বাংলাদেশের উন্নয়ন


জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৪ আগস্ট ২০২২, ০৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার

জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ!

কার্গো জাহাজ থেকে জ্বালানী লোডিং আনলোডিং করার জন্য মহেশখালীতে নির্মাণাধীন সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা ভাসমান জেটির নির্মান কাজ প্রায় শেষের পথে।

সাধারণত যেসকল বন্দরে লিকুইড কার্গো লোডিং বা আনলোডিং করার সুবিধা থাকে না সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং ব্যবহার করা হয়।

এর সাহায্যে বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে থাকা তেলবাহী জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে লিকুইড স্টোরেজে আনা যায়। 
 
ফলে সহজেই বড় বড় জাহাজ গুলো থেকে লিকুইড লোডিং আনলোডিং করা সম্ভব হয়।

এসপিএম নির্মাণের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়। এতে বাড়বে দেশের তেল মজুত করার সক্ষমতা।

এতোদিন আমদানি করা জ্বালানি তেল বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে রিফাইনারি ট্যাংকে পৌঁছানো হতো।

ফলে তেলবাহী এক লাখ টনের একটি জাহাজ খালাস করতে সময় লেগে যেতো প্রায় এগারো দিন। এসপিএম চালু হলে যা মাত্র আটচল্লিশ ঘন্টায় খালাস করা যাবে।

তেল খালাসের সময় কমলে সেটা চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজের জট কমাতে সাহায্য করবে। ফলে পরিবহন ব্যায়ে বছরে সাশ্রয় হবে প্রায় আটশো কোটি টাকা।

এসপিএম এর নির্মান কাজ সম্পর্কে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব নসরুল হামিদ জানান,

"মহেশখালীতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম-এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে, জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।"

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড।

এটি অপারেশন ব্যায় কমানোর পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে বর্তমান রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়ানো।

বার্ষিক ক্রুড অয়েল পরিশোধন করার ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে ৪.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করবে।

'ইআরএল' এর জরুরি শাটডাউনের ব্যাকআপ ট্যাংক ফার্ম স্থাপন এবং পরিশোধিত তেল মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হাতে নেয়া হয় প্রকল্পটি।

প্রাথমিক ভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছিলো ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সাল ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পটিতে মূল অনুমোদিত ব্যয় নির্ধারিত হয়েছিল ৪,৯৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চায়না এক্সিম ব্যাংক ঋণ হিসেবে ৪,৬৮৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা দিয়েছে।

চুক্তিতে ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ধরা হয় পাঁচ বছর। সেই হিসেবে চুক্তির পরবর্তী পাঁচ বছর পর থেকে চীনকে ঋণ পরিশোধ শুরু করতে হবে।

তবে বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের ঋণ চুক্তি আঠারো মাস পরে সই হওয়ায় নির্মাণ কাজ শুরু হতে দেরি হয়।

এর মাঝে দুই দফায় সংশোধনী এনে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ মে মাসে করা তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার একশো পঁচিশ কোটি টাকা।

অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

তবে তৃতীয় সংশোধনী অনুযায়ী, প্রকল্প শেষ হওয়ার দুই মাস আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকেই ঋণ পরিশোধ শুরু হবে।

প্রকল্পটি চালু হলে একদিকে যেমন দেশের জ্বালানী তেলের মজুত সক্ষমতা বাড়বে, তেমনি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজ দ্রুত খালাসের ফলে কমবে জট । ফলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।

অন্যদিকে জ্বালানী মজুতের সক্ষমতা বাড়লে অল্প দামে পরিশোধিত বা অপরিশোধিত তেল বেশি পরিমানে আমদানি করার সুযোগ ও সৃষ্টি হবে।



জনপ্রিয়