বাংলাদেশের উন্নয়ন
দেশের প্রথম তিন মাথাওয়ালা সেতু যুক্ত করেছে তিনটি উপজেলাকে
যে কোন সেতুতে দুটি প্রান্ত থাকলেও, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেখা মিলবে ব্যাতিক্রমী এক ব্রিজের। যার তিনটি প্রান্ত চলে গেছে ভিন্ন তিন দিকে।
ফলে এক সেতুর মাধ্যমেই যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে, দুই জেলার তিনটি উপজেলার মধ্যে।
দেশের প্রথম "ওয়াই" আকৃতির এই ব্রিজের অবস্থান ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়।
নির্মানের সময় এশিয়ার সবচেয়ে বড় "Y" সেতু ছিল এটি। ৭৭১ দশমিক ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই স্থাপনার একদিকে রয়েছে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর। অপর দুটি প্রান্ত চলে গেছে কুমিল্লার হোমনা এবং মুরাদনগর উপজেলায়।
ফলে এক সেতুর মাধ্যমে সহজেই যোগাযোগ করতে পারছে তিনটি ভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছিলেন এটি।
তিতাস ও তার দুই শাখা নদীর মোহনায় নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ওয়াই আকৃতির সেতু। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম।
গাড়ি চলাচলের জন্য ৩টি লিংক আছে এতে।
যানবাহন যাতে সহজে টার্ন নিতে পারে, সেজন্য মাঝে ১টি প্রশস্ত গোল চত্বর রয়েছে।
পাশাপাশি নির্মাণ শৈলীর দিক থেকেও এটি অনন্য। সাধারণত সেতুর ২টি প্রান্ত থাকে, কিন্তু বিশেষ এই সেতুটির প্রান্ত ৩টি।
৭৭১ দশমিক ২০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট, দৃষ্টিনন্দন এই সেতুর প্রস্থ ৮ দশমিক ১০ মিটার। ২৫টি বেস এবং ৩০২ টি পাইলের উপর দাড়িয়ে আছে এটি।
পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১০০ কোটি টাকার বেশি। এরমধ্যে মূল সেতুর নির্মান খরচ ৮০ কোটি টাকা।
এছাড়া সংযোগ সড়ক নির্মাণে ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং জমি অধিগ্রহণে আরো সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ ও চীনের জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান ডব্লিউএম সিজি- নাভানা।
২০১১ সালে শুরু হওয়া নির্মানকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালে। তবে নানা জটিলতায় সেটি আর সম্ভব হয়নি।
দুই দফা সময় বাড়ানোর পর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, যানচলাচল উপযোগী করে তুলতে সময় লেগেছে, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
ওয়াই ব্রিজ নামে পরিচিতি পেলেও, এর আসল নাম শেখ হাসিনা-তিতাস সেতু। স্থাপনাটির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে।
আশেপাশের এলাকার ১০ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের মূল ভরসা হয়ে উঠেছে এটি। সেই সাথে সেতুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ব্রিজ নির্মানের আগে বাঞ্ছারামপুর থেকে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর এবং হোমনা যাওয়ার জন্য, খেয়া এবং নৌকায় করে তিতাস নদী পাড়ি দিতে হতো।
এতে বেশকিছু সময় পথেই নষ্ট হতো। ফলে রোগী থেকে শুরু করে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছিল সীমাহীন।
কিন্তু সেতুর মাধ্যমে এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই, তারা চলে যেতে পারছে এক জেলা থেকে অন্য জেলায়।
ঢাকার সাথে যোগাযোগও সহজ হয়েছে এই অঞ্চলের মানুষের। রাজধানীতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় কমেছে দুই থেকে তিন ঘন্টা।
শুধু তাই নয়, ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাচ্ছে একে। এতে আন্তঃ বিভাগীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর ত্রিমোহনাটি এমনিতেই নান্দনিক। সেতু নির্মানের ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি, মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্রেও যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।
দৃষ্টিনন্দন ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে, প্রতিদিন এখানে হাজির হয় অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে যা বেড়ে যায় কয়েক গুন।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)