বাংলাদেশের উন্নয়ন


দেশে আসলো পদ্মা সেতুর ১৫ টি ট্রেন কোচ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার

দেশে আসলো পদ্মা সেতুর ১৫ টি ট্রেন কোচ

স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে চলাচলের জন্য ১৫ টি ট্রেন কোচ দেশে এসে পৌছেছে। 

দেশের সবচেয়ে বড় এ সেতুর রেল প্রকল্পের জন্য মোট ১০০ টি কোচ আমদানি করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ১৫ টি দেশে পৌছেছে।  

গত রবিবার ট্রেনের কোচ গুলো চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা জাহাজ থেকে খালাস করা হয়েছে। এরপর সেগুলো রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের হালিশহরে অবস্থিত  রেলওয়ের চিটাগং গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী। গনমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের আওতায় ব্রডগেজ ট্রেন কোচ আনা হচ্ছে চীন থেকে। 

পর্যায়ক্রমে মোট ১০০ টি কোচ আমদানি করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ১৫ টি কোচ দেশে এসে পৌছেছে। এসব কোচ দিয়েই ট্রেন চলাচল করবে পদ্মা সেতুর রেললাইনে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক গনমাধ্যমের কাছে জানান, চীন থেকে আমদানি করা কোচ গুলো গত শনিবার চট্টগ্রাম এসে পৌছায়। এরপর রাতেই সেগুলো খালাস করার কাজ শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

বর্তমানে চিটাগং গুডস পোর্ট ইয়ার্ড- এ থাকা এসব কোচ প্রথমে টঙ্গিতে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর এগুলো পৌছানো হবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। 

সেখানে কোচগুলো পরীক্ষামূলক ভাবে  চালানো হবে বলে জানিয়েছেন রেলের একজন কর্মকর্তা। 

দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয় গত ২৫শে জুন তারিখে। এর পরদিন থেকেই সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। 

প্রাথমিক ভাবে একই দিনে রেললাইন চালুর পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু রেললাইন বসানো সহ অন্যান্য কাজ বাকি থাকায় চালু করা পিছিয়ে যায়। 

বর্তমানে পদ্মাসেতুর রেললাইনের কাজ দ্রুতগতি তে এগিয়ে চলছে। আগামী বছর জুনেই রেললাইন চালু করার লক্ষ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। 

দেশের সবচেয়ে বড় এ সেতুর রেল প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছিলো ২০১৬ সালে। তবে কাজ শুরু হয়েছে দুইবছর পর ২০১৮ সালে।

 আগামী ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। তবে এর আগেই রেল চলাচল শুরু করতে চায় কর্তৃপক্ষ। 

বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৩ টি জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় রয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে সারাদেশে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। 

এই পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ঢাকা–যশোর-পদ্মা সেতু রেললিংক প্রকল্প। 

কারন বর্তমানে পুরো বরিশাল বিভাগে কোন রেল যোগাযোগ নেই। পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা যশোর রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে বরিশালের সাথেও রেল যোগাযোগ সহজ হবে। 

অন্যদিকে বর্তমানে ঢাকা থেকে খুলনার দুরত্ব ৩৮১ কিলোমিটার। কিন্তু পদ্মা সেতুর রেললাইন চালু হলে ঢাকা থেকে খুলনার দুরত্ব ২১২ কিলোমিটার কমবে। 

এখন আন্তনগর ট্রেনে ঢাকা থেকে খুলনা যেতে সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা। পদ্মা সেতু রেললাইন চালুর পর এই পথ চার ঘন্টায় পাড়ি দেয়া সম্ভব। 

নতুন এই রেলসেতুতে মালবাহী ট্রেন ও চালানো যাবে। এছাড়া দুইতলা মালবাহী ট্রেন চালানোর ও সুযোগ রাখা হয়েছে নকশায়। 

সব মিলিয়ে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দারুণ এক মাইলফলক হবে এই রেললাইন।  যা চালু হলে দেশের জিডিপি এক শতাংশ বাড়বে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। 



জনপ্রিয়