বাংলাদেশের উন্নয়ন
একইদিনে উদ্বোধন হবে আরো দুইটি বড় সেতু
একইদিনে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু উদ্বোধন করে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার একইদিনে উদ্বোধন হচ্ছে মধুমতি নদীর কালনাঘাট পয়েন্টে নির্মিত মধুমতি সেতু এবং শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত নাসিম ওসমান সেতু। এর মধ্যে মধুমতি সেতুটি ছয় লেন বিশিষ্ট, যা দেশের ইতিহাসে এই প্রথম।
আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুটি সেতুই উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই উপলক্ষে আনন্দ বিরাজ করছে সেতুর নিকটবর্তী দুটি অঞ্চলে। এর আগে দুইটি সেতু উদ্বোধনের জন্য পৃথক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
নারায়নগঞ্জে অবস্থিত তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটি ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই সেতুর বাতি লাগানো, অ্যাপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজাসহ সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে আগেই। এটির নামকরণ করা হচ্ছে প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের নামে। ইতিমধ্যে ‘নাসিম ওসমান সেতু’ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেতু বিভাগ।
বিগত ২০১০ সালে একনেকের সভায় ৩৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছিলো। যার মধ্যে ৩১২ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে যোগান দেয়ার চুক্তি হয়েছিলো সৌদি উন্নয়ন তহবিল এর সাথে।
এরপর অর্থায়ন কারী সংস্থার সাথে জটিলতার কারণে সেতুটির নির্মান কাজ শুরু হয় আরো সাত বছর পর। এ কারণে ৩৭৭ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রকল্পটির ব্যয় দাড়ায় ৬১০ কোটি টাকায়।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন হবার পর আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে এটি চালু করার কথা ছিলো। সেই মোতাবেক নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হবার আগেই চালু হচ্ছে নারায়নগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু।
এটি চালু হবার ফলে চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের সাথে ঢাকা থেকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে আরো। একসাথে দেশের দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলের যানবাহন নারায়ণগঞ্জ শহরে না ঢুকেই পদ্মা সেতু হয়ে যেতে পারবে।
অপরদিকে গোপালগঞ্জ ও নড়াইলের সীমান্তে মধুমতির নদীর উপর নির্মিত কালনা সেতু ছিলো দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। যা আগামী সোমবার উদ্বোধনের পর খুলে দেয়া হবে যানবাহনের জন্য। সম্প্রতি এটির নাম করন করা হয়েছে মধুমতি সেতু হিসাবে।
দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে নির্মিত মধুমতি সেতুর পূর্ব প্রান্তে রয়েছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা রয়েছে পশ্চিম প্রান্তে। দেশের ইতিহাসে প্রথম ছয় লেনের সেতু হিসাবে চালু হতে যাচ্ছে এটি।
ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে মূল সেতু এবং সংযোগ সড়কের কাজ। এছাড়া ল্যাম্পপোস্ট বসানো এবং টোল প্লাজার বুথ তৈরির কাজ ও সম্পন্ন হয়েছে। আজ উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে এটি।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতু নির্মানের জন্য ২০০৮ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর ২০১৫ সালে এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের অন্যতম দৃষ্টি নন্দন সেতু হতে যাচ্ছে কালনাঘাটে নির্মিত মধুমতি সেতু। এটির
মাঝখানে বসানো হয়েছে স্টিলের তৈরি ১৫০ মিটার লম্বা স্প্যান। ধনুকের মতো বাঁকানো এই স্প্যান তৈরি হয়েছে ভিয়েতনামে। মাঝের এই স্প্যানের উভয় পাশে রয়েছে কংক্রিটের তৈরি গার্ডার।
দেশের সবচেয়ে বড় পদ্মা সেতু চার লেনের হলেও মধুমতি নদীর উপর নির্মিত এই সেতু ছয় লেন বিশিষ্ট। এর মধ্যে চারটি মূল লেনে চলাচল করবে দ্রুতগতির যানবাহন। এছাড়া বাকি দুই লেন রাখা হয়েছে কম গতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য।
এশিয়ান হাইওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে ছয় লেনের এই সেতু। এটির প্রায় ৬৯০ মিটার লম্বা এবং ২৭ দশমিক ১০ মিটার চওড়া। সেতুর উভয়পাশে রয়েছে ৪ দশমিক ২৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে হবে ৯৫৯ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য মতে, এই সেতু চালু হলে বেনাপোল স্থলবন্দর নড়াইল যাতায়াতকারী পরিবহন দৌলতদিয়া -পাটুরিয়ার পরিবর্তে কালনা হয়ে পদ্মা সেতু যেতে পারবে। ফলে বেনাপোল থেকে ঢাকার দূরত্ব কমে আসবে অনেকটাই। এছাড়া এই সেতুর কারণে খুলনা থেকে ঢাকার দূরত্ব ১২১ কিলোমিটার এবং নড়াইল থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৮১ কিলোমিটার কমবে। সব মিলিয়ে দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে নবনির্মিত এই সেতুটি।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)