বাংলাদেশের উন্নয়ন


২০২৬ সালের মধ্যে পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে বাংলাদেশ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার

২০২৬ সালের মধ্যে পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে বাংলাদেশ

একদিকে চলমান মেগা সব প্রকল্প! অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের চাপ! ২০২৬ সাল হতে চলেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বছর! 

কারণ ২০২৬ সালেই সল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের মাইলফলকে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ! 

দক্ষিণ এশিয়ার টাইগার খ্যাত বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে আগামী ৫ বছরের সমীকরণের ওপর! 

অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধরে রাখা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থসামাজিক অবস্থার অগ্রগতি ও টেকসই পরিস্থিতি ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। 

বর্তমানে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.২% যা সামনের বছর গুলোতে আরও বাড়তেই থাকবে। 

বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা বজায় থাকলে আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার গিয়ে ঠেকবে ৬.২ শতাংশে। 

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে দেশে কিছু মেগা প্রকল্প চালু হয়ে গেছে। সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। 

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। 
অল্প সময়েই পন্য পরিবহন সম্ভব হওয়ায়, দক্ষিণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে। 

ইতোমধ্যেই ঢাকায় আংশিকভাবে চালু হয়েছে মেট্রোরেল। পুরোপুরি চালু হলে পুরো ঢাকা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্রই পাল্টে যাবে। 
সেই সাথে বাঁচবে কর্মঘন্টাও, যা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে। 

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কর্ণফূলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত হয়েছে, ৩.৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর  “বঙ্গবন্ধু টানেল” ,যা আগামী মার্চেই খুলে দিতে চলেছে সরকার। 

বাংলাদেশকে অবকাঠামোগতভাবে আরও শক্তিশালী করতে, আরও অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, যা আগামী কয়েকবছরের মধ্যেই শেষ হবে। 

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে হাই স্পিড প্রকল্পের কাজও খুব শীঘ্রই হাতে নেওয়া হবে । ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ তৈরিতে খরচ হবে ১১ বিলিয়ন ডলার। 
এ প্রকল্প চালু হলে ঢাকা থেকে চট্টগাম পৌঁছানো যাবে মাত্র ৫৫ মিনিটে। 

এরই মধ্যে যমুনা সেতুর পাশ দিয়ে, নতুন বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর কাজও, ৫৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। 
৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এই রেল সেতু, ২০২৪ সালের মধ্যেই ট্রেন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। 

এ ছাড়াও মাতারবাড়ি কয়েল পাওয়ার প্ল্যান্ট,  পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর,  রুপপুর পারমাণবিক পাওয়ার প্ল্যান্ট,  চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রকল্প, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প গুলো , আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে শেষ হবে। 

এসব মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের অধিকাংশই এসেছে বৈদেশিক ঋণ থেকে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেক্ষেত্রে এসব ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ কতোটা প্রস্তুত? 

আগামী বছর শেষে বাংলাদেশের বিদেশী ঋণের পরিমাণ ১১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর ২০২৪ সালের শেষ দিকে এসে বিদেশী ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩০ বিলিয়ন ডলারে। 

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ে করা এক পর্যবেক্ষণে, সরকারি-বেসরকারি খাতের বিদেশী ঋণ নিয়ে এ পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে সুদসহ দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। 

গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বাংলাদেশকে দ্বিগুণ বিদেশী ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
 ২০২২ সাল শেষে বিদেশী ঋণ পরিশোধের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। 

এর মধ্যে দেশের বেসরকারি খাতকে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে সরকার। 

তবে আগামী দুই বছর বিদেশী ঋণ পরিশোধের চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এ সময়েও প্রতি বছর সুদসহ ২০ বিলিয়ন ডলার বিদেশী ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। 
এসব ঋণ পরিশোধ তখনই সম্ভব যখন আমাদের মেগা প্রকল্পগুলোর সুফল সঠিকভাবে আসবে। 

এর মধ্যে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে তাহলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই ধ্বসে পড়বে। 

পাশাপাশি দেশীয় অর্থনীতিতে টাকার মানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে, বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে টাকাকে শক্তিশালী করতে রপ্তানি বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্সের ২য় কোনো বিকল্প আমাদের সামনে নেই। 

বর্তমান ডলার সংকটে, ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে এলসি। 
যদি এমনটা চলতে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহেই, বাংলাদেশ যেকোনো সময়ের চেয়ে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। 

আর এই ঝুঁকি কাটিয়ে একবার উতরে যেতে পারলেই পূর্ণ হতে পারে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন! 





জনপ্রিয়