আজকের খবর


বাংলাদেশে কারখানা খুলবে রয়েল এনফিল্ড!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার

বাংলাদেশে কারখানা খুলবে রয়েল এনফিল্ড!

গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে এবার বাংলাদেশে কারখানা খুলতে চাচ্ছে বিখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড রয়েল এনফিল্ড। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময়।

রয়েল এনফিল্ডের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালেও তারা ব্যবসা শুরু করতে চায়। দুই দেশে শিগগিরই তৈরি করা হবে কারখানা।

বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে মাঝারি ওজনের অর্থাৎ ২৫০ সিসি থেকে ৭৫০ সিসির মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলি করছে রয়েল এনফিল্ড। এবার এই তালিকায় যুক্ত হবে বাংলাদেশ ও নেপাল। 

রয়েল এনফিল্ডের প্রধান নির্বাহী গোবিন্দরাজন সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, গত অর্থবছরে রপ্তানি দারুণ বেড়েছে। বিশ্ব বাজারে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও নেপালে অ্যাসেম্বলি ইউনিট শুরু করতে চলেছে তারা ।


তবে আইনের কারণে ভারতে বানানো মোটরসাইকেল তারা সরাসরি বাংলাদেশ কিংবা নেপালের বাজারে রপ্তানি করতে পারবে না, বরং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাজারে নামানো হবে তাদের মোটরসাইকেল। 

এক্ষেত্রে যেসব বাজারে রয়েল এনফিল্ডের উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে মার্কেট শেয়ার বাড়ানোর দারুণ সুযোগ রয়েছে। 

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট শেয়ার ৮ দশমিক ১ শতাংশ। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় এই মার্কেট শেয়ার প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। 

কোম্পানিটির এমন সাফল্যের পেছনে তাদের ‘জে’ সিরিজের ইঞ্জিন যেমন– রয়েল এনফিল্ড মিটিওর, ক্লাসিক ও নতুন হান্টার মডেলের সবচেয়ে বড় অবদান আছে বলে মনে করা হয়।

রিপোর্ট অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানির ক্ষেত্রে এ মোটরসাইকেল কোম্পানিটি দারুণ নজির গড়েছে। ২০২৩ সালে এক লাখ ৫৫ ইউনিট রপ্তানি হয়েছে  এবং ২০২২ সালে হয়েছিল ৮১ হাজার ৩২টি। 

প্রতিষ্ঠানটি এখন উত্তর আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, বাংলাদেশ ও নেপালে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। এরমধ্যে নতুন অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়াতেও বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


এদিকে, বাংলাদেশে রয়েল এনফিল্ডে কারা অংশী হবেন এ নিয়ে দেখা দিয়েছে আরেক জল্পনা। বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, ইফাদ অটোসের হাত ধরে বাংলাদেশে আসতে পারে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড রয়েল এনফিল্ড। 

বছর দেড়েক আগে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল, ইফাদ রয়েল এনফিল্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে, যার আওতায় তারা বাংলাদেশে রয়েল এনফিল্ডের মোটরসাইকেল বিপণনের পাশাপাশি এই ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের কারখানাও করবে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, রয়েল এনফিল্ডকে অনেকেই মনে করেন ভারতের ব্রান্ড। এমনকি ভারতীয়রা একে তাঁদের নিজস্ব পণ্য মনে করেন। ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে এটি এমনভাবে জড়িয়ে গেছে, এটির ব্রান্ড মালিকানা যে ভারতের নয়, তা অনেকেই জানেন না। 

রয়েল এনফিল্ডের মূল শিকড় হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। এ কোম্পানির জনপ্রিয়তা ও বিক্রি বাড়ে ভারতে আসার পর। ঐতিহ্যবাহী এই মোটরসাইকেল ব্রান্ডের বয়স ১২০ বছরেরও বেশি। 

বলা হয়, রয়েল এনফিল্ড যাঁরা চালান, তাঁদের নাকি সমাজে আলাদা মর্যাদা তৈরি হয়।

১৮৯৮সালে প্রথম মোটরচালিত যান তৈরি করলেও রয়েল এনফিল্ডের মোটরসাইকেলের যাত্রা শুরু হয় ১৯০১ সালে। নতুন শতাব্দীতে এক নতুন চমক নিয়ে আসে কোম্পানিটি। 

উদ্যোক্তা বব ওয়াকার স্মিথ আরেক ফরাসি উদ্যোক্তা জুলেস গোটিয়েটকে নিয়ে প্রথম মোটরসাইকেলটি তৈরি করেন। 

১৮৯৬ সালে এডি মিডলসেক্সের এনফিল্ড শহরে রয়েল স্মল আর্মস ফ্যাক্টরির জন্য যন্ত্রপাতি তৈরির কন্ট্রাক্ট পায় এবং এখান থেকেই রয়েল এনফিল্ড নামের জন্ম। এ বছরই তারা ‘নিউ এনফিল্ড সাইকেল কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি কিনে নেয় এবং এখান থেকে ১৮৯৭ সালে সাইকেলের সব ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু হয়। 

ধীরে ধীরে তখন ইংল্যান্ডে মোটরচালিত সাইকেল জনপ্রিয় হয় এবং রয়েল এনফিল্ড বিশ্ব বাজারে জায়গা করে নেয়।


জনপ্রিয়