বাংলাদেশের উন্নয়ন
বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর প্রথম স্প্যান দৃশ্যমান।
দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ। যেটির বাস্তবায়ন এখন দৃশ্যমান।
৫০টি পিলারের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে এই রেল সেতু। পদ্মা সেতুর পর দেশের আরেক মেগা প্রকল্প এটি।
প্রতিনিয়তই একটু একটু করে ফুটে উঠছে এ সেতুর অবয়ব। সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর দুই প্রান্তে চলছে নির্মাণের মহাযজ্ঞ।
দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী আর কর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাতদিন সমান তালে এগিয়ে চলছে পাইলিং ও সুপার স্ট্রাকচার বসানোর কাজ।
এরই মধ্যে নদীর ওপর দৃশ্যমান হয়েছে প্রথম স্প্যান। সেতুর ৪৭ ও ৪৮ নম্বর পিলারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে এটি। প্রথম স্প্যান স্থাপনের পর এখন দ্বিতীয় স্প্যান স্থাপনের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা উন্নত মানের বিশেষ ধরনের বড় বড় স্টিলের কাঠামো দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্প্যানগুলো।
এখন পর্যন্ত সেতুর কাজের অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।
৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের রেল ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে এই রুটে দৈনিক চলাচল করতে পারবে ৬৮টি ট্রেন।
যার গতি হবে ঘণ্টায় মিটারগেজে ১০০ কিলোমিটার ও ব্রডগ্রেজে ১২০ কিলোমিটার।
যথাসময়ে কাজ শেষ করা গেলে এ সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হবে ২০২৪ সালে।
ব্রিজটি নির্মান করছে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা।
এতে দুটি রেল লাইন বসবে। ফলে কোনো ট্রেনকে সেতু পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। একসঙ্গে দুটো ট্রেন দুদিকে যেতে পারবে।
সেতুটি ওয়েদারিং স্টিল দিয়ে তৈরি হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে যে সেতুগুলো রয়েছে সেগুলো দুই তিন বছর পরপর রঙ করতে হয়। কিন্তু এই রেল সেতু কখনোই রঙ করতে হবে না। রক্ষণাবেক্ষণ খরচও প্রায় শূন্য।
রেল লাইনগুলোতে চাকার ঘর্ষণে ক্ষয়ে যাওয়া কমাতে বিশেষ উপকরণ ব্যবহার করা হবে। ফলে এগুলোর আয়ুস্কাল হবে ৩০ বছরের মতো।
যাত্রীদের দুর্ভোগ দুর করতে ও দেশের রেল যোগাযোগ আরো উন্নত করার লক্ষে যমুনা নদীর উপর আলাদা রেল সেতু নির্মান করা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সড়ক সেতুতে যে রেললাইন রয়েছে সেটি সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় সেতু পার হতে ট্রাফিক সিগন্যালে নষ্ট হয় বেশ খানিকটা সময়।
এছাড়াও কয়েকবার সেতুতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।
২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দিলে কমিয়ে দেয়া হয় রেল চলাচলের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৮ টি ট্রেন স্বল্প গতিতে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হয়।
এটির উপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারে। যে কারণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
তবে নতুন রেল ব্রিজ দিয়ে ঘণ্টায় সর্বচ্চো ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলতে পারবে। এটির উপর দিয়ে যেকোনো ওজনের মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলতে পারবে।
পাশাপাশি ব্রিজটির উপর দিয়ে একাধিক লোকোমোটিভ দিয়ে ট্রেন চালানো যাবে। সাধারণত মালবাহী ট্রেনগুলোকে প্রায়ই দুটি ইঞ্জিন দিয়ে টানতে হয়।
এ রেলসেতু বাস্তবায়িত হলে আমদানি-রফতানি খরচ কমে যাওয়াসহ বঙ্গবন্ধু সেতু ও মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে।
এর মাধ্যমে উত্তরের যোগাযোগ খাতে নব দিগন্তের সূচনা হবে। কর্ম সংস্থান হবে লাখো মানুষের। এতে উচ্ছ্বসিত উত্তরবঙ্গের মানুষ।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)