আজকের খবর
৫০০ দিন পর গুহা থেকে বেরিয়ে এলো এক নারী, ছিলেন সম্পূর্ণ একা
টানা ৫০০ দিন গুহায় থাকার পর, বাইরে বেরিয়ে এসেছেন ৫০ বছর বয়সী এক নারী। দীর্ঘ এই সময়ে তার সাথে একজন মানুষও ছিল না।
খাবার উপর থেকে পাঠানো হলেও, কেউই কথা বলেনি নারীটির সঙ্গে। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। তবে রাখা হয়েছিল জরুরি পরিস্থিতিতে সিগনাল পাঠানোর ব্যবস্থা।
দুর্দান্ত সাহসী এই নারীর নাম বিয়েত্রিজ ফ্লামিনি। পেশায় তিনি একজন স্প্যানিশ পর্বতারোহী। টানা ১ বছর ৪ মাস ১৫ দিন গুহায় কাটিয়ে, গত শুক্রবার বের হয়ে আসেন তিনি।
কিন্তু কেন ২৩০ ফুট গভীরতার অন্ধকার জগৎকে বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ফ্লামিনি?
শুধুই কি এডভেঞ্চার, নাকি অন্য কোন উদ্দ্যেশ ছিল এর পিছনে?
জানা গেছে, এমন দু:সাহসীক অভিযানের উদ্দ্যশ্য ছিল, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানুষের শারীরিক ও মানসিক কি পরিবর্তন ঘটে, সেই সম্পর্কে জানা।
স্প্যানিশ পর্বতারোহীর পরীক্ষামূলক চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর। গুহায় প্রবেশের সময় তার সাথে দেয়া হয়েছিল ৬০টি বই আর ১ হাজার লিটার পানি।
কীভাবে তিনি সময় পার করছেন, সেসবের ভিডিও ধারণ করতে, ‘গো প্রো’ প্রযুক্তি কোম্পানির দুটি ক্যামেরাও সঙ্গে নিয়েছিলেন।
সাথে ছিল ছবি আকা ও পশমী টুপি বানানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মূলত এই দুটি কাজ করেই সময় পাড় করেছেন তিনি। এছাড়াও নিয়মিত চালিয়ে গেছেন বই পড়া ও শরীর চর্চা।
গুহায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তৈরি করলেও, বাইরে একটি সহায়তা টিম ছিল। প্রতিদিন খাবার পাঠানো এবং আবর্জনা নিয়ে আসতো তারা।
তবে কাজটি করা হয়েছে, সাক্ষাতের মত দূরত্বে না এসেই। এমনকি বলে দেয়া হয়েছিল, পরিবারের কোন সদস্য মারা গেলেও যাতে, গুহার ভিতরে সেই খবর না পৌছে।
এছাড়া গুরুতর কোনো সমস্যা কিংবা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে, উদ্ধার অভিযান ও প্রয়োজনীয় সাহায্য করার জন্য, প্রস্তুত রাখা হয়েছিল সহায়তা টিমকে।
শুরুর দিন গুলো ভালোই কেটেছিল ফ্লামিনির।
ঘড়ির কাঁটা ধরে তিনি চ্যালেঞ্জ শুরু করেন। কিন্তু ৬৫তম দিনে গিয়ে, সময় নিয়ে পাকিয়ে ফেলেন তালগোল। তখন থেকে সময়ের হিসাব করা বাদ দিয়ে দেন।
প্রায় দেড় বছরে বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে স্প্যানিশ এই নারীকে। সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে গুহায় মাছির আক্রমণ। একাকীত্বের কারনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল।
পুরোটা সময় জুড়ে বিয়েত্রিজ ফ্লামিনিকে পর্যবেক্ষন করেছে একদল মনোবিজ্ঞানী, গবেষক, গুহা বিশেষজ্ঞ এবং শারীরিক প্রশিক্ষকরা।
এভাবেই কেটে গেছে ১ বছর ৪ মাস ১৫ দিন। অবশ্য সহায়তা টিম জানিয়েছে, আট দিনের জন্য বাইরে এসেছিলেন তিনি।
সেই সময়ে গুহার ভিতর থেকে অডিও, ভিডিও ও বার্তা পাঠাতে, সেখানে একটি রাউটার মেরামতের কাজ করা হয়েছে। তবে তখনো উপরের একটি তাবুতে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন ছিলেন স্প্যানিশ নারী।
গত শুক্রবার সুস্থ অবস্থায় বেরিয়ে এসে বিয়েত্রিজ ফ্লামিনি সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, সময়টা যেন উড়ে গেছে। আর তার বাইরে আসার ইচ্ছাও ছিল না।
তিনি এখনো সাথে করে নিয়ে যাওয়া ৬০টি বই পড়ে শেষ করতে পারেননি। তাই আরো বেশিদিন থাকার ইচ্ছা পোষন করেছেন।
এর আগে সবচেয়ে বেশিদিন ভূগর্ভে থাকার রেকর্ড করেছিল, চিলি ও বলিভিয়ার ৩৩ জন খনি শ্রমিক। মাটির ২ হাজার ২৫৭ ফুট গভীরে আটকে পড়ে ৬৯ দিন সেখানেই কাটিয়েছিলেন তারা।
এবার হয়তো নতুন করে রেকর্ড বুকে নাম লেখাতে যাচ্ছেন স্প্যানিশ অ্যাথলেট ফ্লামিনি। পরীক্ষা নিরীক্ষা পরই একে স্বীকৃতি দিবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)