বাংলাদেশের উন্নয়ন


বাস্তবায়নের পথে সরকারের যেসব মেঘা প্রকল্প


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার

বাস্তবায়নের পথে সরকারের যেসব মেঘা প্রকল্প

শীঘ্রই আলোর মুখ দেখতে চলেছে বাংলাদেশ সরকারের দশটি মেগা প্রকল্প। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে নির্মানাধীন এসব স্থাপনার কাজ। 

এক বছরের মধ্যে পাল্টে যাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের চিত্র। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

বর্তমানে দুই টার্মিনালে একসঙ্গে মাত্র ১২টি উড়োজাহাজ পার্ক করতে পারে, কিন্তু নতুন টার্মিনালে থাকবে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করার সুবিধা। 


গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এবার চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেট্রোরেলের একটি অংশ খুলে দেয়ার পরিকল্পনা চলছে। ঢাকায় মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। 

এ বছরের শেষের দিকে অর্ধেক অংশ চালু করা হবে বলে জানা গেছে। ডিসেম্বর থেকে চালু হবে উত্তরা থেকে আঁগারগাও অংশ। পরের বছর চালু হবে আঁগারগাও থেকে মতিঝিল অংশ। 


আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গত ৬ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয় বাগেরহাটের মৈত্রী পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট-১। 

এটি রামপালের ১৩২০ মেগা ওয়াটের সুপার ক্রিটিকাল কয়লা চালিত থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে স্থাপিত হচ্ছে।


পদ্মা সেতুতে গাড়ির পাশাপাশি ভবিষ্যতে চলবে ট্রেনও। রেল লাইন এবং স্টেশন তৈরী হচ্ছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। 

রাজধানী ঢাকার সাথে রেল সংযোগ যথাসম্ভব অল্প সময়ের মধ্যে চালু করতে ঢাকা থেকে মাওয়া অংশের উপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই অংশটির দৈর্ঘ্য ৩৯.৬৩ কি.মি। 

পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তেই স্টেশন, লাইন, ভায়াডাক্ট এবং রেল সেতুর নির্মাণ কাজ অরিরাম চলছে। 

চলতি বছরের বিজয় দিবসে ঢাকা-ভাঙ্গা রেললাইন চালুর কথা রয়েছে। তবে ১৭২ কি.মি. ব্যাপী ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৪ সালে।


আগামী অক্টোবরে পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হবে কর্ণফুলি টানেলের প্রথম টিউব। নভেম্বরে চালু হবে টানেলের দ্বিতীয় টিউব।

চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাইয়ের মতো "ওয়ান সিটি টু টাউন"এর আদলে তৈরী করার লক্ষ্যে, কর্ণফুলি নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে "বঙ্গবন্ধু টানেল"। 

৩.৪০ কি.মি. দীর্ঘ টানেলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারকে যুক্ত করবে। সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত  অন্যান্য কাজগুলোর অগ্রগতি বেশ সন্তুষ্টজনক।  

২৪০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগীতা করছে রাশিয়া। এতে খরচ হবে ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে।


১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েল গ্যাজ রেল লাইন ট্র্যাক নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে ৭২ শতাংশ। 


কক্সবাজারের মাতার বাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় থাকা নেভিগেশন চ্যানেল টার্নিং বেসিন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের পথে। 


নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-তেজগাঁও অংশ চলতি বছরের ডিসেম্বরে চালু হতে পারে। 

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি করবে। পাশাপাশি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ব্যবসাকেন্দ্রকে সংযুক্ত করবে। 

এরমাধ্যমে যানজট যেমন কমবে, তেমনি নগরবাসীর জন্য আরামদায়ক ও সুবিধাজনক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠবে। 


সোয়া ৬ হাজার কোটি টাকার জয়দেবপুর-চন্দ্রা-এলেঙ্গা মহাসড়ককে চার লেনে পরিণত করার কাজ প্রায় শেষ। মহাসড়কটির উভয় পাশে নির্মিত হবে পৃথক সার্ভিস লেন। 


এছাড়া ২০২৩ সালে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হবে। দুই পাশে থাকবে সার্ভিস লেন। 



জনপ্রিয়


বাংলাদেশের উন্নয়ন থেকে আরও পড়ুন

পলি নেট হাউজ কৃষক ফজলুল হককে এনে দিয়েছে ব্যাপক সফলতা

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে পলি নেট হাউজ গড়ে তোলে কৃষক ফজলুল হকের ব্যাপক সফলতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মেট্রোরেলে ভাড়া ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন উপাচার্যসহ শিক্ষকরা

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাকসুদ কামাল মনে করেন, মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া কিছুটা কমিয়ে দেয়া উচিত। তারা টিএসসি স্টেশন থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশনে যান।

কক্সবাজারে সাগরের বুকে রানওয়ে! চলতি বছরেই উঠানামা করবে বিমান

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চীনা কোম্পানি জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তারা বাকি অংশের কাজও সম্পন্ন করতে চাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে, ডিসেম্বরের মধ্যেই সমুদ্রের বুকে থাকা রানওয়েতে চলাচল করতে পারবে উড়োজাহাজ।

রূপপুর যেন বাংলাদেশের মাঝে এক টুকরো রাশিয়া!

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে গ্রামের চেহারা। প্রকল্পের কাজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে থাকে একের পর এক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।