বাংলাদেশের উন্নয়ন
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যেসব সুবিধা পাবেন যাত্রীরা
দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ।
নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে, কয়েকটি শিফট ভাগ হয়ে দিনরাত ২৪ ঘন্টা ইয়ার্ডে কাজ করছেন দেশি বিদেশি প্রকৌশলী আর শ্রমিকরা।
মাত্র কয়েক মাসেই এখন দৃশ্যমান প্রকল্পের পুরো অবকাঠামো। দেশে অত্যাধুনিক বিমানবন্দরের স্বপ্ন এখন পুরোটাই বাস্তব।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক বিমানবন্দরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের।
এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল ভবন এখন পুরোটাই দৃশ্যমান। নির্মাণ কাজ শেষ হলে চলতি বছরের অক্টোবরেই উদ্বোধন হবে আংশিক অংশ।
প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল থেকে, বছরে প্রায় দুই কোটি যাত্রী সেবা পাবেন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন তলাবিশিষ্ট তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য থাকছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা।
উন্নত বিশ্বের বিমানবন্দরের মতোই অত্যাধুনিক সব নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার করা হবে এ স্থাপনায়।
থাকবে অত্যাধুনিক লাউঞ্জ, চেক ইন কাউন্টার, গমন ও আগমনী কাউন্টার, স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টার, দোকান, রেস্টুরেন্ট, শপিং মলসহ অন্যান্য সুবিধা।
টার্মিনালে ঢুকেই যাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে না হয়, সে জন্য থাকছে ১১৫টি চেক ইন কাউন্টার। এর মধ্যে থাকবে ১৫টি সেলফ সার্ভিস চেক-ইন কাউন্টার।
সাধারণত বিমানবন্দরে ঢুকে একজন যাত্রী চেক-ইন কাউন্টারে গিয়ে, তার টিকিট দেখিয়ে বোর্ডিং পাস নেন এবং ব্যাগেজ জমা দেন।
তবে অত্যাধুনিক এ টার্মিনাল ভবনে থাকবে ১০টি সেলফ চেক-ইন কিওস্ক। এগুলোতে নিজের পাসপোর্ট এবং টিকিটের তথ্য প্রবেশ করালে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে বোর্ডিং পাস ও সিট নম্বর।
এরপর নির্ধারিত জায়গায় যাত্রী তার লাগেজ রেখে দেবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাগেজগুলো এয়ারক্রাফটের নির্ধারিত স্থানে চলে যাবে।
চেক ইন পর্ব শেষ করা হলেই ইমিগ্রেশন। ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ, ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে ৬৬টি।
এতে করে যাত্রীরা ইমিগ্রেশন পুলিশের মুখোমুখি না হয়ে, সরাসরি নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সেরে ফেলতে পারবেন।
তৃতীয় টার্মিনালে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ। যেটি সংযুক্ত থাকবে উড়োজাহাজের সঙ্গে।
লাগেজ বা ব্যাগ টানার জন্য নির্মাণ করা হবে ১৬টি কনভেয়ার বেল্ট। অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য থাকবে চারটি পৃথক বেল্ট।
বর্তমানে ২৯টি অ্যাপ্রোন পার্কের সুবিধা আছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তৃতীয় টার্মিনালে মোট ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিং থাকবে। অর্থাৎ এক সঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করতে পারবে।
এছাড়া শাহজালাল বিমানবন্দরে এখন চারটি ট্যাক্সিওয়ে আছে। নতুন করে আরও দুটি ট্যাক্সিওয়ে যোগ হচ্ছে।
রানওয়েতে উড়োজাহাজকে যাতে বেশিক্ষণ থাকতে না হয়, সে জন্য নতুন দুটি হাই স্পিড ট্যাক্সিওয়ে তৈরি করা হচ্ছে।
এ ছাড়াও থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তিনতলা ভবন। নান্দনিক ও চোখ ধাঁধাঁনো নকশায় এর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে।
থার্ড টার্মিনাল ভবনের সঙ্গে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গপথ ও উড়াল সেতু নির্মাণ করা হবে, যা মেট্রোরেল লাইন-১ ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।
এতে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা। থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের প্রথম ধাপের সঙ্গে, বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর আন্ত:যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে না।
তবে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে কানেকটিং করিডরের মাধ্যমে, পুরনো টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। বর্তমানে চালু ভিভিআইপি কমপ্লেক্সটি ভেঙে ফেলা হবে।
তৃতীয় টার্মিনালে স্বতন্ত্র কোনো ভিভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে না। তবে টার্মিনাল ভবনের ভিতরে দক্ষিণ পাশে, সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভিভিআইপিদের সময় কাটানোর জন্য থাকবে পৃথক জায়গা।
সব মিলিয়ে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে চলছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। এটি চালু হলে বদলে যাবে দেশের প্রধান এ বিমানবন্দরের যাত্রী সেবার মান।
এর সাথে প্রথম দেখায় সিঙ্গাপুরের চাঙ্গী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভেবেও ভুল করতে পারেন অনেকেই।
২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। বিমানবন্দরের মূল টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে, ২১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সুপরিসর তৃতীয় টার্মিনাল। এই অর্থের একটি অংশ প্রকল্প সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে জাইকা।
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)