বাংলাদেশের উন্নয়ন
একসাথে ১০০ সেতু উদ্বোধন করে চমক দেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
এবার একযোগে ১০০ টি সেতু উদ্বোধন করে চমক দেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। চলতি অক্টোবর মাসেই সারা দেশে ১০০টি সেতু চালু হবে জানিয়েছেন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী- ওবায়দুল কাদের।
এছাড়া আংশিক ভাবে ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন সিক্স এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এ বছরের শেষে উদ্বোধন করা হবে। গত ১৬ অক্টোবর সচিবালয়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী।
ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত তোড়জোড় শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ১০০ সেতুটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংস্থাটি।
গত সপ্তাহে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতিমূলক সভা। যাতে ১০০ টি সেতু উদ্বোধন এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া একযোগে ১০০ সেতু উদ্বোধনের জন্য কমিটিও গঠন করা হয়েছে এই বৈঠকে।
বিস্তারিত তথ্যের মধ্যে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে শতাধিক সেতু। মাঝারি এবং ছোট আকৃতির এসব সেতু পরিদর্শনের জন্য গঠন করা হয়েছে আটটি পরিদর্শক টিম। বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব সেতু পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে । এরপর পরিদর্শক দলের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি এবং সময় দেয়া সাপেক্ষে একযোগে উদ্বোধন করা হবে ১০০ টি সেতু।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন গনমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতু গুলোর মধ্যে কয়েকটি নির্মান করা হয়েছে অনেক আগে, এসব সেতুর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অপরদিকে কিছু সেতুর নির্মান কাজ ছিলো শেষ পর্যায়ে। এগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কিনা তাও বিবেচনা করতে হবে। এসব বিষয় সমাধানের জন্য পরিদর্শক টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পেলে পরিস্কার হবে সবকিছু।
সারাদেশে ১০০টি সেতু একযোগে উদ্বোধনের জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তবে তারিখটি এখনো চূড়ান্ত নয়। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেখানে সম্ভাব্য তারিখ হিসাবে ২৯ অক্টোবর প্রস্তাব করা হবে। যা প্রয়োজনে পরিবর্তন হতে পারে।
এক যোগে উদ্বোধন হতে যাওয়া দেশের ১০০টি সেতুই নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন জেলা, আঞ্চলিক এবং জাতীয় মহাসড়কে। জানা গেছে এর মধ্যে ৫০ টি সেতুই চট্টগ্রামে অঞ্চলে অবস্থিত। তবে নির্বাচিত সেতুগুলোর সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য এখনো জানা যায়নি।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১০০ টি সেতুর তালিকায় কোন কালভার্ট রাখা হয়নি। নির্বাচিত সব কয়টি সেতুর নিচ দিয়ে থাকবে নৌযান চলাচলের পথ। সাধারণত ছোট আকারের ব্রিজকে কালভার্ট বলা হয়, যেগুলোর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা থাকে না।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর এক সাথে নড়াইলের মধুমতি সেতু এবং নারায়নগঞ্জের নাসিম ওসমান সেতু উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় চলতি মাসে আরো ১০০ টি সেতু চালু করার কথা জানিয়েছিলেন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ইতিহাসে এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে চলতি ২০২২ সাল। এ বছরের জুন মাসে উদ্বোধন করা হয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দেশের অন্যতম বড় মেগা প্রজেক্ট- পদ্মা সেতু। বর্তমানে যার সুফল ভোগ করছেন দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল সহ সারা দেশের মানুষ।
চলতি বছরের শেষ দিকে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আরেকটি মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল। অপরদিকে ঢাকা মেট্রোরেলের একটি অংশও এ বছরের শেষ দিকে চালু হবার কথা রয়েছে।
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)