বাংলাদেশের উন্নয়ন


মেট্রোরেলের কোন স্টেশনে কত ভাড়া!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার

মেট্রোরেলের কোন স্টেশনে কত ভাড়া!

চলতি বছরের ডিসেম্বরে নগরীর যে অংশ থেকে মেট্রোরেল প্রথম যাত্রা শুরু করবে, সেই উত্তরা নর্থ থেকে ঢাকার আগারগাঁও স্টেশনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ৬০ টাকা। 

উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও আসার পথে মেট্রোরেল অতিক্রম করবে আরও সাতটি স্টেশন। এর মাঝে উত্তরা সাউথ এবং উত্তরা সেন্টার, উভয় স্টেশনের ভাড়াই ধরা হয়েছে জনপ্রতি ২০ টাকা করে।

এছাড়াও উত্তরা নর্থ থেকে পল্লবী ও মিরপুর-১১ স্টেশনের জন্য ৩০ টাকা, কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনের জন্য ৪০ টাকা এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনের জন্য মোট ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে।

সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, মেট্রোরেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের খরচ হবে কিলোমিটারপ্রতি পাঁচ টাকা করে। 

তবে ন্যূনতম ২০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হবে সকলকেই। একজন যাত্রীর সর্বোচ্চ ভাড়া উঠতে পারে ১০০ টাকা পর্যন্ত, যা উত্তরা নর্থ থেকে মতিঝিল স্টেশনে যাবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে, মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যাতায়াতের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৩০ ও ৪০ টাকা ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে। 

আর  মিরপুর–১০ থেকে শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যারা আসতে চান, তাদের খরচ হবে মোট ৫০ টাকা। 

একই দূরত্ব থেকে সচিবালয় বা মতিঝিল পর্যন্ত যেতে লাগবে ৬০ টাকা। তবে কমলাপুর পর্যন্ত যেতে আরও ১০ টাকা বেশি ভাড়া দিতে হবে।

কোনো যাত্রী যদি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করতে চান তবে সে ভাড়ার ওপর ১০ শতাংশ ছাড় প্রদান করা হবে।

তবে প্রকাশিত এ ভাড়ার তালিকা নগরীর জনমানুষের মনে সৃষ্টি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

ঢাকা মহানগরে চলমান বিভিন্ন বাস, মিনিবাসে বর্তমানে সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ থেকে ১০ টাকা, অথচ মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা করে। 

তাই নিয়মিত বাস মিনিবাসে যারা যাতায়াত করতেন, তাদের কাছে এ ভাড়া তুলনামূলক বেশি মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

অপরদিকে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে যারা যাতায়াত করতেন, তাদের কাছে আবার এ ভাড়া বেশ সাশ্রয়ী।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, আধুনিক এই গণপরিবহনব্যবস্থা চালু করতে সরকার বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। একারণে মেট্রোরেলের পরিচালনা ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। 

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন শহরে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার মেট্রোরেল লাইন আছে। সেখানকার মেট্রোরেলগুলোতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ রুপি পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। 

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেলে থাকবে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের টিকিটের ব্যবস্থা। 

মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে স্থায়ী কার্ড কিনে সেখানে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করে ব্যবহার করা যাবে পুরো মাস কিংবা বছর। 

অন্যদিকে আরেকটি কার্ড হবে সাময়িক, যা প্রতি যাত্রায় স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা। 

মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশনে থাকবে লিফট, এস্কেলেটর ও সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার ব্যবস্থা। দ্বিতীয় তলার কনকোর্স হলে থাকবে টিকিট কাটার ব্যবস্থা। তিনতলায় থাকবে রেললাইন ও প্ল্যাটফর্ম। 

এছাড়াও সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনিয়ন্ত্রিত এই ট্রেনগুলোর অভ্যন্তর ও প্রতিটি স্টেশনই হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।



জনপ্রিয়