বাংলাদেশের উন্নয়ন


দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বাড়ছে পদ্মা সেতুর প্রভাব


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বাড়ছে পদ্মা সেতুর প্রভাব

চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু!

নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন, গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্প এবং আমদানি রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এটি।

শিল্প কারখানা, মুনাফা বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেতুর কারনে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে মোংলা বন্দরে।

সেতু উদ্বোধনের পর বরিশালে স্থাপিত হয়েছে প্রথম গার্মেন্টস কারখানা। নভেম্বরে চালু হবে অটোমেটেড বোতলজাত পানির কারখানা।

নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় একদিকে যেমন ওই এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে জায়গার চাহিদাও।

তবে গ্যাস এবং কাঁচামাল সরবরাহ সুবিধা এবং দক্ষ জনবল কম থাকায় এখনো পুরোপুরি শিল্পায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

বরিশালের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে খুলনাও। সেতুর সুবাদে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়া এবং খরচ কমে আসায় এই অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের বিস্তারের পাশাপাশি মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বেড়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ্যের তথ্য মতে, সেতুর চালু হওয়ার পর জুলাই ও আগষ্ট মাসে বন্দর দিয়ে মোট ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৯২১ টন পন্য আমদানি হয়েছে। 

যার মধ্যে রিকন্ডিশন গাড়ি, গ্যাস, সার, ক্লিংকার, কয়লা, মেশিনারিজ, তেলসহ অন্যান্য পণ্যও ছিল।

অন্যান্য বছরে একই সময়ে যেখানে মাসে গড়ে ৫ লাখ টন পন্য আমদানি হত সেখানে গত দুইমাসে গড়ে ৬ লাখ টন পন্য আমদানি হয়েছে।

অন্যদিকে পদ্মা সেতুর কারনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরুত্ব ১৭০ কিলোমিটারে দাড়িয়েছে, সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরুত্ব ২৬০ কিলোমিটার।

ফলে সময় ও খরচ কম হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোংলা বন্দর দিয়ে পন্য রপ্তানি শুরু করেছে। 

বন্দরের তথ্য মতে ঢাকার ২৭ টি গার্মেন্টস জুলাই মাস থেকে বাচ্চাদের পোশাক, জার্সি-কার্ডিগান, টি-শার্ট, ট্রাউজারসহ বিভিন্ন পণ্য পোল্যান্ডে রপ্তানি করছে এই বন্দর দিয়ে।

দেশের বড় বড় মেগা প্রজেক্ট গুলোর মালামাল বিশ্বমানের এই বন্দর ব্যবহার করে আমদানি করা হচ্ছে। গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে আগে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করলেও বর্তমানে মোংলা বন্দর ব্যবহার করেই আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে আগে এই বন্দর থেকে পন্য ঢাকায় নিতে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা লাগতো, যা বর্তমানে ৩ থেকে ৪ ঘন্টায় নেমে এসেছে।

মোংলা বন্দরের মত কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরেও। আগে তুলনায় আমদানি রপ্তানি বেড়েছে সেখানে। 

আগে দৈনিক পন্য রপ্তানি হতো ৫০ থেকে ৭০ ট্রাক, যা বর্তমানে ১২০ থেকে ১৫০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আমদানির পরিমান ৩০০-৩৫০ ট্রাক থেকে বেড়ে ৪০০-৪২০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে খুলনা থেকে পন্যবাহী ট্রাক ঢাকায় পোঁছাতে সময় লাগছে মাত্র ৫ ঘন্টা, আগে যা ১২ ঘন্টা লাগতো। সময়ের পাশাপাশি আগের তুলনায় খরচের পরিমান ও কিছুটা কমেছে।

এদিকে মৎসখাতেও পদ্মা সেতুর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। খুলনা বিভাগীয় মৎস অধিদপ্তরের তথ্যমতে, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা থেকে প্রতিদিন এখন ১৪৫ থেকে ১৬০ মেট্রিকটন মাছ ঢাকায় নেয়া হয়। ফলে মাছের বিপনন ও বাজারজাত করণ অনেক সহজ হয়েছে।

মাছের মত কৃষি পন্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব লক্ষনীয়, প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টন কৃষি পন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

যাতায়াত খাতেও সেতুর প্রভাব পড়ছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। সবগুলো রুটে আগের চেয়ে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে ঢাকা পৌঁছাতে পারছেন যাত্রীরা।

সড়কপথে যাতায়াত সহজ হওয়ায় ফ্লাইটে না গিয়ে এখন সবাই বাসেই যাতায়াত করছেন। ফলে আগে থেকে ফ্লাইটের পরিমান কমিয়ে দিয়েছে এয়ারলাইন্স গুলো।

সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই আমূল পরিবর্তন আসছে আশেপাশের জেলা গুলোতে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। সব মিলিয়ে প্রভাব পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনীতির উপর।



জনপ্রিয়