বাংলাদেশের উন্নয়ন
স্মার্ট পার্কিং সিস্টেম চালু করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন!
প্রথম বারের মত স্মার্ট পার্কিং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
এটি হচ্ছে পার্কিং সমস্যার এক ধরণের ডিজিটাল সমাধান। যার সাহায্যে ব্যবহারকারী সহজে পার্কিং স্পেস খুঁজে বের করে গাড়ি পার্ক করতে পারবেন।
এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত জোনে স্মার্ট পার্কিং ডিটেক্টর, কাউন্টিং সেন্সরসহ ক্যামেরার ব্যবহারের মাধ্যমে গাড়ির পার্কিং স্পেস ম্যানেজমেন্ট করা হয়এই ডিভাইজ গুলো রিয়েল টাইম ডেটা সংগ্রহ করে তা গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করে থাকে।
অর্থাৎ পার্কিং স্পেস খালি আছে কিনা, পার্কিং ফি সহ অন্যান্য বিষয় ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানিয়ে দেযএতে করে যারা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা খুঁজছেন, তারা সহজেই কার্যকর ভাবে নিজেদের আশেপাশে গাড়ির পার্কিং স্পেস খুঁজে পাফলে গাড়ি ব্যবহারকারীর সময় বাঁচার পাশাপাশি এটি শহরকে আরো বেশি বসবাসযোগ্য এবং নিরাপদ করে তোলে।এছাড়াও, এটি পরিবেশ দূষণ এবং জ্বালানীর ব্যবহার কমাতেও সাহায্য করে।
আগামী মাস থেকে পাঁচশো স্মার্ট কার পার্কিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
গত বুধবার গুলশান-২ নগর ভবনে ‘স্মার্ট হার্ট, স্মার্ট বাংলাদেশ’ অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় স্মার্ট কার পার্কিং চালুর কথা জানান উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলামতিনি বলেন, যেখানেই গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে ,সেখানেই মাস্তানি শুরু হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়কে কোন পার্কিং ইজারাদার নেইজারাদারদের সিস্টেমে আনতেই আগামী মাস থেকে স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। ইতোমধ্যে জোন তৈরির সব কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রথম অবস্থায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গুলশান-বনানীতে পাঁচশো স্মার্ট কার পার্কিং চালু করা হচ্ছে।
যা সফল হলে পর্যায়ক্রমে উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্যান্য স্থানেও চালু করা হবে এ ব্যবস্থা।
এদিকে ঢাকা শহরের রিক্সা গুলোকে শৃঙ্গলার মধ্যে আনতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে মেয়র জানান,
ঢাকা শহরে আটাশ হাজার রিকশার লাইসেন্স দেয়া ছিল, কিন্তু এখন প্রায় দশ লাখের বেশি রিকশা আছে। এগুলোর কোনো শৃঙ্গলা নেই। কোনো ডেটাবেজ নেই।তাই আমরা আগের অনিবন্ধিত রিকশা তুলে দিয়ে নতুন করে কিউআর কোডযুক্ত দুই লাখ রিকশা নিবন্ধন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অন্যদিকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য আমরা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।লাইটগুলো ডিমিং করে রাত আটটা থেকে বারোটা পর্যন্ত পঞ্চাশ শতাংশ এবং রাত বারোটা-চারটা পর্যন্ত পয়ষট্টি শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছি।
কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সেই বিদ্যুৎ অপচয় করছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।
রাজধানী শহর ঢাকায় অন্যতম প্রধান সমস্যা যানযট। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি মাসে পঞ্চাশ লক্ষ কর্মঘন্টা নষ্ট হয় যানযটের কারনে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে জিডিপিপ্রতিবছর যানযটের কারনে ঢাকায় ক্ষতির পরিমান মোট জিডিপির প্রায় দুই দশমিক নয় শতাংশআর্থিক মূল্যে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। যা দিয়ে অনায়েসে তিনটি পদ্মা সেঁতু নির্মাণ করা সম্ভবঅন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী ঢাকায় যানবাহন চলাচলের গড় গতি প্রায় সাত কিলোমিটার। এক দশক আগেও যা তিন গুন বেশি ছিলযানযট সৃষ্টির অন্যতম কারন গুলোর একটি সেখানে সেখানে গাড়ি পার্ক করা। আশা করা যায়, স্মার্ট পার্কিং সিস্টেম সেই সমস্যার সমাধানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)