বাংলাদেশের উন্নয়ন
দীর্ঘ ১৬ বছর পর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে সুরমা সেতু
দেড় দশকেরও বেশি সময় পর উদ্ভোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের 'সুরমা সেতু'। নানা চড়াই উতরাই পার করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর অবশেষ হয়েছে সেতুর নির্মাণ কাজ।
এখন নির্দিষ্ট সময়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার প্রচেষ্টায় দিনরাত চলছে এর কর্মযজ্ঞ। শেষ সময়ে চলছে ফিনিশিং এর কাজ। আগামী ২৯ অক্টোবরের পর এই সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল করবে।
গত জুন মাসে সেতুটির উদ্বোধনের কথা থাকলেও সিলেটের ভয়াবহ বন্যার কারণে তা সম্ভব হয় নি। শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যার স্রোতে সংযোগ সড়ক ভেঙে পানিতে ভেসে যায়। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এবং নিম্নমানের কাজের কারণে ভেঙে যায় এটি।
বর্তমানে সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কের ভাঙা ৫ টি স্থানে ১০৮ টি রিং বসানো হয়েছে। পরবর্তীতে এখানে স্থায়ীভাবে কালভার্ট বসানো হবে।
ছাতকের সুরমা ব্রিজ ছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ, ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে আরও নয়টি সেতু উদ্বোধন হবে ২৯ অক্টোবর। এ দিন সারাদেশে ভার্চুয়্যালি ১০০ টি সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।
বেশ কিছুদিন আগেই সুরমা সেতুর মূল নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর দুই পারের ২.৬০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ছাতকে ১.৬০ কিলোমিটার এবং দোয়ারাবাজারে আটশ মিটার রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষের পর্যায়ে।
এ নদীর উপর সেতু নির্মাণের প্রথম পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট সুরমা নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।
তখন গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে কাজ হাতে নেওয়া হয়। বাস্তবায়নের জন্য তিন বছর সময় বেধে দেওয়া হয়েছিলো।
কিন্তু এক বছরে ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে সেতুর চারটি পিলার নির্মাণের পরে অ্যাপ্রোচ ও নেভিগেশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ২০০৭ সালেই বন্ধ হয়ে যায় এই কাজ।
দীর্ঘ ১২ বছর সুরমা নদীতে দাড়িয়ে থাকা এই ৪ টি স্তম্ভ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছিলো।
২০১০ সালে এই সেতু বাস্তবায়নে ৫১ কোটি টাকার বাজেট পাশ করে সরকার। পরে ২০১৬ সালে সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য ১১৩ কোটি টাকার নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
সেতুর উভয় পাশের ভূমি মালিকরা বাজার দরের চাইতে তিন গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করে ১৭ টি মামলা দায়ের করে। ফলে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এর কাজ পুনরায় শুরু হয়।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ কমিয়ে আনবে এই সেতু। এর ফলে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মধ্যে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদিত পণ্য সড়ক পথে দ্রুত পরিবহনের সুবিধা পাবে মানুষ।
শিল্পাঞ্চল ছাতকে ভারী ও মাঝারি আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সিলেটসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে লাভবান হবে কৃষকরাও।
এছাড়াও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যেও একটি নতুন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হবে ছাতক। ফলে অর্থনৈতিক বিপ্লব আসবে এ অঞ্চলে। দুটি উপজেলার প্রায় সাতলাখ মানুষের জীবনের ধারাকে পাল্টে দেবে এই সেতু।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)