বাংলাদেশের উন্নয়ন


২০২২ সালে বাংলাদেশের যতো উন্নয়ন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার

২০২২ সালে বাংলাদেশের যতো উন্নয়ন

ক্যালেন্ডার থেকে বিদায় নিচ্ছে ২০২২ সাল। বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে এ বছরটি অন্যতম মাইলফলক হয়ে থাকবে। 

পুরো বছর জুড়েই চালু করা হয়েছে বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প থেকে শুরু করে একদিনে সবচেয়ে বেশি সেতু উদ্বোধন করার রেকর্ডও হয়েছে ২০২২ সালে। 

গত কয়েক বছর ধরেই পদ্মাসেতুর প্রতীক্ষায় ছিলো পুরো দেশ। ২০২১ সালের শেষ দিক  থেকেই পদ্মাসেতু উদ্বোধন নিয়ে শোনা যাচ্ছিলো নানা খবর। 

অবশেষে চলতি বছরের ২৫ জুন পদ্মাসেতুর উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরদিন থেকেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয় দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতু। 

৩০ হাজার কোটি টাকা খরচে নির্মিত পদ্মা সেতু ছিলো বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। শুরুতে অর্থায়নে সম্মতি দিয়েও পরে তা  বাতিল করে বিশ্বব্যাংক।  এরপর নিজস্ব অর্থায়নে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

গত ২৫ জুন এই সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে উৎসবে মেতেছিলো পুরো দেশ। এই অর্জন উপলক্ষে বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানায় বিশ্বব্যাংক সহ বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা। 

এদিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত দেশের প্রথম টানেলের কাজ একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত নভেম্বর মাসে কর্ণফুলী টানেলের একটি টিউবের কাজ সম্পুর্ণ হয়েছে। এছাড়া অন্য টিউবের কাজও ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবার কথা। 

আগামী বছরের শুরুর দিকেই চালু হবে দেশের প্রথম নদীর তলদেশে নির্মিত এই যোগাযোগ টানেল। কর্ণফুলী টানেলের মূল অংশের দৈর্ঘ ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। এছাড়া সংযোগ সড়কসহ  সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার।

টানেলটি চালু হলে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত এরকম বিশালাকার টানেল আগে শুধু ইউরোপ আমেরিকার মতো উন্নত দেশে দেখা যেতো। কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে এই এলিট ক্লাবে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। 


এদিকে ২০২২ সালেই  বিদ্যুৎ–চালিত মেট্রোরেল যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকায় নির্মিত দেশের প্রথম মেট্রোরেল চালু হচ্ছে ২৮ ডিসেম্বর।  

এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করবেন দেশের অন্যতম বড় এই মেগাপ্রকল্প।  এরপর ২৯ ডিসেম্বর থেকে সাধারণ যাত্রীরা চড়তে পারবেন বিদ্যুৎ চালিত অত্যাধুনিক মেট্রোরেলে। 

২০১২ সালে হাতে নেয়া হয় ঢাকার উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প। তবে সম্পুর্ণ প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২৮ ডিসেম্বর চালু হবে মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। 

এছাড়া আগামী বছর মেট্রোরেল চলবে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল পর্যন্ত।  আর ২০২৫ সালে চালু হবে উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্পুর্ণ এমআরটি লাইন সিক্স। এই মেগাপ্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। 

চলতি বছরের ১০ অক্টোবর নড়াইলের মধুমতি নদীর উপর নির্মিত মধুমতি সেতু এবং নারায়নগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত নাসিম ওসমান সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।  

দুটি সেতুই স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এরমধ্যে নড়াইলের মধুমতি সেতুটি দেশের ইতিহাসে প্রথম ছয়লেন বিশিষ্ট যোগাযোগ সেতু। দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে তৈরি এই সেতুর দৈর্ঘ ৬৯০ মিটার। যা বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ৯৬০ কোটি টাকা। 

অন্যদিকে নারায়নগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমান সেতুর দৈর্ঘ ১ দশমিক ২৯ কিলোমিটার।  এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকার বেশি। 

চলতি বছরের ৭ নভেম্বর দেশের উন্নয়ন ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। এদিন একযোগে দেশের ২৫ জেলায় ১০০টি সেতু উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

১০০টি সেতুর সব কয়টিই ছিলো নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত।  এর মধ্যে দেশের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি তে উদ্বোধন করা হয় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সেতু। 








জনপ্রিয়