বাংলাদেশের উন্নয়ন
৬ মাসে পদ্মাসেতু থেকে কত টাকা টোল আদায় হলো
পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর মাত্র ৬ মাসে টোল আদায় হয়েছে প্রায় চারশো কোটি টাকা। টোল আদায় করে স্বপ্নের এই স্থাপনা মাইল ফলক তৈরি করেছে।
গত ২৫ জুন থেকে বছরের শেষ দিন পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৩৯৫ কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৫১ হাজার ৯১৭ টাকা।
এই ছয় মাসে যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯০টি। প্রতিদিন গড়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১৪ হাজার ৭১৮টি। এ সকল তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
গত ২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরদিন ২৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
স্বপ্নের সেতু খুলে দেয়ার পর এক নজর দেখার জন্য বহু মানুষের সমাগম হয়। ধারণার চেয়েও পদ্মা সেতুতে চলাচল করে বেশি যানবাহন।
সেতু চালুর ৬ দিন পর মাত্র একদিনে ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেতুতে যানবাহনের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
মাত্র এক মাসের মাথায় টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ কোটি টাকারও বেশি। মাত্র ৪১ দিনেই ১০০ কোটি টাকার টোল আদায় করে মাইলফলক স্পর্শ করে স্বপ্নের এ স্থাপনা। এখন ছয় মাসে এর পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
বর্তমানে পদ্মাসেতুতে যে পরিমাণ টোল আদায় করা হয়, পরবর্তীতে তা আরও বেড়ে যাবে। প্রতি ১৫ বছর পরপর টোল হার ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
সে হিসাবে ২০৫৩ সাল নাগাদ একটি প্রাইভেট কারের টোল দুই হাজার টাকার বেশি হবে। ২০৫০ সালে এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে ৬৬ হাজার ৮২৯টি।
বছরের শেষ সময়ে এসে, পদ্মাসেতুর টোল প্লাজার সামনে বসানো হয়েছে গাড়ির ওজন মাপার যন্ত্র।
জাজিরা প্রান্তের নাওডোবায় ও মুন্সিগঞ্জ প্রান্তের মাওয়ায় দুটি ওজন স্কেল প্লাজা স্থাপন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যান ঠেকাতে নেয়া হয়েছে এমন পদক্ষেপ
বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর সহ বিভিন্ন জেলার পণ্যবাহী গাড়ি পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছে।
কিন্তু নিয়ম হচ্ছে পদ্মা সেতুতে ২৭ টনের বেশি ওজনের যানবাহন পারাপার হতে পারবে না।
এত দিন ওজন মাপার যন্ত্র না থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা মানছিল না অনেকেই।
ডিসেম্বরে যন্ত্র প্রস্তুত হয়ে যাওয়াতে টোল প্লাজায় প্রবেশ করার আগে পণ্যবাহী গাড়িগুলো ওয়েট স্কেলে যাবে।
গাড়ির ওজন করার পর ২৭ টনের কম হলে সেগুলো আসবে টোল প্লাজার পাশে সবুজ জোনে। এরপর তা টোল প্রদান করে সেতু অতিক্রম করে।
আর যে গাড়ির ওজন বেশি হবে, তা রেড জোনে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই গাড়িগুলো টোল প্লাজার পেছনে স্টকইয়ার্ডে গিয়ে পণ্য নামিয়ে রেখে আবার ওয়েট স্কেলে আসতে পারবে।
তাছাড়া ৫.৭ মিটারের চেয়ে বেশি উচ্চতার মালবাহী কোনো গাড়িও সেতু পার হতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে ওজন মাপার যন্ত্র দুটি বসানোর কাজ করেছে।
ওজন স্কেল ছাড়াও সেতুর দুই প্রান্তে নজরদারি ও অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বসানো হয়েছে পিটিজেড কন্ট্রোল ক্যামেরা। এছাড়া সেতুর জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে আরও ৩৪টি ডোম ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
এগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত চারদিকে সমানভাবে ঘুরতে পারে। দুই পাড়ের টোল প্লাজার ভিতরে নিরাপত্তার জন্য ক্যাশ বুথ ও বিভিন্ন জায়গায় আরও ৩৪টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
পদ্মা সেতু এলাকায় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটলে সহজেই ক্যামেরায় তা ধরা পড়বে। দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সেটিও সহজেই শনাক্ত করতে পারবে এই ক্যামেরা।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)