বাংলাদেশের উন্নয়ন


খুলনা-মোংলা রেল সেতুর কাজ শেষ, অপেক্ষা রেল লাইনের


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার

খুলনা-মোংলা রেল সেতুর কাজ শেষ, অপেক্ষা রেল লাইনের

নদীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের দীর্ঘতম রূপসা রেল সেতু। এটি এখন চালুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

খুলনা-মোংলা বন্দর রেললাইন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে এই ব্রীজ। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৯৯.৯ ভাগ বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

বাকি কাজ শেষে খুব শীঘ্রই এটি কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্প বুঝে নেওয়ার জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। 

সেতু বুঝে পাওয়ার পর তাতে রেললাইন বসাতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই শুরু হবে লাইন বসানোর কাজ।

গত ২৯ আগস্ট, রূপসা সেতু পরিদর্শনে আসেন খুলনা-মোংলা রেল ব্রিজ প্রকল্পের ম্যানেজার অমরোতোশ কুমার ঝা। এ সময় তিনি জানান, নির্মাণ শেষ হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে এটির রক্ষণাবেক্ষণ করবে। 

স্টিলের কাঠামো দিয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি খুলনাকে মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ করেছে।
এটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, ১০০ বছরেও এই সেতুর কিছু হবে না।

ব্রিজ নির্মানের জন্য রুপসা নদীর উপরে মোট ৭টি স্প্যান বসানো হয়েছে। সর্বশেষ স্প্যানটি বসানো হয়েছে গত ২৫ জুন।

রেল প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৮৮ দশমিক ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর শুধু রূপসা সেতু নির্মাণের ব্যয় ১৬৯ দশমিক ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

এই সেতু প্রকৌশলগত দিক থেকে একটি অনন্য কীর্তি। এটির পাইলিংয়ের জন্য বেস গ্রাউটিং নামক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। 

ভায়াডাক্ট সেকশনে ৮৫৬টি পাইল ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৭২টি পাইল ফাউন্ডেশন স্টিল ব্রিজ সেকশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে, যার গড় দৈর্ঘ্য ৭২ মিটার। 

নদীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাখা হয়েছে নেভিগেশন ফেন্ডার পাইল। মূল সেতুর নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্স স্ট্যান্ডার্ড হাই-ওয়াটার লেভেল থেকে ১৮ মিটারেরও বেশি।

স্টিলের তৈরি এই সুপারস্ট্রাকচারটির নির্মাণসামগ্রী ভারত থেকে সড়ক, সমুদ্র ও অভ্যন্তরীণ নদীপথে আমদানি করা হয়েছে।

খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের পুরো রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে মোংলা বন্দর। ফলে এই বন্দর হবে আরও কর্মচঞ্চল, গতিশীল ও আধুনিক।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি হয়ে উঠবে অনন্য। এই সেতু ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ভুটান ও নেপালের মধ্যেও পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।

মোংলা বন্দর থেকে মালামাল রেলপথে বিভিন্ন স্থানে পরিবহণ আগের তুলনায় আরো সাশ্রয় এবং নিরাপদ হবে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এটি আন্তর্জাতিক মানের বন্দরের পর্যায়ে পৌঁছাবে।

একই সঙ্গে রেল ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিকল্প রুট সৃষ্টি হবে এর মাধ্যমে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, রূপসা নদীতে রেল সেতু নির্মাণ। অবশেষে সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হতে চলেছে।

এখন মোংলা বন্দর যেমন আরও গতিশীল হবে, তেমনি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।



জনপ্রিয়