বাংলাদেশের উন্নয়ন
কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ের ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ হচ্ছে সমুদ্রের জলরাশির ওপর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাগরজল ছুঁয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা করবে এই রানওয়েতে।
সমুদ্র তলদেশে ব্লক তৈরী করে রানওয়ে স্থাপনের কাজ দেশে এবার-ই প্রথম। এমনকি ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ-ই প্রথম এধরণের স্থাপনা নির্মাণ করছে।
পরিকল্পনার শুরুতে রানওয়েটিকে শহরের দিকেই সম্প্রসারিত করার কথা ভাবা হচ্ছিল।
তবে, তা করতে গেলে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল হোটেল সহ লাবনী বিচের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল হয়ে যাবে।
যার কারণে, একে সমুদ্রের ওপরেই সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে তার ওপরে নির্মাণ করা হচ্ছে রানওয়ে।
আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার বিস্ময়কর প্রয়োগ দেখা যাবে এখানে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে হবে এটি।
বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম রানওয়েটি রয়েছে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যা ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ।
গত বছর রানওয়ের সম্প্রসারিত অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল, ইতিমধ্যে ৩৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।
পুরাতন রানওয়েতে প্রতিদিন ৪০ টির মতো ফ্লাইট ওঠানামা করছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সরাসরি অবতরণ করেছে এখানে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর, ৭৪৭-৪০০ ও এয়ারবাসের মতো উড়োজাহাজ সহজেই ওঠা-নামা করতে পারবে।
রানওয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক টার্মিনাল তৈরীর কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। এখন চলছে সাজসজ্জার পর্ব।
এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার লক্ষ্যে পূর্বের টার্মিনাল ভেংগে দুই তলা বিশিষ্ট করা হয়েছে। একসাথে ১ হাজার জন যাত্রী ধারণ করতে পারবে এটি।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে এই টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সম্পূর্ণ বিমানবন্দরের শোভা বর্ধনের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের বিমানবন্দরটিকে দেশের অন্য সকল বিমানবন্দরের চাইতে জাকজমকপূর্ণ করে তোলা হবে।
এয়ারপোর্টের বিভিন্ন স্থানে সাজসজ্জামূলক লাইটিং, রানওয়ের ওপরে আ্যপ্রোচ লাইটের ব্যবহার সহ বিভিন্ন ভাবে একে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা চলছে।
বিমানবন্দটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সে উদ্দেশ্যেই একে ঘিরে এত আয়োজন।
কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকতে রূপান্তর করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
যার মধ্যে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সবচাইতে বড় প্রকল্প। এটি চালু হওয়ার পর পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে কক্সবাজার।
বর্তমানে দেশে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। যেগুলো রাজধানী ঢাকা, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম এবং সিলেটে অবস্থিত। নির্মাণ কাজ শেষ হলে ৪র্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে নাম লেখাবে কক্সবাজার।
পূর্বে দেশের বাইরে থেকে আগত পর্যটকেরা বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে আসতেন রাজধানী ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে। নতুন এয়ারপোর্ট নির্মাণ হলে পর্যটকরা সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছাতে পারবেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে গতি আসবে অর্থনীতিতে। তারা বলেন,
" এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের ব্যবসায় গতি বৃদ্ধি হবে। আমরা কক্সবাজারবাসী দারুণ উপকৃত হব। পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।"
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)