বাংলাদেশের উন্নয়ন
কক্সবাজারে দৃশ্যমান হয়েছে আইকনিক রেলস্টেশন।
কক্সবাজারে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বমানের আকর্ষনীয় এক রেলওয়ে স্টেশন। এরইমধ্যে শেষ হয়েছে ঝিনুক আকৃতির স্টেশনটির মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ।
এখন চলছে সাজসজ্জার কাজ। ৯ সেপ্টেম্বর এক হাজার ১০০ টনের স্টিল ক্যানোপি আসবে চীন থেকে, যা স্থাপন করা হবে চলতি মাসের শেষের দিকে।
এরপরই ধীরে ধীরে রূপ পাবে ঝিনুকের আদলে বানানো দেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন।
বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ভবনের চারিদিকে গ্লাস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফায়ার ফাইটিং, স্যানিটারি আর বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ।
প্রকল্প এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকেই কাজ শুরু হয়, চলে রাত পর্যন্ত। নির্মাণ শ্রমিকদের বিশ্রাম নেওয়ারও সময় নেই। অবকাঠামো নির্মাণে ব্যস্ত তাঁরা।
বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে চলছে এই স্টেশনের কাজ।
স্টেশন সংলগ্ন ভবনটি হবে ছয় তলা বিশিষ্ট। নিচতলায় থাকবে টিকিট কাউন্টার, স্বাগত জানানোর কক্ষ, লকার, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা ও প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ। নিচ থেকে উপর পর্যন্ত থাকবে চলন্ত সিঁড়ি।
দ্বিতীয় তলায় থাকবে শপিংমল, হোটেল ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র। আর তৃতীয় তলায় থাকছে ৩৯ কক্ষের তারকামানের হোটেল। চতুর্থ তলায় রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয়।
স্টেশনটিতে থাকবে তিনটি আলাদা প্লাটফরম, যা দৈর্ঘ্যে ৬৫০ মিটার এবং প্রস্থে ১২ মিটার। গাড়ি পার্কিংয়ের তিনটি বড় জায়গাও রাখা হয়েছে।
তবে পুরো প্রকল্পটির বিশেষ দিক হলো বিশাল ঝিনুকাকৃতির স্টেশন ভবন, যার ভেতরে থাকবে মুক্তোর আকারের সুদৃশ্য গোলক।
১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের এই স্টেশন ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে ২৯ একর জমির উপর। পুরো প্রকল্পটির জন্য ব্যয় হচ্ছে ২১৫ কোটি টাকা।
ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারগামী রেলপথটি সরকারের উন্নয়নমূলক মাস্টার প্ল্যানের অংশবিশেষ। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৩ সালের জুন নাগাদ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে এখানে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
এটি পরবর্তীতে আন্তঃএশিয় রেলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে এই রেলপথ দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে সংযুক্ত হওয়া যাবে বলে দাবি করছে রেল কতৃপক্ষ।
প্রকল্পের আওতায় ১২৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হচ্ছে।
এছাড়া নির্মিত হচ্ছে চারটি বড় সেতুসহ ২৫টি সেতু। বড় সেতুগুলো হচ্ছে মাতামুহুরী নদী, মাতামুহুরী শাখা নদী, শঙ্খ ও বাঁকখালী নদীর ওপর।
চীনের দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন প্রকল্পটির কাজ করছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এর সঙ্গে যুক্ত।
এটি বাস্তবায়ন হলে ৬ লাখ মানুষ স্বল্পসময়ে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করতে পারবে। আর পর্যটন নগরীর পণ্য যাবে সারা দেশে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল শুরু হলে , সকাল বেলা কক্সবাজার গিয়ে ব্যাগ ও লাগেজ স্টেশনে রেখেই ঘোরাঘুরি শেষে রাতের ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে পারবেন পর্যটকরা।
পর্যটক পরিবহন ছাড়াও কম খরচে মাছ, লবণ, কাগজের কাঁচামাল, বনজ ও কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহন করা যাবে।
আইকনিক স্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৌন্দর্য। এখানকার মানুষের জীবনমানেও ব্যপক পরিবর্তন আসবে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)