বাংলাদেশের উন্নয়ন
দেশে এক টুকরো ইউরোপ হবে পূর্বাচল এক্সপ্রেসয়ে ও আধুনিক শহর
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে পূর্বাচলে। সুন্দর আর পরিবেশবান্ধব এই সড়কে থাকছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। এটি চালু হলে মাত্র ৬মিনিটেই যাওয়া যাবে সাড়ে ১২ কিলোমিটার পথ।
যানজট থেকে মুক্তি পেতে ঢাকার পাশেই তিন জেলার সংযোগ স্থলে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক স্যাটালাইট শহর। সেখানে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে আধুনিক এক্সপ্রেসওয়েও নির্মিত হচ্ছে।
কুড়িল বিশ্বরোড থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেস্ওয়েটি। প্রকল্পে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত হচ্ছে আট লেন সড়ক। আর বালু নদ থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ছয় লেনের। দুই পাশে থাকছে সার্ভিস লেন।
প্রকল্পটিকে আধুনিক স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক।
এক্সপ্রেস্ওয়েটিতে হাতিরঝিলের মতো ১৩টি আর্চ ব্রিজ বা বাঁকানো সেতু থাকছে। এরই মধ্যে বাঁকানো সেতুর বেশিরভাগই দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়াও ১০টি বড় সেতু নির্মিত হচ্ছে।
ইতিমধ্যে চার হাজার শ্রমিকের পরিশ্রমে সাড়ে বারো কিলোমিটার সড়কটি দৃশ্যমান হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়েই ছুটে চলছে যানবাহনগুলো।
এক্সপ্রেসওয়েতে যেদিক থেকেই চলাচল হোক–থামার সুযোগ থাকছে না। এ জন্য রাখা হয়েছে পাঁচটি অ্যাট-গ্রেড ইন্টারসেকশন, যাতে দ্রুত যানগুলো স্পিড না কমিয়ে লেন পরিবর্তন করতে পারে।
অত্যাধুনিক এক্সপ্রেসওয়েতেটিতে কোনো ধরনের স্টপওভার পয়েন্ট, সিগন্যালিং সাইন কিংবা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। এরই মধ্যে পাঁচটি অ্যাট-গ্রেড ইন্টারসেকশনের কাজ শেষ হয়েছে।
এগুলোর মাধ্যমে পূর্বাচল শহর এবং পাশের সার্ভিস লেনগুলোতে প্রবেশ করা ও এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা যাবে। ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের যানবাহন ছুটে চলবে বাধাহীন ভাবে।
আট লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশ দিয়ে একশো ফুট প্রশস্ত দৃষ্টিনন্দন খাল দৃশ্যমান হয়েছে। এঁকে-বেঁকে বয়ে চলা এসব খালের পাড় বাঁধানো হয়েছে।
দুই পাশে সাড়ে ৬ মিটার করে একাধিক সার্ভিস লেন রাখা হয়েছে। যেখানে থাকছে তিন মিটার প্রশস্ত হাঁটার পথ। এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে এসব সেগুলো।
রাস্তার পাশের যে খাল দুটি রয়েছে-তার দুই পাশে তৈরি করা হবে সবুজ ওয়াকওয়ে। আর এখানেই এক সঙ্গে ৪০ হাজারের বেশি পর্যটক প্রকল্পের সৌন্দর্য দেখতে পারবেন।
এক্সপ্রেসওয়ের সাথে আবাসিক এলাকা যুক্ত করার জন্য গেটওয়েও রাখা হয়েছে। যাতে করে এই সড়কে কোনো গাড়ি না থামিয়ে লেন পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যেতে পারবে।
বর্তমানে কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত যে কয়েকটি সেতু রয়েছে, প্রত্যেকটির পাশেই নতুন সম্প্রসারিত সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
বালু নদীর ওপর বর্তমানে যে সেতুটি রয়েছে-তার দুইপাশে আলাদা করে চার লেনের সেতু নির্মিত হচ্ছে। যা এখন সম্পুর্ন দৃশ্যমান হয়েছে। তার ওপর দিয়ে অনায়াসেই যানবাহনগুলো চলাচল করছে।
এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশের সড়ক দিয়ে স্থানীয় ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল করবে। একই সাথে স্থানীয় যানবাহনগুলো পারাপারের জন্য আন্ডারপাসও নির্মাণ করা হয়েছে।
এক্সপ্রেসওয়েটি কেবল ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, আরও থাকছে ফোয়ারা ও বিনোদনের মনোমুগ্ধকর নিদর্শন।
পশ্চিমের প্রগতি সরণি ও বিমানবন্দর সড়কের সঙ্গে পূর্বে ইস্টার্ন বাইপাসকে সংযুক্তকারী সড়কটি হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম পর্যটন স্থাপনা।
সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে গাছ লাগানো হবে। কাজ শেষে এটি হবে পরিবেশবান্ধব যানজটহীন একটি উন্নত রাস্তা। আর তাই এই মহাসড়কটিকে পরিবেশ বান্ধব এক্সপ্রেসওয়ে বলা হচ্ছে।
পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েসহ পুরো প্রকল্প সাজাতে মোট ব্যয় হচ্ছে ১৪ হাজার ৩ শত ২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। নির্মানের কাজ ৮৬ শতাংশের মতো এগিয়েছে।
২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বাকি কাজগুলো শেষ হবে বলে আশার কথা শুনিয়েছে রাজউক।
নজরকাড়া স্থাপত্য শৈলীর মনোরম দৃশ্য সংযোজিত পূর্বাচল উপশহর হবে দেশের সর্বাধুনিক নগরী। এ প্রকল্প বদলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ।
একসময়ে অন্ধকারে থাকা এই অঞ্চল গড়ে উঠবে বিজনেস ডিস্ট্রিক হিসেবে। সেইসাথে সমৃদ্ধি লাভ করবে দেশের অর্থনীতি।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)