বাংলাদেশের উন্নয়ন


মেট্রোরেলে থাকবে যেসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার

মেট্রোরেলে থাকবে যেসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি

২৮ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত এসব ট্রেনে এমন সব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রাখা হয়েছে, যা এর আগে কখনো বাংলাদেশের গনপরিবহণে দেখা যায়নি। 

মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক ট্রেন গুলো চলাচল করবে সম্পুর্ণ অটোমেটিক প্রযুক্তিতে। ট্রেন কোথায় কোথায় থামবে, কোন স্টেশনে কতক্ষন অবস্থান করবে, চলার গতিই বা কিরকম হবে, এর সবকিছু থাকবে পূর্ব নির্ধারিত।  

এজন্য উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও রেললাইনের প্রতি দুই/তিনশো কিলোমিটার পরপর স্থাপন করা হয়েছে রেডিও এন্টেনা। 

প্রতিটি ট্রেনের মধ্যেও আছে চারটি করে এন্টেনা। এসব এন্টেনার মাধ্যমে ট্রেন এবং কনট্রোল সেন্ট্রালের মধ্যকার যোগাযোগ চালু থাকবে। 

ট্রেন পরিচালনার জন একজন চালক থাকবেন ট্রেনের ভেতরে। এছাড়া স্টেশনে থাকবেন একজন কন্ট্রোলার। তবে ট্রেন অটোমেটিক ভাবেই চলাচল করবে। তারা শুধু পর্যবেক্ষন করবেন অটোমেটিক নির্দেশনা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। 

অত্যাধুনিক এসব ট্রেন সব  সময় থামার জন্য  নির্ধারিত স্থান থাকবে। স্টেশনের যে জায়গায় ট্রেন থামার কথা, ঠিক সেখানে গিয়েই ট্রেন থামবে। এরচেয়ে অর্ধফুট জায়গাও কম বেশি হতে পারবে না। কারণ মেট্রোরেল এমন জায়গায় থামবে যেখানে ট্রেন এবং প্লাটফর্মের দরজা হবে একই বরাবর। 


মেট্রোরেলে টিকেট এবং ভাড়া সবকিছুই হবে কম্পিটারাইজড। ট্রেনে নিয়মিত চড়ার জন্য সাপ্তাহিক মাসিক কিংবা পারিবারিক কার্ড পাওয়া যাবে। এসব কার্ডে রিচার্জ করা যাবে মুটোফোন রিচার্জের মতো। 

মেট্রোরেলের প্লাটফর্মে প্রবেশের সময় এই কার্ড পাঞ্চ করতে হবে যাত্রীদের।  নাহলে প্লাটফর্মের দরজা খুলবে না। একইভাবে বের হবার সময়েও কার্ড পাঞ্চ করা বাধ্যতামূলক।  নাহলে প্লাটফরম থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। 

এছাড়া নিয়মিত কার্ডের বাইরে সাময়িক কার্ড কিনেও মেট্রোরেলে চড়া যাবে। তবে এই কার্ডও স্মার্ট কার্ডের মতোই। ভাড়ার অতিরিক্ত ভ্রমন করলে কার্ড দিয়ে দরজা খুলবে না। তখন দায়িত্বরত কর্মির কাছে অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করে তবেই বের হওয়া যাবে। 

দেশের প্রথম এই মেট্রোরেলের প্রতিটি ট্রেনে ছয়টি করে বগি থাকবে। এরমাঝে দুই প্রান্তের দুই বগির কিছু অংশে চালক থাকবেন। চালকের বাইরে এই দুই বগিতে বসতে পারবেন ৪৮ জন করে যাত্রী ।

ট্রেনের মাঝের চারটি বগিতে থাকবে ৫৬ টি করে আসন। সব মিলিয়ে একেকটি মেট্রোরেলে বসে যেতে পারবেন ৩০৬ জন যাত্রী। 

তবে মেট্রোরেলে দাড়িয়েও যাতায়াত করা যাবে। ট্রেনের দুই পাশে রয়েছে বসার আসন। আর মাঝখানের প্রশস্ত অংশে দাড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে হাতল এবং খুটি থাকবে ধরার জন্য। এভাবে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ যাত্রী ভ্রমন করতে পারবেন। 

মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।  প্রতিটি কোচের দুই প্রান্তে চারটি করে মোট আটটি দরজা রয়েছে।  এছাড়া দুই প্রান্তের কোচ দুটিতে  চারটি হুইলচেয়ার বসানোর ব্যবস্থা আছে। 

মেট্রোরেলের ট্রেন গুলো বিদ্যুৎ চালিত। এজন্য নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলের প্রতিটি সাবস্টেশনে বিকল্প ট্রান্সফরমার রাখা হচ্ছে, যাতে কখনো বিদ্যুৎ বিপর্যয় হলেও ট্রেন চলাচল করতে পারে। 

তবে এরপরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়লে ব্যাটারি ব্যাকআপ রয়েছে।  এর মাধ্যমে নিকটবর্তী স্টেশনে পৌছাতে পারবে মেট্রোরেল। 

মেট্রোরেলে চড়ার জন্য একমাত্র উপায় স্টেশন ভবন। তিনতলা বিশিষ্ট স্টেশনে উঠার জন্য প্রথমে লিফট, এস্কেলেটর অথবা সিড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠতে হবে।

 এখানে টিকেট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর ট্রেনে চড়ার জন্য যেতে হবে তৃতীয় তলায়। যেখানে একমাত্র টিকেট ধারী ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারবেন। 

প্লাটফর্মে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য  ট্রেনলাইনের পাশে বেড়া থাকবে। স্টেশনে ট্রেন থামার পর বেড়া ও ট্রেনের দরজা খুলবে একসাথে । আবার নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এগুলো। 





জনপ্রিয়