বাংলাদেশের উন্নয়ন
উদ্বোধনের অপেক্ষায় কালনা সেতু
পদ্মা সেতুর চালুর পর উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম ছয় লেনের কালনা সেতু। রাজধানীর ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমের ১০জেলার সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করবে এই সেতু।
দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জ,নড়াইল,যশোর,খুলনার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের সবচেয়ে বড় বাধা মধুমতি নদীর কালনার ফেরি ঘাট।
দূর্ভোগ লাগব করতে ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধুমতি নদীর ওপর কালনা সেতুর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। এরপর ২০১৮ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়।
নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়েছে কালনা সেতু। এর মাঝখানে বসানো হয়েছে ভিয়েতনামের তৈরি ১৫০ মিটার দীর্ঘ নেলসন লস আর্চ।
ছয় লেনের এ সেতুর মূল লেন থাকছে চারটি। এসব লেন দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলবে। আর বাকি দুই লেন দিয়ে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। স্থানীয় মানুষের জন্যে সেতু পারাপারে থাকছে ফুটপাতের ব্যবস্থা।
অনন্য নির্মাণশৈলীতে বানানো সেতুটি ১২টি পিলারের উপর দাড়িয়ে আছে। যার দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭.১০ মিটার। ১৩টি স্প্যান এবং ১৬০টি গার্ডারের সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে এই সেতু।
উভয় পাশে ৩০ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থের ছয় লেনের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে।
এ সেতুর পাইলক্যাপ পানির নিচে মাটির ভেতরে রয়েছে।
বর্ষায় পানি থেকে সেতুর উচ্চতা হবে ৭ দশমিক ৬২ মিটার। ফলে নিচ দিয়ে ঝুঁকি এবং বাধাহীনভাবেই নৌ-যান চলাচল করতে পারবে।
সেতুর উপরে দুইপাশে রেলিং এবং রোড মার্কিং এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে। এরপর লাগানো হবে ল্যাম্পপোস্ট। সবমিলিয়ে শতকরা ৯৮ ভাগ শেষ কাজ শেষ হয়েছে সেতুর।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের ক্রসবর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাইকার অর্থায়নে এ সেতু নির্মিত হয়েছে।
জাপানের টেককেন করপোরেশন ও ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে এ সেতুটি নির্মাণে কাজ করেছে।
পশ্চিম প্রান্ত নড়াইলের লোহাগড়া এবং পূর্ব প্রান্ত গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা পয়েন্টে কালনা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই উদ্বোধনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে। আর এই সেতু উদ্বোধনের অপক্ষোর প্রহর গুণছেন দক্ষিণ পশ্চিাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ।
কালনা সেতুর পার হতে যানবাহনকে টোল গুণতে হবে। এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে টোলের হার চূড়ান্ত করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
এক্ষেত্রে কন্টেইনার বা ভারী মালামাল পরিবহনে সক্ষম যানের টোল ৫৬৫ টাকা। বড় ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ৪৫০ টাকা। মাঝারি ট্রাক ২২৫, বড় বাস ২০৫ টাকা। ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা।
কৃষিকাজে ব্যবহারিত পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর পারাপারে দিতে হবে ১৩৫ টাকা। মিনিবাস ১১৫,মাইক্রোবাস বা পিকআপ ৯০, সেডান কার ৫৫, টেম্পো বা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ২৫, মোটরসাইকেল ১০ টাকা দিতে হবে। আর সর্বনিন্ম রিকশা বা বাইসাইকেলকে ৫ টাকা টোল দিয়ে এই সেতু পার হতে হবে।
সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে ঢাকার দুরত্ব প্রায় শত কিলোমিটার কমিয়ে দিবে। খুব সহজেই রাজধানীর সাথে যাতায়াত করা যাবে।
এছাড়া ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত আসতে আর কোনো ফেরির যন্ত্রণা থাকবে না, ফেরিমুক্ত হবে ১০টি জেলা। সেইসাথে কোলকাতার সাথে ঢাকার দূরত্ব কমে যাবে দুইশো কিলোমিটার।
এর মাধ্যমে নড়াইলের লোহাগড়ায় ইপিজেড চালু, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণসহ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে পিছিয়ে পড়া নড়াইল জেলা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।
সেতু চালু হলে এই অঞ্চলে নতুন নতুন কলকারখানা শিল্প প্রতিষ্টান স্থাপিত হবে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে এই সেতু।
সেতুটি এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। তাই সরাসরি যুক্ত করবে সিলেটের তামাবিল, ঢাকা, ভাঙ্গা, নড়াইল, যশোর, বেনাপোল হয়ে সোজা কলকাতাকে।
এই সেতু চালু হলে শুধু দেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে দারুণ সম্ভাবনার।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)