বাংলাদেশের উন্নয়ন
পদ্মা সেতু দূর করছে দেশের জ্বালানি সংকট
শুধু ঢাকার সাথে দক্ষিনাঞ্ছলের যোগাযোগ সম্পন্ন করেই শেষ হয়নি পদ্মা সেতুর কার্যকারিতা। প্রকল্পটির অধীনে নির্মিত ৭ টি টাওয়ারের মাধ্যমে এবার দূর হচ্ছে ঢাকার বিদ্যুৎ সংকট।
চলতি সপ্তাহে পায়রা এবং রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে টাওয়ার গুলোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উতপাদিত বিদ্যুৎ গোপালগঞ্জ এবং পদ্মা সেতু হয়ে যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে।
১০০০ একর জমির উপর পটুয়াখালিতে প্রায় বিলিয়ন ডলার খরচ করে নির্মান হওয়া পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানিজ্যিক ভাবে বিদ্যুৎ উতপাদন শুরু করে ২০২০ সালে।
বর্তমানে প্রকল্পটিতে ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি আলাদা ইউনিট চলমান রয়েছে। সঞ্ছালন লাইনের অভাবে এতদিন এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না পুরো দেশে।
তাই পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধীনে পদ্মা নদীর তলদেশে নির্মান করা হয় ৩৬ টি পাইল। সেগুলোর উপর এখন বসানো হয়েছে ১২৬ মিটার উচু সাতটি টাওয়ার।
সেই টাওয়ারগুলো ব্যবহার করে ঢাকার আমিনবাজার থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত গত পনেরই ডিসেম্বর চালু হয়েছে নতুন সঞ্ছালন লাইন।
ফলে এখন চাইলেই যেকোন সময় ১৩২০ মেগাওয়াট অর্থাৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতার পুরোটা উৎপাদন করে ঢাকা সহ পুরো দেশে সরবরাহ করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের তথ্য মতে আপাতত পদ্মা রিভার ক্রসিং লাইন ব্যবহার করে ঢাকায় পাঠানো হবে আটশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, বাকিটা যাবে বরিশালে।
দেশের প্রথম পরিবেশ বান্ধব এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তেরশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দৈনিক প্রায় তের হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়।
বিপুল এই কয়লার সংস্থান হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। অপরদিকে একই চ্যানেল ব্যবহার করে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ও যুক্ত করা হয়েছে জাতীয় গ্রিডে।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় আলোচিত মেগাপ্রজেক্ট। বাগেরহাট পশুর নদীর তীরে নির্মানাধীন প্রকল্পটির কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
তবে দেশে চলমান জ্বালানী সংকটের সমাধানে অনেকটা তাড়াহুড়া করেই চলতি বছরের আগষ্টে প্রথম বারের মত পরীক্ষামুলক উতপাদনে যায় প্রকল্পটির একটি ইউনিট।
বর্তমানে চালু থাকা সেই ইউনিটে দৈনিক উৎপাদন হয় ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই ইউনিটে রয়েছে ২৩০ কেবি এবং ৪০০ কেবির দুটি লাইন।
বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু না হলেও ২৩০ কেবির লাইনটি ব্যবহার করে এতদিন এই কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল খুলনা বিভাগে।
দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষনে কোন সমস্যা দেখা না দেওয়ায় ৪০০ কেবির লাইনটি ব্যবহার করে এখন ঢাকার আমিনবাজার সাব স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
১৭ই ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে রামপালে নির্মানাধীন অপর ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে আগামী বছরের জুনে।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর থেকে বারে বারে আলোচনায় এসেছে এর পরিবেশগত হুমকির কারনে।
তাই সুন্দরবনের একদম পাশেই নির্মিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশ গত ঝুকির উপর কড়া নজরদারি রেখেছে জাতীয় পরিবেশ অধিদফতর।
তাদের মতে কেন্দ্রটির ফলাফল এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, নতুন দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় দূর হবে ঢাকা সহ পুরো দেশের জ্বালানী সংকট।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)