বাংলাদেশের উন্নয়ন


ছয় লেনে উন্নতি হচ্ছে খুলনা সিটি বাইপাস সড়কটি।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩১ আগস্ট ২০২২, ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার

ছয় লেনে উন্নতি হচ্ছে খুলনা সিটি বাইপাস সড়কটি।

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম শহর খুলনাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে আছে সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, আবাসিক এলাকায় প্লট হস্তান্তর, জিমনেসিয়াম এবং সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ।

উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার খুলনা সিটি বাইপাস সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নগরীতে যানবাহন এবং আবাসনের চাপ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে এই সড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে আফিল গেট হয়ে রাজঘাট পর্যন্ত মোট ২৭ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন করা হবে। 

এখন চলছে জমি অধিগ্রহণের কাজ। ইতোমধ্যে রাস্তার দুই পাশের ২৩৪ একর জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের আর্থিক মূল্য জানতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে সড়ক বিভাগ। 

প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে খুলনা নগরীর এ সড়ক দিয়ে। পদ্মা সেতু চালুর পর পরিস্থিতি আরো প্রকট হয়েছে। 

আগের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। একই সাথে সড়কটি দুই লেন হওয়ার কারণে ঝুঁকিও বেড়েছে।

যার কারণে পদ্মা সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খুলনাবাসী। সরু সড়কের কারণে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে প্রতিনিয়তই ঘটে চলছে দুর্ঘটনা। 

এছাড়া মোংলা বন্দরের পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের অসুবিধা। সব মিলিয়ে সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া বর্তমানে খুলনায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ মিলিয়ে প্রায় কয়েকশ’ শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা পদ্মা সেতু এবং মোংলা বন্দরকে মাথায় রেখে ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছেন।

আর তাই এসব প্রতিষ্ঠানে পণ্য পরিবহণে সুবিধা সৃষ্টি করতে হলে খুলনা সিটি বাইপাস সড়কটি দ্রুত ছয় লেনে উন্নতি করা প্রয়োজন।

রূপসা সেতুর সংযোগ সড়ক হিসেবে আফিল গেট থেকে কুদির বটতলা পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল।

২০০৫ সালের ২১ মে রূপসা সেতুর সঙ্গে সড়কটিও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জনসাধারণের জন্য।

এর মধ্যে সড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে রূপসা সেতু হয়ে কুদির বটতলা পর্যন্ত মোট ১০ কিলোমিটার অংশ চার লেন। 

অন্যদিকে জিরো পয়েন্ট থেকে আফিল গেট পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার অংশ হলো দুই লেনের। এই পুরো অংশই ৬ লেন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সড়কটি নির্মিত হলে খুলনা ছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া জেলাসহ উত্তরবঙ্গের সাথে মোংলা বন্দর এবং ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। 

ব্যাপক ভিত্তিতে রপ্তানিমুখী চিংড়ি চাষের কেন্দ্র হিসেবে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরিত হয়েছে খুলনা।

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা, খুলনা থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু হওয়ার পর আগের চেয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে এটি।

ভবিষ্যতে আন্তঃদেশী বানিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রেও ব্যপক অবদান রাখবে এই বন্দর। ফলে চাপ বেড়ে যাবে খুলনা নগরীর উপর।

অতিরিক্ত চাপ সামলানোর সক্ষমতা অর্জনের জন্য শহরটিকে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনা খুবই জরুরী। আপাতত সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে কে ডি এ।

এর মধ্যেই বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। চলমান এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আধুনিক শহরের সব সুযোগ-সুবিধা পাবে খুলনা নগরবাসী।



জনপ্রিয়