ঝলক রাজধানী ঢাকায় দেখা যায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে দেখা গিয়েছে। ঝড়ের সময় উত্তরা-এয়ারপোর্ট এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭৪ কিলোমিটার, যা অনেক বেশি বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী দুদিন ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট জানায়, ৩১ মার্চ রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি আর সর্বনিম্ন ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সঙ্গে বজ্রঝড়সহ বৃষ্টি হতে পারে বেশ কিছু জেলায়।

আবহাওয়াবিদরা মনে করেন, মার্চ মাসে এ রকম টানা পাঁচ দিন বিচ্ছিন্নভাবে সারা দেশে বৃষ্টিপাত খানিকটা অস্বাভাবিক। আগে সাধারণত মেঘ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্বে চলে যেত। কিন্তু এবার বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি লঘুচাপের কারণে বাংলাদেশে জলীয় বাষ্পের জোগান বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌসুমি বৃষ্টির বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির একটা প্রভাবে এটা ঘটতে পারে। তবে বর্তমান আবহাওয়া সিমুলেশনের মাধ্যমে আরেকটু বিশ্লেষণ করে কারণ জানার চেষ্টা করবে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বাংলাদেশে এপ্রিল মাসকে কালবৈশাখীর সময় বলে মনে করা হয়। ১৯৮১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ১২ থেকে ১৩ দিন দেশজুড়ে কালবৈশাখী আঘাত হানে। একই সঙ্গে তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায়। আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এপ্রিল মাসে যেহেতু প্রকৃতি একটু বিরূপ থাকে, উত্তপ্ত থাকে, তাই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কখনো যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সে জন্য এ সময় বাড়তি সতর্কতা দরকার।

কালবৈশাখী সাধারণত আধা ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় তাই বজ্রমেঘ বা পাহাড়ের মতো মেঘ দেখলে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। আর যারা প্রান্তিক কৃষক, খোলা মাঠে কাজ করেন তাদের আবহাওয়ার সতর্কসংকেত অনুসরণ করতে হবে। তাহলে বজ্রপাত এড়ানো সম্ভব। তবে বাংলাদেশে ঝড়প্রবণ এলাকায় বেশি বেশি বজ্রনিরোধক ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ বসানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন আবহাওয়াবিদরা।

সম্পর্কিত

আবহাওয়ার খবর

জনপ্রিয়