বাংলাদেশের উন্নয়ন


ঢাকার যানযট কমাবে বৃত্তাকার রেলপথ, কিন্তু বাস্তবায়িত হবে কবে?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার

ঢাকার যানযট কমাবে বৃত্তাকার রেলপথ, কিন্তু বাস্তবায়িত হবে কবে?

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মানের চিন্তা করছে সরকার। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবে রুপ নিবে প্রকল্পটি।

বৃত্তাকার রেলপথের প্রথম স্টেশনটি হবে ,টঙ্গী ইজতেমা ময়দানকে কেন্দ্র করে। সেখান থেকে উত্তরা, মিরপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর ও সদরঘাট হয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত।

ফিরতি পথে আবার ডেমরা, ত্রিমোহনী, পূর্বাচল হয়ে রেলপথ মিলিত হবে ,টঙ্গীতে থাকা প্রথম স্টেশনের সাথে। 
সবমিলিয়ে পুরো পথের দৈর্ঘ্য হবে ৮১ কিলোমিটার। 

এরমধ্যে ভূপৃষ্ঠে কোন লাইন স্থাপন করা হবে না। ট্রেন চলাচল করবে উড়ালথ ও মাটির নিচ দিয়ে। এজন্য এলিভেটেড হবে ৭১ কিলোমিটার। বাকি ১০ কিলোমিটার লাইন যাবে মাটির নিচ দিয়ে।

যাত্রীদের উঠানামার জন্য থাকবে মোট ২৪টি অত্যাধুনিক স্টেশন। এরমধ্যে ২১টি মাটির উপরে থাকলেও, গাবতলী, কামরাঙ্গী চর এবং সদরঘাট এলাকার ৩টি স্টেশন হবে ভূগর্ভস্থ। 

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময়, এসব এলাকার ঘনবসতি, এবং অতিরিক্ত স্থাপনা থাকার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তাই উড়ালপথের পরিবর্তে, নির্মান করা হবে পাতালপথ।

যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করে তুলতে, ১১টি স্টেশন বানানো হবে বিশেষ ভাবে। এগুলোকে ২০৩৫ সালের মধ্যে, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট এবং একাধিক মেট্রোরেলের সাথে যুক্ত করা হবে।

এতে গড়ে উঠবে একটি মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম। ফলে যাত্রীরা এক জায়গা থেকে এসে, চাহিদা অনুযায়ী গনপরিবহন ব্যবহার করে, সহজে পৌছে যেতে পারবেন নিজ গন্তব্যে।

একটি স্টেশন থেকে আরেকটির গড় দূরত্ব হবে ৩ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার। সবগুলো স্টেশনে প্রতি তিন মিনিট পর পর থামবে ট্রেন। ডাবল লেন থাকায় পড়তে হবে না ক্রসিংয়ের ঝামেলায়।

পাথরবিহীন বৃত্তাকার রেলপথে, ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলবে ট্রেন। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে ২৪ ঘন্টাই চলাচল করবে সেগুলো।

প্রথম দিকে যাত্রী চাপ বিবেচনায়, দুইদিকে সর্বোচ্চ ১৮ জোড়া ট্রেন চালু করা হবে। বৃত্তাকার পথে চলাচলকারী সবগুলো ট্রেন ছুটে চলবে বৈদ্যুতিক শক্তিতে। তাই উত্তরা, কামরাঙ্গী চর এবং ডেমড়ায় নির্মান করা বিদ্যুতের সাবস্টেশন।

সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালে সার্কুলার ট্রেনে করে, প্রতিদিন যাতায়াত করবে প্রায় ১১ লাখ মানুষ। অপরদিকে ২০৫৫ সালে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫ লাখ ৭৫ হাজারে। 

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যাত্রীচাপ থাকবে গাবতলীতে। সেজন্য একে ঘিরে নেয়া হয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। এই এলাকায় থাকা সার্কুলার রেলওয়ে স্টেশনের সাথে যুক্ত করা হবে, মেট্রোরেল ২ ও ৫ এর স্টেশন।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে, ৭১ হাজার ৭১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। রেলপথের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী সবমিলিয়ে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে ৮৮৬ কোটি টাকা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মতো নগরীতে, এত অল্প খরচে এমন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তাই কাজ শুরুর পর, স্বাভাবিকভাবেই ব্যয়ের পরিমান আরো অনেক বেড়ে যাবে।

প্রাইভেট ও পার্টনারশিপ ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কোরিয়া। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলেই, শুরু হবে মূল অবকাঠামোর কাজ। এতে মোট ৪ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে।

তবে বৃত্তাকার রেলপথ কারা নির্মান করবে, সেটি নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। 
মহানগরকেন্দ্রিক হওয়ায়, এটি বাংলাদেশ রেলওয়ে নির্মাণ করবে, নাকি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ নির্মাণের দায়িত্বে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

একই সাথে সৃষ্টি হতে পারে আইনি জটিলতা। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী “নূরুল ইসলাম সুজন” জানিয়েছে, সকল জটিলতা নিরসনের পরেই, চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে বসতে হবে আলোচনার টেবিলে।

অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনাটি আটকে আছে কাগজ- কলমের মধ্যে।
 বৃত্তাকার রেলপথ হলে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল সহজ হবে। 
তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছে সাধারণ জনগন।




জনপ্রিয়