বাংলাদেশের উন্নয়ন
ডিসেম্বরে চালু হতে যাচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
ডিসেম্বরে যানচলাচলের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। বিরামহীনভাবে চলছে প্রকল্পের কাজ।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে ঢাকা-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারি-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ২০১১ সালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ হাতে নেয় সরকার।
বিমানবন্দর থেকে বনানী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত উড়াল সড়কটির দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।
বর্তমানে এই পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো রাস্তায় কেটে যায় কয়েক ঘন্টা। ঢাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে আশার সঞ্চার করেছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
বিমান বন্দর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পটি এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। উড়াল সড়কে ওঠার জন্য র্যাম্পও দৃশ্যমান হয়েছে। তার উপরে বসেছে আইগার্ডার।
বিমানবন্দর থেকে কুড়িল পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার ভায়াডাক্টের ঢালাইয়ের কাজ শেষ। এর ওপর দিয়ে ইতিমধ্যে গাড়ি চলতেও শুরু করেছে। তবে তা নির্মাণের সংশ্লিষ্টদের।
বিমানবন্দর থেকে রেললাইনের পথ ধরে এঁকেবেঁকে মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে দেশের প্রথম উড়াল সড়কটি।
এতে ওঠা-নামার জন্য প্রকল্পে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩১টি র্যাম্প থাকবে। র্যাম্পসহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াচ্ছে ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।
তিনটি ধাপে এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রথম ধাপ বিমানবন্দর থেকে বনানী স্টেশন পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। এই ধাপের অগ্রগতিই সবচেয়ে বেশি।
দ্বিতীয় ধাপ বনানী থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার। আর তৃতীয় ধাপ হচ্ছে মগবাজার থেকে চিটাগাং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার অংশ।
উড়াল সড়কটির জন্য বিমানবন্দরের কাওলা অংশটি হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে থার্ড টার্মিনালের যাত্রীরা ওঠা নামা করতে পারবেন। সেই সাথে মেট্রোরেল -১ এর যাত্রীরাও এই উড়াল সড়ক ব্যবহার করতে পারবেন।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশ চলতি বছরের ডিসেম্বরে যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে চায় কর্তৃপক্ষ।
মগবাজার থেকে চিটাগাং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত অংশ ২০২৩ সালে খুলে দিতে চায় কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হলে বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে যাত্রাবাড়ী।
এ উড়ালসড়কে যানবাহন চলবে উচ্চগতিতে, সেজন্য এখানে তিন চাকার বাহন চলতে দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পটিতে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার; বাকি টাকা দেবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। টোল আদায়ের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ হবে।
উড়াল সড়কটি ব্যবহার করতে টোল গুণতে হবে যানবাহনকে। বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসের টোল ধরা হয়েছে ১২৫ টাকা।
এক প্রান্ত থেকে উঠে যে কোনো র্যাম্প ধরে নেমে গেলে সর্বনিম্ন টোল দিতে হবে ১০০ টাকা। বাসের টোল ২৫০ ও ২০০ টাকা। ট্রাকের টোল ৫০০ ও ৪০০ টাকা। ট্রেইলারের টোল হবে ৭৫০ ও ৬০০ টাকা।
এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা ও নামার জন্য ৩১টি র্যাম থাকবে। ওঠা যাবে ১৫টি পয়েন্টে আর নামা যাবে ১৬টি পয়েন্টে।
তথ্যানুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়েটিতে ১১টি টোল প্লাজা থাকবে। যার পাঁচটিই এক্সপ্রেসওয়ের উপরে।
নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হলে নগরীর বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে একেবারে কুতুবখালী পর্যন্ত খুব স্বল্প সময়ে পৌঁছানো যাবে। এতে সময় এবং খরচ দুটোই সাশ্রয় হবে।
এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চলবে ৮০ কিলোমিটার বেগে। কোনো রকম থ্রি-হুইলার সেখানে উঠতে পারবে না।
যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হলে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট, মগবাজার, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত সড়কের ওপর গাড়ির চাপ অনেকাংশে কমে যাবে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
এতে করে জনভোগান্তিও কমবে; ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
নগরবাসীকে যানজটের কবল থেকে রেহাই দিতে মেট্রোরেল, উড়ালসড়কসহ নানা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায় করছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে ঢাকা-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)