রাজনীতি
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেন দলটির কর্মীরা। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের ফটকের সামনে জাতীয় পতাকা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রেখে স্লোগান দেন যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রী। ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, রাজশাহী, যশোরের বাঘাইছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো এবং ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করা হয়। পরে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
এরপর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা অনেকটাই আড়ালে ছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক আবার আলোচনায় আসে। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই আওয়ামী লীগের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। এতে দলটির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে আলোচনায় আসে।
১৩ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় সদরের চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খোলার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তালা খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। ওই ভিডিওতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা দাবি করেন, স্থানীয় সমঝোতার ভিত্তিতেই কার্যালয়টি খুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
১৫ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন নেতাকর্মীরা। তারা স্লোগান দেন এবং দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনার বেতাগী উপজেলা, পটুয়াখালীর দশমিনা ও খুলনা মহানগরীতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও কার্যালয় খোলা ও ব্যানার টাঙানোর খবর পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খোলার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া এমন উদ্যোগ সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, “গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া আওয়ামী লীগ এই সাহস পেত না।”
অন্যদিকে লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সমঝোতা বা আপসের ফল হিসেবেই এসব কার্যালয় খোলার ঘটনা ঘটছে। তবে তার মতে, এসব ঘটনার তাৎক্ষণিক কোনো বড় প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে পড়বে না।
নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খোলার ঘটনাগুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ইঙ্গিত বহন করছে কি না সেই প্রশ্ন এখন আলোচনায়।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা
নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার কিছু আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুরু হয়।


.jpg)






