বাংলাদেশের উন্নয়ন


২০২৩ সালের জুনে পদ্মা সেতুতে চলবে ট্রেন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার

২০২৩ সালের জুনে পদ্মা সেতুতে চলবে ট্রেন

২০২৩ সালের জুনে এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চালুর লক্ষ্যে সেতুর রেল সংযোগের কাজ এগিয়ে চলছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত নতুন রেল লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুকে ঘিরে দেশের রেল নেটওয়ার্ক বদলে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত এই রেলপথের দৈর্ঘ্য ১৭২ কিলোমিটার। এর কিছু অংশ হবে উড়াল রেলপথ, যা দেশের প্রথম। 

এরই মধ্যে পদ্মা সেতুতে শুরু হয়েছে রেলপথ বসানোর কাজ। সেতুর স্প্যানের ভেতরে রেলপথ স্লাবের ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে পাথরবিহীন এই রেলপথ।

মূল সেতু আর দুইপাশে ভায়াডাক্ট মিলে ৬ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রেলপথ বসানোর কাজ এগিয়ে চলছে।

সময়মতো বাস্তবায়নে এই প্রকল্পকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার প্রথম অংশ ঢাকা থেকে মাওয়া, দ্বিতীয় মাওয়া থেকে ভাঙ্গা এবং তৃতীয় অংশটি ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত হবে। 

যশোর পর্যন্ত দীর্ঘ এই রেলপথের কোথাও থাকবে না কোনো লেভেল ক্রসিং। ফলে কোন রকম বাধা ছাড়াই সর্বোচ্চ গতি নিয়ে ট্রেন এই পথ দিয়ে ছুটে যাবে। 

প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করা হচ্ছে রেলপথজুড়ে। পদ্মা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী নদীর ওপরে নির্মিত হচ্ছে রেলসেতু। 

নিচু জমিসহ নানান কারণে ২৩ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার রেলপথ হচ্ছে এলিভেটেড। মোট তিনটি ভাগে উড়াল রেলপথ নির্মিত হচ্ছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ২০টি স্টেশন থাকছে। এরমধ্যে ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ ও ৬টি বিদ্যমান স্টেশন উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এরমধ্যে মাওয়া, পদ্মা, ভাঙ্গা হবে আইকনিক স্টেশন। যার নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নির্মিত হচ্ছে একটি রেলজংশন। এই জংশন থেকেই একদিকে যশোরে পথে রেললাইন যাচ্ছে। অন্যদিকের পথটি যাচ্ছে ফরিদপুরের দিকে। আর বরিশাল হয়ে কুয়াকাটায় রেললাইন যাওয়ার কথাও রয়েছে। 

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ ২০২৩ সালের জুন মাসে খুলে দিতে কাজ চলছে।

রেললাইনে কোন ধরনের রেলক্রসিং থাকছে না- সেকারনে সড়ক বা মহাসড়ক অতিক্রমের জন্য ওভারপাস নির্মিত হচ্ছে। 

পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পের আওতায় ৪৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার লুপ ও সাইডিং লাইন থাকছে, ৫৯টি মেজর সেতু, ২৭৬টি মাইনর সেতু, কালভার্ট ও আন্ডারপাস নির্মিত হচ্ছে।

ভাঙ্গা-যশোর প্রান্তে ৩১টি প্রধান সেতুর মধ্যে ১১টির কাজ সমাপ্ত হয়েছে, বাকি ২০টির কাজও প্রায় শেষের পথে। 

ভাঙ্গা জংশন থেকে গোপালগঞ্জের মকসুদপুর পর্যন্ত রেললাইন তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। 

যশোর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ শেষে এরই মধ্যে রেললাইনের জন্য নির্ধারিত পথে মাটি ভরাট করা হয়েছে।

রেলপথের সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি ৬২ শতাংশ, মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পযন্ত ৮১ শতাংশ। ভাঙ্গা-যশোর অংশের অগ্রগতি ৫১ শতাংশ।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীনের ঋণ ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ এবং সরকারি অর্থায়ন ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

পদ্মা সেতুর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হয়েছে তেমনি দেশের মানুষের জীবন পাল্টে গেছে। এতে করে পাল্টে যাচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। 

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক-চতুর্থাংশ মানুষ ও দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিপুল অবদান রাখবে এই রেল যোগাযোগ। 

পদ্মা সেতু দিয়ে রেল চলাচল শুরু হলে অল্প সময়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়া ছাড়াও কৃষি, শিল্পসহ অন্যান্য পণ্য খুব সহজেই আনা নেয়া করা যাবে। 

এতে করে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আসবে। এই রেললাইনও দেশের মানুষের ভাগ্যের চাকা এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।










জনপ্রিয়