আজকের খবর
বিমানবন্দরে চুরিতে সাহাযা করতে কাস্টমস কর্মীর সাথে ৮ লাখ টাকায় চুক্তি চোরের!
শাহজালাল বিমানবন্দরে “চুরি” করতে “কাস্টমস কর্মীর” সাথে আট লাখ টাকার বিনিময়ে অবৈধ উপায়ে পণ্য খালাস করার ঘটনা ঘটেছে।
পুরো বিষয়টি স্বীকার করেছেন খোদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়্যার হাউস বা গুদাম থেকে প্রায় ৬০ কেজি মালপত্র অবৈধ উপায়ে বের করা হয়েছে।
আর পুরো বিষয়টিকে ‘চুরি’ বলছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ ‘চুরি’ করতে আমদানিকারকের সঙ্গে আট লাখ টাকার চুক্তি করেন একজন ‘কাস্টমস কর্মী’।
ইতোমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কর্মীকে শনাক্ত করা গেছে। ওই কর্মীর নাম ছামরুল ইসলাম। তিনি ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টের মাধ্যমে বিমানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।
জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করে বিমান। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের লাগেজসহ নানা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতেও সেবা দেয় বিমান।
বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আসা পণ্য বিমানের কার্গো ভিলেজের গুদামে জমা রাখা হয়। সেখান থেকে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টের মাধ্যমে শুল্ক দিয়ে পণ্য খালাস করতে হয় আমদানিকারককে। আর গুদামে পণ্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাড়া পায় বিমান।
এবার ওই “কাস্টমস কর্মীর” সহায়তায় শুল্ক ও ভাড়া না দিয়েই প্রায় ৬০ কেজি ওজনের পণ্য খালাস করে নিয়ে গেছে আমদানিকারক।এ ঘটনায় অন্তত আট থেকে দশ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বিমান।
গত ৪ এপ্রিল টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ৬০ কেজি ওজনের একটি পেপার ক্যারেট বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ক্যারেটটির ভেতরে পাম্পের যন্ত্রাংশ ছিল। এটি আমদানি করেছিল এফএম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
ক্যারেটটি প্রধান ওয়্যার হাউস-১–এ রাখা হয়। ৩০ এপ্রিল বিমানের নিরাপত্তাকর্মী লক্ষ করেন, ক্যারেটটি খোলা ও মালামাল নেই। পরে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস কর্মী ছামরুল ইসলামকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সহকারী ব্যবস্থাপক নিরাপত্তা (কার্গো আমদানি) মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এতে ছামরুলসহ চারজন কাস্টম সরকারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ছামরুল ও মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য দুই আসামি রানা ও রিন্টু পলাতক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ছামরুল ও তাঁর সহযোগীরা যে কাজ করেছেন, সেটি চুরি। এর মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি বিমানের গুদামভাড়া ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে যার পরিমাণ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।’
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ছামরুল আমদানিকারকের পূর্বপরিচিত ছিলো। অবৈধ উপায়ে বিমানবন্দর থেকে খালাস করা পণ্যটি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করার বদলে সরাসরি আমদানি করা হয়েছিল। এতে শুল্কের পাশাপাশি কাস্টমসে জরিমানা দিতে হতো এবং পণ্য খালাস করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগত।
তাই আমদানিকারকের পক্ষ থেকে ছামরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আট লাখ টাকার বিনিময়ে অবৈধ উপায়ে পণ্য খালাস করার চুক্তি করেন ও অবৈধ পথে পণ্যগুলো খালাস করিয়ে নেন।
এ ব্যাপারে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এফএম ট্রেডার্সের এর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)