বাংলাদেশের উন্নয়ন


ব্যয় বাড়ছে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের, লোকসানের শঙ্কা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ আগস্ট ২০২২, ০২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার

ব্যয় বাড়ছে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পের, লোকসানের শঙ্কা
যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। ব্যয়বহুল এই প্রকল্পের মোট নির্ধারিত ব্যয় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। আর এই অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ চীনের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে ২৬৭ কোটি ডলার ঋণ নেয়া হয়েছে। স্বাক্ষরিত ঋণ চুক্তিতে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ৭৮ টাকা ৮৫ পয়সা করে। কিন্তু বর্তমানে এই বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ টাকা ৩ পয়সায়। ফলে ঋণের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে ৪ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের জন্য চায়না এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৬৭ কোটি ডলারের এই ঋণ চুক্তির মূল্যমান ছিল তখনকার হিসাবে প্রায় ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। অথচ এখন ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশী মুদ্রায় ঋণের মূল্যমান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকায়। আবার বকেয়া বিল বাবদ ঠিকাদারকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৮৯ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু টাকার অবনমন হওয়ায় বকেয়া বিল বাবদ আরো ব্যয় বাড়ছে সংস্থাটির। সবমিলিয়ে শুধু টাকার অবমূল্যায়নের কারনে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যয় ১১-১২ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কিনা - সে বিষয় নিয়ে আরো আগেই নানা আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার কমতে থাকায় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই আশঙ্কা আরো জোরালো হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই রেল প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে যে পরিমাণ জনবল প্রকল্প এলাকায় প্রয়োজন, তার চেয়ে কমসংখ্যক জনবল বর্তমানে নিয়োজিত রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-মাওয়া ও মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে কর্মরত জনবল প্রয়োজনের তুলনায় কম। আবার ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত যথেষ্ট জনবল থাকলেও ঘাটতি রয়েছে যন্ত্রপাতির। প্রকল্প এলাকায় নির্মাণযন্ত্র এবং জনবল বাড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এ জন্য রেলওয়ের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছে তারা। অবশ্য চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারকে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। তবে সিআরইসি-এর এই প্রস্তাব এখনই প্রত্যাখ্যান করেনি তারা। যাচাই-বাছাই করে এই ব্যাপারে দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটির দাবি মেনে নেয়া হয় তাহলে আরো বৃদ্ধি পাবে প্রকল্প ব্যয়। প্রকল্পের ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হয় পরবর্তী আয়ের মাধ্যমে। তাই বাড়তি অর্থ ব্যয় হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির ইকোনমিক রিটার্ন যাতে বেশি হয় সেদিকে মনোযোগী হতে হবে।


জনপ্রিয়