বাংলাদেশের উন্নয়ন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ
দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর কাজ। ইতোমধ্যে চারটি স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর ৪৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে সেতুটি।
গত ১৯ সেপ্টেম্বের বসানো হয় প্রথম স্প্যান।
রেল বিভাগের তথ্য মতে, ডুয়েল গেজ ডাবল-ট্র্যাকের এ সেতুটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু। ৫০টি পিলারের উপর ৪৯টি স্প্যানে তৈরি হচ্ছে এটি।
৫০টি পিলারের মধ্যে ৩৬টি পিলারের কাজ বিভিন্ন মাত্রায় কমবেশি এগিয়ে চলেছে। সেতুর পূর্ব পাশে ইতোমধ্যে ১২ পিলারের কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজও চলমান রয়েছে।
দেশে চলমান বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম এ প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন প্রযুক্তির লোহা আর কংক্রিট। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা বিশেষ ধরনের বড় বড় স্টিলের পাটাতন দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্প্যানগুলো।
নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কাঠামোতে আলাদাভাবে রং করার প্রয়োজন হবে না, এটি সেতুকে করবে টেকসই এবং মজবুত।
আগামী ১০০ বছরেও সেতুর কাঠামোয় মরিচা ধরবে না। ওয়েদার স্টিল দিয়ে তৈরি হওয়ায় আবহাওয়া বদলের সঙ্গে সঙ্গে গার্ডারের রংও বদলে যাবে নিজে থেকেই।
যমুনা নদীর ওপর রেলসেতুটি নির্মাণ হলে সারা দেশের সাথে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আরো সহজ হবে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি ও রেল একসাথে চলছে। রেল সেতুটি নির্মিত হলে বঙ্গবন্ধু সেতুর ঝুঁকি কমবে।
১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পরই ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপন হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তর লেনে প্রথম ফাটল দেখা দেয়।
পরে ফাটলটি দক্ষিণ লেনেও ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করা ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে দেওয়া হয়।
বর্তমানে মাত্র ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হওয়ায় হচ্ছে সময়ের অপচয়। এতে শিডিউল বিপর্যয় বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য যমুনা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
নতুন সেতুতে দুটি লাইন থাকবে। যেটি চালু হলে ডাবল লেনে একসঙ্গে দুটো ট্রেন দুদিকে চলে যেতে পারবে। প্রতিদিন ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে এতে।
নির্মান কাজ শেষ হলে প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারবে। এমনকি শিডিউল বিপর্যয় কমাতেও এ সেতু সহায়তা করবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
এটি রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ ও উন্নত করবে। যার কারণে উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অপার সম্ভাবনা দেখছেন প্রকল্পের কর্তারা। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থাও সহজ হওয়ার কারণে কমবে পন্য আনা নেয়ার খরচ।
এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু ও রেল সেতুর পশ্চিমেই গড়ে উঠছে সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন ও বিসিক শিল্প পার্ক। এখানে উত্তর জনপদের ৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ইতোমধ্যে এসব অঞ্চলে শিল্প কারখানা স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশী-বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তারা।
বঙ্গবন্ধু রেল সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭শ কোটি টাকা। বেশিরভাগ কাজই হচ্ছে জাপানের অর্থায়নে। তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও সেতু নির্মাণে সাহায্য করছে।
১২ হাজার কোটি টাকার বেশি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন বা জাইকার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাবে বাংলাদেশ। বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার
২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতুটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। মেয়াদের মধ্যেই বুঝিয়ে দিতে সংশ্লিষ্টরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোদমে।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)