বাংলাদেশের উন্নয়ন
যোগাযোগ ব্যবস্থা পাশাপাশি তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু অর্থনীতিতেও ভুমিকা রাখবে।
চলতি মাসের শেষে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চালু হতে পারে ছয় লেনের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু।
ইতোমধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ। এখন চলছে ফুটপাত ও লাইটিংসহ খুঁটিনাটি কাজ। সবমিলিয়ে কাজের অগ্রগতি ৯৭ শতাংশ।
ছয় লেনের এ সেতু চালু করা হলে নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরি হবে বন্দর উপজেলার। সড়ক নেটওয়ার্কে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
পদ্মাসেতুর সঙ্গে বাইপাসের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কে সংযোগ স্থাপিত হবে।
ফলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাওয়া যানবাহনকে আর ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জ শহরে ঢুকতে হবে না। এতে করে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জ শহরের ওপর যানবাহনের চাপও কমবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতুটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের সঙ্গে পদ্মা সেতুর দূরত্ব কমবে ৯ কিলোমিটার। একই সঙ্গে সিলেটগামী যানবাহনও সুফল পাবে বাইপাস সড়কটির।
সেতুটি উদ্বোধনের পর নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভুমিকা রাখবে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এটি একদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যানবাহনের যাতায়াতে সময় কমাবে, অন্যদিকে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি কমাবে। যাতায়াত সুবিধার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও সম্প্রসারণ ঘটবে।
শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর উপজেলা ও সোনারগাঁ উপজেলাকে জেলা সদর থেকে পৃথক করেছে। দুই উপজেলা থেকে জেলা সদরে যেতে কাঁচপুর ব্রিজ ব্যবহার করতে হয়।
এজন্য সড়কপথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। অথচ নৌপথে এই দূরত্ব মাত্র ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার।
সময় বাঁচাতে প্রতিদিন নৌকা ও ট্রলারে ভোগান্তি নিয়ে নদী পার হন এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। এতে প্রতিনিয়ত যেমন ভোগান্তি থাকে, তেমনি মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অনেক বেড়েছে। যার কারণে নৌকায় করে নদী পারাপার হওয়া যাত্রীদের জন্য ভীতিকর হয়ে পড়েছে।
সেতুটি চালু হলে সহজ ও নির্ভয়ে চলাচল করতে পারবেন তারা। ১.২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর নামকরণ করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমান সেতু।
৬ লেনের ব্রিজটির ৪ লেনে দ্রুত গতির যানবাহন চলবে এবং ২ লেনে চলবে রিকশা, সাইকেল ও ভ্যানসহ স্বল্পগতির যানবাহন।
এছাড়া সেতুর দুই পাশের রেলিং ঘেঁষে রয়েছে ফুটপাত। তাই পায়ে হেঁটেও নদী পাড়ি দেয়া যাবে
সেতুটিতে ৩৮টি স্প্যান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পাঁচটি নদীতে এবং ৩৩টি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে।
এ ছাড়া ছয় লেনের টোল প্লাজা এবং দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোডও নির্মাণ করা হচ্ছে।
তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু এরপরও নির্মাণকাজ শুরু হতে তিন বছর সময় লেগে যায়। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়।
কয়েক বার মেয়াদ বেড়ে সবশেষ চলতি বছরের ডিসেম্বরে সেতুটি যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল।
তবে বেশির ভাগ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হওয়ায় সময়সীমার তিন মাস আগেই এটি উদ্বোধন করা হবে। এই প্রকল্পে অর্থায়নকারী সংস্থা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকার।
এ পর্যন্ত সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় ৬০৮.৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৬৩.৩৬ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে এবং ৩৪৫.২০ কোটি টাকা এসএফডি থেকে এসেছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)